ফেনীতে ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে গ্যাস সরবরাহ

ফেনী জেলাজুড়ে সোমবার (৩০ জুন) ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুই দিন ফেনী জেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প-সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আকস্মিক এই ঘোষণার পর সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা ও তোড়জোড় দেখা গেছে। টানা ৪৮ ঘণ্টা গ্যাস না থাকার খবরে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের মিজান রোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, টানা দুই দিন গ্যাস না থাকলে তো ঘরে রান্নাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের মতো ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। এলপিজি সিলিন্ডার বা ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হবে। বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অন্তত এক সপ্তাহ আগে জানানো, যাতে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম। আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফেনী শহরের বড় বাজারের এক রেস্তোরাঁ মালিক শাহ আলম

ফেনীতে ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে গ্যাস সরবরাহ

ফেনী জেলাজুড়ে সোমবার (৩০ জুন) ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা ৪৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই দুই দিন ফেনী জেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প-সব খাতেই গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। আকস্মিক এই ঘোষণার পর সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের দুশ্চিন্তা ও তোড়জোড় দেখা গেছে।

টানা ৪৮ ঘণ্টা গ্যাস না থাকার খবরে ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের মিজান রোড এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, টানা দুই দিন গ্যাস না থাকলে তো ঘরে রান্নাই বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের মতো ফ্ল্যাটবাড়ির বাসিন্দাদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। এলপিজি সিলিন্ডার বা ইলেকট্রিক চুলা কিনতে বাড়তি টাকা খরচ হবে। বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অন্তত এক সপ্তাহ আগে জানানো, যাতে আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারতাম।

আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

ফেনী শহরের বড় বাজারের এক রেস্তোরাঁ মালিক শাহ আলম বলেন, আমাদের পুরো ব্যবসা গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। দুই দিন পুরোপুরি গ্যাস বন্ধ থাকা মানে হোটেলের বেচাবিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে এত বড় হোটেলের রান্না চালানো অসম্ভব, খরচও দ্বিগুণ পড়বে। এই দুই দিনে আমাদের বিশাল আর্থিক লোকসান গুনতে হবে।

একই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বিসিক শিল্প নগরীর ব্যবসায়ী আতাউর রহমান। তিনি জানান, টানা ৪৮ ঘণ্টা কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে, যার প্রভাব পড়বে শ্রমিকদের মজুরি ও পণ্য সরবরাহের ওপর।

এদিকে সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফেনীস্থ বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঞ্চালন শাখার ব্যবস্থাপক দেওয়ান মোস্তফা ইমরান বলেন, গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা ও গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতেই এই জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি কাজ করা হচ্ছে। এটি একটি রুটিন কিন্তু অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ। আমরা বুঝতে পারছি গ্রাহকদের সাময়িক কষ্ট হবে, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ও লাইনের সক্ষমতা বাড়াতে এই ৪৮ ঘণ্টা আমাদের প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত কাজ শেষ হওয়া মাত্রই কোনো রকম বিলম্ব না করে পুনরায় লাইনে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। এই সাময়িক সংকট মোকাবিলায় গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণ ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এনএইচআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow