প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান আটকা, অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ‌‘তড়িঘড়ি’ আবেদন ও লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি। এ নিয়ে হতাশ সুপারিশপ্রাপ্তরা। তারা বলছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের যোগদান না হওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। গোপনে ভেরিফিকেশন চালানোসহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোয় আতঙ্কিত তারা। যোগদান আটকে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের হতাশা ও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে দ্রুত তাদের যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে তারা এ স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং এরপর তারা মেডিকেলসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বহু প্রার্থী আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ

প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান আটকা, অনিশ্চয়তায় প্রার্থীরা

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ‌‘তড়িঘড়ি’ আবেদন ও লিখিত-মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজারেরও বেশি প্রার্থীকে চূড়ান্ত সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও তাদের যোগদান করানো হয়নি। এ নিয়ে হতাশ সুপারিশপ্রাপ্তরা।

তারা বলছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়ে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তাদের যোগদান না হওয়ায় এখন চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। গোপনে ভেরিফিকেশন চালানোসহ বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোয় আতঙ্কিত তারা।

যোগদান আটকে থাকা প্রার্থীরা নিজেদের হতাশা ও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়ে দ্রুত তাদের যোগদানের ব্যবস্থা করার দাবিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে তারা এ স্মারকলিপি দেন।

স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং এরপর তারা মেডিকেলসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বহু প্রার্থী আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ আগের চাকরি থেকে পদত্যাগ করে বর্তমানে বেকার অবস্থায় রয়েছেন। আবার অনেক প্রার্থীর বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প কোনো সরকারি চাকরির সুযোগও নেই।

প্রার্থীরা জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের যোগদান প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া উদ্বেগজনক। এতে করে শুধু প্রার্থীরাই নয়, সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

আরও পড়ুন
৫ বছর পর পূর্ণ সিলেবাস, সময় স্বল্পতায় প্রস্তুতির ঘাটতি 
১৬ বছর পর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু বুধবার, মানতে হবে যে নির্দেশনা 

স্মারকলিপিতে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ও ফলপ্রসূ শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক অত্যন্ত জরুরি। তাই আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিষয়টি মানবিক ও জরুরি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সহকারী শিক্ষক (২০২৫) ব্যাচের সব সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। তাতে জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে অধিদপ্তর।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যোগদানের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন ও ডোপ টেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এছাড়া ১ মার্চের মধ্যে পরিচিতি প্রতিপাদন ও সব ডকুমেন্টস যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ (সব সনদের মূলকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জনের দেওয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদসহ) সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়। এসব নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তারপরও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।

এএএইচ/কেএসআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow