প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ‘ফ্যাক্টর’ আওয়ামী লীগ ও নারী ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যমুনা পাড়ের সিরাজগঞ্জে চলছে রাজনৈতিক মাঠের হিসাব-নিকাশ। তবে জেলার ছয়টি আসনেই জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারেন আওয়ামী লীগ ও নারী ভোটাররা। জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটারের কমপক্ষে ৪০ শতাংশই তাদের বলে দাবি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। কৃষি ও মৎস্য, তাঁতশিল্প, দুগ্ধ উৎপাদন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা এ জেলার অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র। আর এই অর্থনীতিতে দিনদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জেলার নারীরা। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে সবখানেই নারীদের সক্রিয় উপস্থিতির দেখা মেলে এ জেলায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি আসনে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। যার ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশই নারী। এসব নারী ভোটারের প্রত্যাশা, দাবি আর সিদ্ধান্তই ঘুরিয়ে দিতে পারে নির্বাচনের ফলাফল। শুধু তাই নয়, এবার ব্যালটে নৌকা প্রতীক না থাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটও প্রার্থীদের বড় ভাগ্য নিয়ামক। ফলে জেলার ছয়টি আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিকল্প প্রার্থীও খুঁজছেন। তারা বলছেন, এককভাবে কোনো দলই

প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ‘ফ্যাক্টর’ আওয়ামী লীগ ও নারী ভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যমুনা পাড়ের সিরাজগঞ্জে চলছে রাজনৈতিক মাঠের হিসাব-নিকাশ। তবে জেলার ছয়টি আসনেই জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়াতে পারেন আওয়ামী লীগ ও নারী ভোটাররা। জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটারের কমপক্ষে ৪০ শতাংশই তাদের বলে দাবি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের।

কৃষি ও মৎস্য, তাঁতশিল্প, দুগ্ধ উৎপাদন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা এ জেলার অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র। আর এই অর্থনীতিতে দিনদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন জেলার নারীরা। শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে সবখানেই নারীদের সক্রিয় উপস্থিতির দেখা মেলে এ জেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি আসনে নারী-পুরুষ মিলে মোট ভোটার ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন। যার ৪৯ দশমিক ৫১ শতাংশই নারী। এসব নারী ভোটারের প্রত্যাশা, দাবি আর সিদ্ধান্তই ঘুরিয়ে দিতে পারে নির্বাচনের ফলাফল। শুধু তাই নয়, এবার ব্যালটে নৌকা প্রতীক না থাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভোটও প্রার্থীদের বড় ভাগ্য নিয়ামক। ফলে জেলার ছয়টি আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিকল্প প্রার্থীও খুঁজছেন। তারা বলছেন, এককভাবে কোনো দলই আওয়ামী লীগের ভোট পাবে না। আসন ও প্রার্থীভেদে কর্মী-সমর্থকদের ভোট ভাগ হয়ে যাবে। এতে ছয়টি আসনেই অতীতের ফলাফল পালটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জামায়াত ও জোটের প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও আওয়ামী ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার আওয়ামী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার নারী ভোটাররা চান নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সম্মানজনক জীবন আর ন্যায্য সুযোগ। কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য দূর, সহজ শর্তে ঋণ এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলে আরও বেশি নারী স্বাবলম্বী হতে পারবেন বলে জানান তারা।

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী দাবি করেন, জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটারের কমপক্ষে ৪০ শতাংশই তাদের। কমিয়ে যদি ৩৫ শতাংশ ধরা হয়, তাতেও প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ভোটার কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারলে অনেক কেন্দ্রের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনরা তাদের সিদ্ধান্তেই ভোট দেবেন।

নারী ভোটারদের প্রত্যাশা নিয়ে কথা হয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক লায়লা ফেরদৌস হিমেলের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘একজন নারী ভোটার হিসেবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে এখনো শঙ্কায় রয়েছি। যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় এবং নারীরা যদি উৎফুল্ল ও আনন্দ চিত্তে ভোট দিতে পারে, তাহলে হয়তো এবার নারীরা তাদের সাফল্য কিছুটা হলেও দেখতে পাবেন।’

এসআর/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow