ফুলের রঙে সাজবে বন্দর নগরী

প্রকৃতির রঙ, গন্ধ আর নান্দনিকতায় নতুন করে সাজছে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট। সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ডিসি পার্কে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম ফুল উৎসব। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রায় ১৯৪ একর বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা ডিসি পার্ক এখন ‘জলাশয় আর ফুলের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। একসময় যেখানে অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আড্ডা ছিল, সেখানে ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা হয় পরিকল্পিত ও নান্দনিক এই পার্ক। বর্তমানে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র। গত বছর সফল আয়োজনের পর এবার চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম ফুল উৎসব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবছর পার্কজুড়ে ফুটে উঠবে ১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক ফুল। ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ম্যাগনোলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, চেরি, জাকারান্ডা, উইলো ও উইস্টেরিয়াসহ নানা জাতের ফুলে বর্ণিল হয়ে উঠবে পুরো এলাকা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষের মন ও মননকে সমৃদ্ধ করে। সেই ভাবনা থেকেই ‘পুষ্প কাননে জুড়িয়ে ভুবন প

ফুলের রঙে সাজবে বন্দর নগরী

প্রকৃতির রঙ, গন্ধ আর নান্দনিকতায় নতুন করে সাজছে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট। সীতাকুণ্ড উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ডিসি পার্কে আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী চট্টগ্রাম ফুল উৎসব। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

প্রায় ১৯৪ একর বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা ডিসি পার্ক এখন ‘জলাশয় আর ফুলের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিত। একসময় যেখানে অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আড্ডা ছিল, সেখানে ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সব উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা হয় পরিকল্পিত ও নান্দনিক এই পার্ক। বর্তমানে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্র।

গত বছর সফল আয়োজনের পর এবার চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম ফুল উৎসব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এবছর পার্কজুড়ে ফুটে উঠবে ১৪০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক ফুল। ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, ম্যাগনোলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, চেরি, জাকারান্ডা, উইলো ও উইস্টেরিয়াসহ নানা জাতের ফুলে বর্ণিল হয়ে উঠবে পুরো এলাকা।

ফুলের রঙে সাজবে বন্দর নগরী

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য মানুষের মন ও মননকে সমৃদ্ধ করে। সেই ভাবনা থেকেই ‘পুষ্প কাননে জুড়িয়ে ভুবন প্রাণ, ছড়াও সাম্যের গান’ এই প্রতিপাদ্যে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ফুল প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে একাধিক সেলফি জোন, চিত্রশিল্পীদের আঁকা ২০০টি চিত্রকর্মের প্রদর্শনী এবং সরাসরি ক্যারিকেচার আঁকার সুযোগ। বিনোদনের অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে সানসেট ভিউ পয়েন্ট, পিজিওন কর্নার, স্যুভেনির শপ, কায়াকিং ও পানির ঝরনা।

শিশু-কিশোরদের আনন্দের জন্য থাকছে নাগরদোলা, দোলনা, মেরিগো রাউন্ড, স্প্রিং টয়, প্লে পেন ও ফুট ট্রাম্পোলাইন। পাশাপাশি রয়েছে ট্যুরিস্ট শেড, নামাজের ব্যবস্থা এবং নানা স্বাদের খাবারের স্টল।

প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ডিসি পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

ফুলের রঙে সাজবে বন্দর নগরী

উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করতে থাকছে ঘুড়ি উৎসব, ফায়ারওয়ার্কস, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ ও জাদু প্রদর্শনী। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ফুল উৎসবকে কেন্দ্র করে ডিসি পার্ককে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য, প্রকৃতি ও আধুনিকতার সমন্বয়েই এবারের আয়োজন। গতবারের তুলনায় এবছর উৎসব আরও বর্ণাঢ্য ও উপভোগ্য হবে।

এমআরএএইচ/এসএনআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow