ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে তরুণী

চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে তরুণী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে প্রসবের পরও নবজাতকের পিতৃপরিচয় কিংবা ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মা ও নবজাতক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ওই তরুণী একই পোশাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিকবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার চেষ্টা করলেও তিনি তাতে রাজি হননি। স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম জানান, প্রথমে তিনি শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় তরুণীটিকে দেখতে পান। পরে মানবিক বিবেচনায় তাকে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং প্রসববেদনা শুরু হলে রাত প্রায় ১১টার দিকে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানে তিনি একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। হাসপাতালের সিনিয়র স

ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে তরুণী

চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে তরুণী একটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তবে প্রসবের পরও নবজাতকের পিতৃপরিচয় কিংবা ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে মা ও নবজাতক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ওই তরুণী একই পোশাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। তার অস্বাভাবিক আচরণ দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা একাধিকবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার চেষ্টা করলেও তিনি তাতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ বেগম জানান, প্রথমে তিনি শহরের ইসলামী ব্যাংকের সামনে অসহায় অবস্থায় তরুণীটিকে দেখতে পান। পরে মানবিক বিবেচনায় তাকে নিজের মেসে নিয়ে যান। সেখানে তরুণীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং প্রসববেদনা শুরু হলে রাত প্রায় ১১টার দিকে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত তাকে গাইনি বিভাগে স্থানান্তর করেন। সেখানে তিনি একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার বলেন, মা ও নবজাতক বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ওই তরুণী নিজের নাম-পরিচয় কিংবা সন্তানের পিতার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মা ও নবজাতককে হাসপাতালের একটি বিশেষ কেবিনে রাখা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার কমান্ডার শাহজাহান জানান, মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, মা ও নবজাতক দুজনই বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মানবিক দিক বিবেচনায় হাসপাতাল থেকে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। যদি ওই নারীর কোনো স্বজন থেকে থাকেন, তাহলে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে নবজাতক শিশুটিকে দত্তক নেওয়া বা লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। উদ্ধারকারী শাহনাজ বেগমও আশা প্রকাশ করেন, শিশুটিকে এমন একটি সচ্ছল ও স্নেহশীল পরিবারের কাছে দেওয়া হবে, যেখানে সে সুশিক্ষা ও ভালোবাসার পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। নবজাতকের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু কল্যাণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উপযুক্ত পরিবারের কাছে শিশুটিকে লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow