ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল চলবে না : সিভিল সার্জন

ফেনী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেছেন, ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জেলাজুড়ে অনুমোদনহীন এবং অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে কালবেলাকে এ তথ্য জানান তিনি। ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। যারা নিয়মের মধ্যে থেকে সেবা দেবে তাদের স্বাগত জানাই, কিন্তু যারা পকেট কাটছে এবং ঝুঁকি তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পুরো জেলার তালিকা আমাদের হাতে আছে, কোনো উপজেলা বাদ যাবে না।  তিনি আরও বলেন, আমরা ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল চলতে দেব না। এরই মধ্যে নানা অনিয়মের কারণে আমরা ১৬টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি। এ ছাড়া এসব অভিযানে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ​ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ফেনীতে বেসরকারি পর্যায়ে অনুমতি প্রাপ্ত ১১৬টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৬৫টি ও হাসপাতাল রয়েছে ৫১টি। এর মধ্যে শুধু ফেনী পৌর

ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল চলবে না : সিভিল সার্জন
ফেনী জেলা সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেছেন, ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলতে দেওয়া হবে না। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জেলাজুড়ে অনুমোদনহীন এবং অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে কালবেলাকে এ তথ্য জানান তিনি। ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। যারা নিয়মের মধ্যে থেকে সেবা দেবে তাদের স্বাগত জানাই, কিন্তু যারা পকেট কাটছে এবং ঝুঁকি তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পুরো জেলার তালিকা আমাদের হাতে আছে, কোনো উপজেলা বাদ যাবে না।  তিনি আরও বলেন, আমরা ফেনীতে অনুমোদনহীন কোনো হাসপাতাল চলতে দেব না। এরই মধ্যে নানা অনিয়মের কারণে আমরা ১৬টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি। এ ছাড়া এসব অভিযানে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ​ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, ফেনীতে বেসরকারি পর্যায়ে অনুমতি প্রাপ্ত ১১৬টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে ৬৫টি ও হাসপাতাল রয়েছে ৫১টি। এর মধ্যে শুধু ফেনী পৌর এলাকায় রয়েছে ৭০টির অধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মার্চ মাসে পরিদর্শন করা হয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠান এবং চলতি এপ্রিল মাসে পরিদর্শন করা হয়েছে ৩১টি প্রতিষ্ঠান। পরিদর্শনকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা, ওটি (অপারেশন থিয়েটার) মানসম্মত না হওয়া, দক্ষ টেকনিশিয়ান ছাড়া ল্যাব পরিচালনা করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ পাওয়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের দায়ে জেলার ১৬টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়।  এগুলো হলো— জনতা এক্সরে অ্যান্ড প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড শাহিন ক্লিনিক, ফেনী নিউরো কেয়ার হাসপাতাল, ল্যাবএইড লিমিটেড, ফেনী মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গ্রীন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওয়েলস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দাগনভূঞা চক্ষু হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস সেন্টার, মমতা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আল আহাদ চক্ষু হাসপাতাল, ওয়ান স্টপ মেটারনিটি ক্লিনিক, দাগনভূঞা মেডিকেয়ার হাসপাতাল, সোনাগাজী ডাকবাংলা ল্যাব, ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল, দাগনভূঞা হাজী ক্লিনিক,আল খিদমাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টার।  এছাড়া ফেনী কার্ডিয়াক সেন্টার অ্যান্ড স্পেসালিস্ট হাসপাতালের এক্সরে লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এক্সরে কার্যক্রম সাময়িক ব্যয় বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। এ সময় উক্ত হাসপাতাল ও ফেনী বাইজিদ হেলথ সার্ভিস ও বায়জিদ সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া মনিটরিং সুপারভিশন এ অনিয়ম সংশোধনী সহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে।  এগুলো হলো— দাগনভূঁইয়া লাইফ এইড ডায়াগনস্টিক সেন্টার,পপুলার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডা. শাহ আলম চক্ষু হাসপাতাল, পদ্মা ডিজিটাল ল্যাব, দাগনভূঁইঞা মা ও শিশু হাসপাতাল, সোনাগাজী ডিজিটাল ল্যাব, গ্রিন ল্যাব, গ্লোবাল হেলথ, সিটি হেলথ কেয়ার, ফুলগাজী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিউ ফুলগাজী স্কয়ার, সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ওয়াহিদুর রহমান স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও বায়োনিক রিসার্চ। এসব অভিযানে গিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অধিকাংশ ক্লিনিকে ডিপ্লোমাধারী নার্সের পরিবর্তে সাধারণ কর্মীদের দিয়ে ওটি এবং সেবা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক এবং অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় জীবাণুমুক্তকরণের সরঞ্জাম নেই। সরকারি তালিকার তোয়াক্কা না করে ইচ্ছেমতো পরীক্ষার ফি আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযানে অংশ নেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, বরং অনিয়মের বিরুদ্ধে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow