ফিরতি যাত্রায়ও ভরসা ট্রেনের ছাদ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। আর এতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথে দেখা দিয়েছে তীব্র যাত্রীচাপ। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে, ইঞ্জিনের পাশে ও দরজায় ঝুলে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন। সোমবার (১ জুন) ঈদের পঞ্চম দিনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে উপচে পড়া ভিড়। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই যাত্রীরা বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি করছেন। আসন তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদে উঠছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুদেরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে ময়মনসিংহে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বন্ধ হয়নি। যাত্রীদের অভিযোগ, বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ট্রেনের ভেতরে উঠতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে ছাদ কিংবা দরজায় ঝুলে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এক থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ঢাকাগামী একাধিক যাত

ফিরতি যাত্রায়ও ভরসা ট্রেনের ছাদ

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। আর এতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথে দেখা দিয়েছে তীব্র যাত্রীচাপ। ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে, ইঞ্জিনের পাশে ও দরজায় ঝুলে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন।

সোমবার (১ জুন) ঈদের পঞ্চম দিনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্ল্যাটফর্মজুড়ে উপচে পড়া ভিড়। ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই যাত্রীরা বগিতে ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি করছেন। আসন তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে ট্রেনের ছাদে উঠছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুদেরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভ্রমণ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে ময়মনসিংহে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপরও যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বন্ধ হয়নি।

যাত্রীদের অভিযোগ, বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ট্রেনের ভেতরে উঠতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে ছাদ কিংবা দরজায় ঝুলে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এক থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ঢাকাগামী একাধিক যাত্রী জানান, ঈদের ছুটি শেষে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারলে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে জানার পরও তারা ট্রেনে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন।

এদিকে রেলওয়ে পুলিশ নিয়মিত মাইকিং করে ছাদে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানালেও বাস্তবে তা খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না।

ময়মনসিংহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকতার হোসেন বলেন, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে ছাদে ভ্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যাত্রীদের সচেতন করতে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ছুটির কারণে কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সীমিত সংখ্যক ট্রেনে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এছাড়া স্বল্প খরচে রাজধানীতে পৌঁছানোর অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে ট্রেনই সবচেয়ে জনপ্রিয় পরিবহন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপার আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে জিআরপি ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) নিয়মিত কাজ করছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। অনেক সময় ছাদের যাত্রীদের নামিয়ে দিলে তাদের গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। মানবিক বিষয় বিবেচনায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রেলপথে যাত্রীচাপ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ট্রেন চালু, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং যাত্রীসেবামুখী কার্যকর ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সচেতন মহল।

হোসাইন সুলভ/কেএইচকে/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow