ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ নাটোরের আম চাষিরা

নাটোরে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমের বাজার দর কম থাকায় তেমন লাভ করতে পারছেন না আম চাষিরা। অনেক বাগান ক্রেতা পড়েছেন লোকসানে। নাটোরে এবার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। এই আমের বাজারমূল্য প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে নাটোরে সব ধরনের গুটি আম পাড়া শুরু করেছেন বাগান মালিক ও চাষিরা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন নানা জাতের আমে বাজার পরিপূর্ণ। গুটি জাতের আমের ভেতরে আটির কালুয়া ৪০ টাকা ও ৫০ টাকা এবং অন্যান্য জাতের আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন কালুয়া জাতের আম শেষ পর্যায়ে। বাজারে এসেছে খেরসাপাতি আম। খেরসাপাতি ও ল্যাংড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা রিন্টু জানালেন, তিনি ৫০ টাকা কেজি দরে খেরসাপাতি আম কিনেছেন। আমগুলো খেতে সুস্বাদু এবং সাইজও ছোট নয়। তিনি আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো। আমের দাম কিছুটা হলেও কম। নাটোর এলাকার বাসিন্দা আম চাষি পলাশ খান বলেন, ‘তার বাগানে সব ধরনের আম গাছ রয়েছে। অনুকূল আব

ফলন ভালো হলেও দাম নিয়ে হতাশ নাটোরের আম চাষিরা

নাটোরে চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু আমের বাজার দর কম থাকায় তেমন লাভ করতে পারছেন না আম চাষিরা। অনেক বাগান ক্রেতা পড়েছেন লোকসানে।

নাটোরে এবার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন। এই আমের বাজারমূল্য প্রায় ৩৪০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে নাটোরে সব ধরনের গুটি আম পাড়া শুরু করেছেন বাগান মালিক ও চাষিরা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখন নানা জাতের আমে বাজার পরিপূর্ণ। গুটি জাতের আমের ভেতরে আটির কালুয়া ৪০ টাকা ও ৫০ টাকা এবং অন্যান্য জাতের আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন কালুয়া জাতের আম শেষ পর্যায়ে। বাজারে এসেছে খেরসাপাতি আম। খেরসাপাতি ও ল্যাংড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা রিন্টু জানালেন, তিনি ৫০ টাকা কেজি দরে খেরসাপাতি আম কিনেছেন। আমগুলো খেতে সুস্বাদু এবং সাইজও ছোট নয়। তিনি আশা করছেন, এবার আমের ফলন ভালো। আমের দাম কিছুটা হলেও কম।

নাটোর এলাকার বাসিন্দা আম চাষি পলাশ খান বলেন, ‘তার বাগানে সব ধরনের আম গাছ রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আমের ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু আমের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। তারপরেও মনে দিতে হচ্ছে ৫ কেজি করে ঢলন। খুচরা ক্রেতারা সে ঢলন না পেলেও আমাদের দিতেই হচ্ছে। না হলে ব্যাপারীরা আম কিনতে চাচ্ছেন না। আড়তেও একই অবস্থা। ফলে আম ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মৌখাড়া এলাকার আম চাষি ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি পাঁচ বিঘা আমের বাগান কিনেছেন। এ বাগান থেকে ২ লাখ টাকা লাভের আশা করেছিলেন। কিন্তু বাজারে আমের দাম কম থাকায় তা হচ্ছে না।

নাটোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় আমের ফলন ভালো হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে বাগান মালিক, চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাভবান হবেন। জেলায় এবার ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য প্রায় তিন হাজার ৪০০০ কোটি টাকা।

২০২৬ সালের 'ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার' অনুযায়ী, ১৫ মে থেকে সব ধরনের গুটি জাতের আম পাড়া ও বাজারজাত শুরু হয়েছে। এরপর ২৫ মে গোপালভোগ আম, ৩০ মে রাণী পছন্দ, খিরসাপাত, ২ জুন লক্ষণভোগ, ১২ জুন ন্যাংড়া, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ফজলি, হাড়িভাঙ্গা ও মোহনভোগ, ৪ জুলাই মল্লিকা, ১০ জুলাই বারি-৪, ২০ জুলাই আশ্বিনা এবং গৌরমতি আম ১০ আগস্ট গাছ থেকে সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেজাউল করিম রেজা/এএইচ/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow