‘প্রেমের ফাঁদে’ ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ;  মা-স্ত্রীসহ নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের। এবার প্রেমের অভিনয় করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে আইনি প্যাঁচে পড়লেন তিনি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নোবেল, তার মা ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এই আদেশ দেন। মামলার বাদী আনানিয়া শবনম রোজ অভিযোগ করেছেন, গায়ক নোবেল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখান। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নোবেল তার কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, টাকা আত্মসাতের এই প্রক্রিয়ায় নোবেলের পরিবারের সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করেছেন। আদালত যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তারা হলেন—গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং প

‘প্রেমের ফাঁদে’ ১৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ;  মা-স্ত্রীসহ নোবেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের। এবার প্রেমের অভিনয় করে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে আইনি প্যাঁচে পড়লেন তিনি। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে নোবেল, তার মা ও স্ত্রীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এই আদেশ দেন।

মামলার বাদী আনানিয়া শবনম রোজ অভিযোগ করেছেন, গায়ক নোবেল তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখান। এই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নোবেল তার কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা নেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সাজিদুল ইসলাম জানান, টাকা আত্মসাতের এই প্রক্রিয়ায় নোবেলের পরিবারের সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করেছেন।

আদালত যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন তারা হলেন—গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল, তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।

২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলে বিচারক পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআইয়ের এসআই নুরুজ্জামান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বাদীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সোমবার মামলার ধার্য দিনে বাদীপক্ষ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

নোবেলের পক্ষ থেকে ‘গুজব’ দাবি এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নোবেলের এক সহকারী প্রথমে পুরো ঘটনাটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দেন। পরে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানানো হয়, নোবেল রিহার্সেলে ব্যস্ত আছেন এবং কথা বলতে হলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে জেল খেটেছেন এই গায়ক। ‘ধর্ষণ ও মারধর’-এর অভিযোগে ডেমরা থানার একটি মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরে কারাগারে বসেই ওই মামলার বাদীকে বিয়ে করেন এবং ২৪ জুন জামিন পান। নতুন করে অর্থ আত্মসাতের এই মামলায় নোবেল ও তার পরিবার বড়সড় আইনি জটিলতার মুখে পড়ল বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow