ফাইবারের স্বাস্থ্য ট্রেন্ডের চমকপ্রদ উপকারিতা
গত বছর অনেকেই শক্তি ও ফিটনেস বাড়ানোর আশায় প্রোটিনের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ফাইবার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুপারিশকৃত দৈনিক ফাইবারের পরিমাণ আমরা মাত্র ৪ শতাংশ মানুষই পূরণ করতে পারছি। এখন নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে ওটস বা পোরিজের ওপর চিয়া সিড ছিটানো ভিডিও, কিংবা পুষ্টিবিদদের কথা, যারা রাজমা, ছোলা বা ডালের উপকারিতা তুলে ধরছেন। ফাইবার যেন হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে গড়ে মানুষ প্রতিদিন মাত্র ১৬ থেকে ১৭ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করছে। নারীরা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে কম ফাইবার খান। পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফাইবার নিয়ে এই নতুন আগ্রহ মোটেও খারাপ নয়। দীর্ঘদিন ধরে ফাইবারকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মূলত হজম ও পেটের সমস্যার সঙ্গে ফাইবারের নাম জড়িয়ে থাকায় একে অনেকটা অবহেলিত পুষ্টি উপাদান হিসেবে দেখা হতো। অন্যদিকে প্রোটিনকে সবসময় শরীরচর্চা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার শুধু অন্ত্রের জ
গত বছর অনেকেই শক্তি ও ফিটনেস বাড়ানোর আশায় প্রোটিনের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ফাইবার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুপারিশকৃত দৈনিক ফাইবারের পরিমাণ আমরা মাত্র ৪ শতাংশ মানুষই পূরণ করতে পারছি।
এখন নিয়মিতই দেখা যাচ্ছে ওটস বা পোরিজের ওপর চিয়া সিড ছিটানো ভিডিও, কিংবা পুষ্টিবিদদের কথা, যারা রাজমা, ছোলা বা ডালের উপকারিতা তুলে ধরছেন। ফাইবার যেন হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যে গড়ে মানুষ প্রতিদিন মাত্র ১৬ থেকে ১৭ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করছে। নারীরা সাধারণত পুরুষদের চেয়ে কম ফাইবার খান।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফাইবার নিয়ে এই নতুন আগ্রহ মোটেও খারাপ নয়। দীর্ঘদিন ধরে ফাইবারকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। মূলত হজম ও পেটের সমস্যার সঙ্গে ফাইবারের নাম জড়িয়ে থাকায় একে অনেকটা অবহেলিত পুষ্টি উপাদান হিসেবে দেখা হতো। অন্যদিকে প্রোটিনকে সবসময় শরীরচর্চা ও শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইবার শুধু অন্ত্রের জন্যই নয়, শরীরের নানা দিকের জন্য উপকারী। যাদের খাদ্যতালিকায় ফাইবার বেশি থাকে, তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইবার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিটেনের বার্মিংহামের ২৪ বছর বয়সী ইয়েশে স্যান্ডার জানান, প্রতিদিন ৩০ গ্রাম ফাইবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক ভালো অনুভব করছেন। কিশোর বয়সে তিনি স্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চললেও পরে ক্লান্তি, মন খারাপ ও অনীহার কারণে নিজের খাদ্যাভ্যাস বদলান। ফাইবার বাড়ানোর পর তার উদ্বেগ ও মনমরা ভাব অনেকটাই কমেছে বলে তিনি জানান।
তিনি সকালের নাশতায় ওটস বা পোরিজের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ যোগ করার পরামর্শ দেন। এতে সহজেই দিনের শুরুতে ফাইবার পাওয়া যায়।
ফাইবার কী এবং কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ
ফাইবার হলো উদ্ভিদজাত এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা আমাদের শরীর পুরোপুরি হজম করতে পারে না। এটি পাওয়া যায় ফল, সবজি, শস্য, ডাল, বাদাম ও বীজে।
একসময় ধারণা ছিল, ফাইবার শুধু শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে। এখন জানা গেছে, এর ভূমিকা আরও বিস্তৃত। ফারমেন্টেবল ফাইবার অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়, যা হজম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অদ্রবণীয় ফাইবার মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। আবার কিছু ফাইবার রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে বাধা দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ রয়েছে। একে বলা হয় গাট-ব্রেন অ্যাক্সিস। কিছু নির্দিষ্ট ফাইবার অন্ত্রের জীবাণুর ভারসাম্য ভালো রাখে, যা উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমনকি বয়স্কদের ক্ষেত্রে ফাইবার স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
ফাইবার বাড়ালে কী পরিবর্তন আসে
২৫ বছর বয়সী ভিকি ওউনস জানান, স্বাস্থ্য সমস্যার পর খাদ্যাভ্যাস বদলে ফাইবার বাড়ানোর ফলে তার ত্বক ভালো হয়েছে এবং শক্তি বেড়েছে। আগে তার খাবারের বড় অংশই ছিল প্রসেসড ও বাইরে থেকে আনা। পরে তিনি ফল, সবজি, পূর্ণ শস্য ও ওটসের মতো খাবার বেছে নিতে শুরু করেন।
কীভাবে সহজে ফাইবার বাড়ানো যায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট পরিবর্তনেই খাদ্যতালিকায় ফাইবার বাড়ানো সম্ভব। যেমন:
- সাদা পাউরুটির বদলে পূর্ণ শস্য বা বীজযুক্ত পাউরুটি খাওয়া
- চিপস বা চকলেটের বদলে বাদাম, ফল বা পপকর্ন খাওয়া
- দই বা ওটসের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বীজ যোগ করা
- সাদা ভাতের বদলে বাদামি বা হোল গ্রেইন ভাত খাওয়া
- স্যান্ডউইচে সালাদ, অ্যাভোকাডো বা হুমাস যোগ করা
- নাশতায় হোল গ্রেইন সিরিয়াল বেছে নেওয়া
প্রোটিনের পর এবার ফাইবার নিয়ে আলোচনা বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য ইতিবাচক লক্ষণ। ফাইবার শুধু হজম ভালো রাখে না, এটি হৃদযন্ত্র, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে সামান্য পরিবর্তন এনে ফাইবার বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন দুটিই ভালো থাকতে পারে।
নতুন এই ট্রেন্ড যদি অভ্যাসে পরিণত হয়, তবে তা হতে পারে সুস্থ জীবনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
সূত্র : BBC
What's Your Reaction?