ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর ন্যায্য স্থানে স্থাপনের দাবি

চট্টগ্রামের আয়তনে বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে নতুন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা অনুমোদনের পর এর উপজেলা সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা। দাবি উপেক্ষা করে অন্যত্র সদর স্থাপন করা হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলায় দুটি থানা (ফটিকছড়ি ও ভূজপুর), দুটি পৌরসভা (ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট) এবং ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রায় সাত লাখ জনসংখ্যার এই বৃহৎ উপজেলাকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করা দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান। বক্তারা জানান, গত ১ জুলাই সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর অনুমোদন পায়। তাদের দাবি, নতুন উপজেলার সদর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর ন্যায্য স্থানে স্থাপনের দাবি

চট্টগ্রামের আয়তনে বৃহত্তম উপজেলা ফটিকছড়িকে বিভক্ত করে নতুন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা অনুমোদনের পর এর উপজেলা সদর নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা। দাবি উপেক্ষা করে অন্যত্র সদর স্থাপন করা হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ‘উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলায় দুটি থানা (ফটিকছড়ি ও ভূজপুর), দুটি পৌরসভা (ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট) এবং ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রায় সাত লাখ জনসংখ্যার এই বৃহৎ উপজেলাকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করা দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানান।

বক্তারা জানান, গত ১ জুলাই সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় দেশের ৫০১তম উপজেলা হিসেবে ফটিকছড়ি উত্তর অনুমোদন পায়।

তাদের দাবি, নতুন উপজেলার সদর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে, যাতে উত্তরাঞ্চলের সব ইউনিয়নের মানুষ সহজে প্রশাসনিক সেবা নিতে পারেন। এ কারণে নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানকে সবচেয়ে যৌক্তিক বলে তারা মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভূজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বক্তাদের মতে, দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভূজপুর উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়। বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভূজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভূজপুরে সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত হবে না।

তারা আরও জানান, ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার। এ অঞ্চলে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া এক লাখ ভোটার রয়েছেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ বিবেচনায় গণশুনানির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য ও কেন্দ্রীয় স্থানে উপজেলা সদর নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকেট শাজাহান সিরাজ, কায়ছার হামিদ, মো. ওসমান গণি মজুমদার, রফিকুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, মো. আবদুল জব্বার, আহমদ খালেদুল আনোয়ার, মাওলানা আবদুস সাত্তারসহ উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজের নেতারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow