­ফজিলত ও আমল

আল্লাহর মাস আরবি ১২ মাসের মধ্যে কেবল মহররমকেই আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর মাস হলো মহররম’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)। মহররমকে আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করাটা এ মাসের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। আরবি মাসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান। এর পরেই মহররম মাসের অবস্থান। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মধ্যভাগ হলো রাতের উত্তম সময়। আর আল্লাহর মাস যাকে তোমরা মহররম বলে ডাকো, তা হলো উত্তম মাস।’ (সুনানে কোবরা, হাদিস : ৪২১৬) মহররমের রোজা রমজান হলো ফরজ রোজার মাস। নফল রোজার সর্বোত্তম মাস হলো মহররম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম হলো শেষ রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩) আশুরার ফজিলত মহররম মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যা অনেক তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ। দিনটি হলো মহররমের ১০ তারিখ, যাকে আশুরা বলা

­ফজিলত ও আমল

আল্লাহর মাস

আরবি ১২ মাসের মধ্যে কেবল মহররমকেই আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর মাস হলো মহররম’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)। মহররমকে আল্লাহর মাস বলে আখ্যায়িত করাটা এ মাসের বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। আরবি মাসগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান। এর পরেই মহররম মাসের অবস্থান। হজরত আবু জর গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মধ্যভাগ হলো রাতের উত্তম সময়। আর আল্লাহর মাস যাকে তোমরা মহররম বলে ডাকো, তা হলো উত্তম মাস।’ (সুনানে কোবরা, হাদিস : ৪২১৬)

মহররমের রোজা

রমজান হলো ফরজ রোজার মাস। নফল রোজার সর্বোত্তম মাস হলো মহররম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বোত্তম হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম হলো শেষ রাতের (তাহাজ্জুদ) নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)

আশুরার ফজিলত

মহররম মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এ মাসে এমন একটি দিন রয়েছে, যা অনেক তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ। দিনটি হলো মহররমের ১০ তারিখ, যাকে আশুরা বলা হয়। ঐতিহাসিকভাবেই আশুরার দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে এ দিনে উল্লেখযোগ্য অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যেমন, এ দিন আল্লাহ তায়ালা হজরত মুসাকে (আ.) অভিশপ্ত ফেরাউন ও তার বাহিনী থেকে রক্ষা করেছিলেন। মহাপ্লাবনের পর হজরত নুহ (আ.) এর কিশতি জুদি পাহাড়ে থেমেছিল আশুরার দিনেই। মহররমের ১০ তারিখে হজরত আদমের (আ.) তওবা কবুল হওয়া এবং হজরত ইবরাহিমের (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টাও কোনো কোনো বর্ণনায় পাওয়া যায়।

আশুরার আমল

মহররমের ১০ তারিখ অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ বিধায় এ দিনের ইবাদতও আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। হজরত আবদল্লাহ ইবনে আব্বাসকে (রা.) আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এ দিন ব্যতীত অন্য কোনো দিনকে শ্রেষ্ঠ মনে করে রাসুলুল্লাহ (সা.) রোজা রেখেছেন বলে আমার জানা নেই।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৩২)। এ দিনের সবিশেষ দুটি আমল নিম্নরূপ।

আশুরার রোজা

ইসলামের প্রাথমিক যুগে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এ দিন রোজা পালন করতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘জাহেলি যুগের লোকেরা এ দিন রোজা রাখত। রাসুলুল্লাহও (সা.) এ দিন রোজা রাখতেন। হিজরত করে মদিনায় আসার পরও তিনি এ দিন রোজা রাখতেন এবং অন্যদের রোজা রাখার আদেশ করতেন। পরে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা রাখা পরিত্যাগ করলেন। এরপর যার ইচ্ছা এ দিন রোজা রাখত, যার ইচ্ছা রাখত না।’ (সহিহ বোখারি, হাদিস : ২০০২)। এ দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও রোজা রাখতেন, অন্যদেরও তা রাখতে আদেশ করতেন। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি তুমি রমজানের পর অন্য কোনো মাসে রোজা রাখতে চাও, তা হলে মহররমের রোজা রাখো।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৫১)। সাহাবায়ে কেরাম এ দিন রোজা রাখতেন এবং তাদের ছোট সন্তানদেরও রোজা পালনে উদ্বুদ্ধ করতেন। হাদিস শরিফে হজরত রুবাইয়ি বিনতে মুআব্বিজ ইবনে আফরা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, ‘আশুরার দিন আমরা রোজা রাখতাম এবং আমাদের ছোট সন্তানদেরও রোজা রাখতে অভ্যস্ত করে তুলতাম।’ (সহিহ বোখারি, হাদিস : ১৯৬০)

তওবা ও ইস্তিগফার

এ দিনের বিশেষ আরেকটি আমল হলো তওবা ও ইস্তিগফার। এ দিন আল্লাহ তায়ালা অনেকের তওবা কবুল করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এ দিন (আশুরা) আল্লাহ তায়ালা অনেকের তওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অনেক মানুষের তওবা কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৫১)

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow