প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

1 day ago 6

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানাও দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর সংস্পর্শে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এই স্থান উপযুক্ত। ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটে আসে এই চিড়িয়াখানায়।

ঈদের ছুটিতে মিরপুর চিড়িয়াখানার প্রবেশপথেই চোখে পড়ে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। ৫০ টাকার টিকিট সংগ্রহের জন্য লম্বা লাইন, শিশুদের উচ্ছ্বাস, ক্যামেরা হাতে ছবি তোলা মানুষের ব্যস্ততা—এসব দৃশ্য চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখেই ঈদের বিশেষ আনন্দের ছোঁয়া এনে দেয়। প্রবেশের পরেই চোখে পড়ে সবুজে ঘেরা প্রশস্ত পথ, যেখানে দর্শনার্থীরা ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রাণীর আশ্রয়স্থলের দিকে এগিয়ে যায়।

প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

জাতীয় চিড়িয়াখানার প্রাণিসম্পদ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। প্রথমেই দেখা মেলে বিশালাকার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাঘের অলসভাবে বিশ্রাম নেওয়া কিংবা হঠাৎ গর্জন। সিংহের কক্ষেও এমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সিংহের গর্জন ও তার চেহারার রাজকীয় ভাব দর্শকদের মুগ্ধ করে।

হাতির বিশাল আকৃতি ও শান্ত স্বভাব দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। অনেকেই হাতির খাবার খাওয়ার দৃশ্য উপভোগ করেন। জিরাফের লম্বা গলায় পাতার খোঁজ করা, জেব্রার দৌড়ঝাঁপ আর হরিণের চঞ্চলতা মন কেড়ে নেয়। গণ্ডারের মতো ভারী প্রাণীদের গম্ভীর চলাফেরা ও বিশ্রামের দৃশ্যও দর্শকদের আকর্ষণ করে।

প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে শিম্পাঞ্জি ও বানর। এদের হাস্যরসাত্মক ভঙ্গি, খাবার খাওয়ার ধরন, একে অপরের সঙ্গে খুনসুটি—এসব মুহূর্ত দর্শনার্থীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। শিম্পাঞ্জির নকল করার স্বভাব বিশেষ করে শিশুদের বেশ মুগ্ধ করে।

পাখির খাঁচাগুলোর সামনেও দর্শনার্থীদের প্রচুর ভিড় থাকে। ময়ূরের পেখম মেলা, মানুষের হাতে ইমু পাখির বাদাম খাওয়া, বাজপাখির তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, সাদা কাক সব মিলিয়ে পাখির গ্যালারি একটি স্বতন্ত্র আনন্দের স্থান হয়ে ওঠে।

চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ বিশাল সরীসৃপ গ্যালারি। এখানে অজগর সাপের কুণ্ডলী পাকানো বিশাল দেহ, কুমিরের স্থির দৃষ্টি আর ধীরগতির চলাফেরা দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের রোমাঞ্চ সৃষ্টি করে।

প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানার পরিবেশ একেবারেই ভিন্ন হয়ে ওঠে। সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হয়, ফলে পুরো এলাকা জীবন্ত হয়ে ওঠে। এছাড়াও দৃষ্টিনন্দন লেক দুটি দেয় মানসিক প্রশান্তি। অনেকেই পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসেন, এবং খোলা মাঠে পিকনিকের আমেজ তৈরি হয়।

চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে খাবার ও পানীয় বিক্রির স্টলগুলোও ব্যস্ত থাকে। দর্শনার্থীরা আইসক্রিম, ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি ও ঠান্ডা পানীয় উপভোগ করেন। শিশুদের জন্য এখানেও রয়েছে শিশুপার্ক। বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা থাকায় তারা বাড়তি আনন্দ পায়।

প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

বেশি দর্শনার্থীর কারণে ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দেয়। প্রধানত টিকিট সংগ্রহের দীর্ঘ লাইন ও অভ্যন্তরীণ ভিড় কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। অনেক সময় পরিচ্ছন্নতা রক্ষার ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা দেখা যায়, কারণ দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকে যেখানে-সেখানে খাবারের প্যাকেট ও প্লাস্টিক ফেলে রাখেন।

ভ্রমণ আরও উপভোগ্য করতে হলে, সকাল সকাল যাওয়া ভালো। পানির বোতল ও হালকা খাবার সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত, কারণ ভিড়ের মাঝে তাদের হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

প্রাণীদের রাজ্যে একদিন

ঈদের ছুটিতে মিরপুর চিড়িয়াখানায় ভ্রমণ সত্যিই একটি দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রাণীদের কাছ থেকে শেখার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ এখানে পাওয়া যায়। ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে জাতীয় চিড়িয়াখানা নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা গন্তব্য হতে পারে। যারা এখানে আসতে চান, তারা রাজধানীর যেকোনো প্রান্ত থেকে মিরপুর-১ গামী বাসে করে সহজেই এই প্রাণীদের রাজ্যে পৌঁছাতে পারেন।

জেএস/এএসএম

Read Entire Article