ফ্রানসিস্কো মার্তিগারের যুদ্ধবিরোধী উচ্চারণ
পুরো পৃথিবীই আজ অস্থির। এক গভীর সংকটপূর্ণ সময়ের ভেতর দিয়ে চলছে মানবসভ্যতা। বিশেষত ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দেশে দেশে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে আগ্রাসনবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গণতন্ত্রের অজুহাতে আদতে সারাবিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে সাম্রাজ্যবাদ। নামকাওয়াস্ত গণতন্ত্রের মোড়কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উত্তরাধুনিক উপনিবেশবাদ। নব্য এই উপনিবেশবাদেও এসেছে নতুন মোড়। মানুষ বুঝতে পারছে, গণতন্ত্র নামে যে শাসনের কথা জনগণকে বলা হয়েছে, তা শুধু কথার কথা। বরঞ্চ এটিই এখন আধুনিক বিশ্বে শোসনের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। গণতন্ত্র পৃতিষ্ঠার আড়ালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের একক আধিপত্য বিস্তারে হয়ে উঠেছে যুদ্ধবাজ এবং সেইসঙ্গে ধর্মাশ্রয়ী মৌলবাদীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। পৃথিবীর মোড়ল হয়ে ওঠা মার্কিনিদেরও আজ নিজেদের তৈরি যুদ্ধ ও মৌলবাদের ব্যবসায় খানিকটা নাস্তানুবাদ হতে হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ হারাতে হচ্ছে পৃথিবীর নানা প্রান্তরে। কিন্তু যে অস্থিথিশীল পরিস্থিতি তারা তৈরি করেছে, তা দেশে দেশে চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। বিশ্বজুড়ে অস্ত্র ব্যবসা, পালিত জঙ্গিবাদ, পরিকল্পিত যুদ্ধ বিশ্ব
পুরো পৃথিবীই আজ অস্থির। এক গভীর সংকটপূর্ণ সময়ের ভেতর দিয়ে চলছে মানবসভ্যতা। বিশেষত ১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দেশে দেশে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে আগ্রাসনবাদী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গণতন্ত্রের অজুহাতে আদতে সারাবিশ্বে প্রভাব বিস্তার করেছে সাম্রাজ্যবাদ। নামকাওয়াস্ত গণতন্ত্রের মোড়কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে উত্তরাধুনিক উপনিবেশবাদ। নব্য এই উপনিবেশবাদেও এসেছে নতুন মোড়। মানুষ বুঝতে পারছে, গণতন্ত্র নামে যে শাসনের কথা জনগণকে বলা হয়েছে, তা শুধু কথার কথা। বরঞ্চ এটিই এখন আধুনিক বিশ্বে শোসনের নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
গণতন্ত্র পৃতিষ্ঠার আড়ালে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের একক আধিপত্য বিস্তারে হয়ে উঠেছে যুদ্ধবাজ এবং সেইসঙ্গে ধর্মাশ্রয়ী মৌলবাদীদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। পৃথিবীর মোড়ল হয়ে ওঠা মার্কিনিদেরও আজ নিজেদের তৈরি যুদ্ধ ও মৌলবাদের ব্যবসায় খানিকটা নাস্তানুবাদ হতে হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ হারাতে হচ্ছে পৃথিবীর নানা প্রান্তরে। কিন্তু যে অস্থিথিশীল পরিস্থিতি তারা তৈরি করেছে, তা দেশে দেশে চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
বিশ্বজুড়ে অস্ত্র ব্যবসা, পালিত জঙ্গিবাদ, পরিকল্পিত যুদ্ধ বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে জলবায়ু বিপর্যয়, দুর্যোগ, অর্থনৈতিক মন্দা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতাসহ নানা সমস্যা। তার অবিবেচানাপ্রসূত যুদ্ধবাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছে নানা প্রান্তরের জনগোষ্ঠী। তাদের বৈশ্বিক শোষণের প্রতিবাদে জাগ্রত সাম্রাজ্যবাদবিরোধী শাসকগোষ্ঠীও। প্রতিবাদ জানাচ্ছে শ্রেণিবৈষম্যহীন সমাজ আকাঙ্খী মানুষেরা। নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ক্রমশ সচেতন হয়ে উঠছে।
কবি সাহিত্যিক লেখক সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী শিল্পীরাও তাদের সৃষ্টিকর্মে মার্কিননীতির বাস্তব চিত্র চিত্রায়িত করছে। এশিয়া থেকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা থেকে সারাবিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে যে উপনিবেশবাদের জন্ম দিয়েছে, মানবতার ভস্ম দেহের উপর দাঁড়িয়ে তারা আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, লিবিয়াসহ এক সময়ের বহু সমৃদ্ধ দেশে রক্তহোলী খেলেছে, তার কারণ আজ করোই অজানা নয়।
আমেরিকান মানবতার মুখোশ ও শান্তির তথাকথিত বয়ান যে মাকাল ফল ছাড়া কিছুই নয়, তা খুব ভালোভাবে অনুধাবন করেছেন পেরুর কবি ফ্রানসিস্কো মার্তিগার।
পেরুর কবি ফ্রানসিস্কো মার্তিগার স্বভাবতই একজন প্রতিবাদী মানুষ। তিনি তার বিখ্যাত কবিতা ‘এ কোন যুদ্ধের কথা বলো’ কবিতায় যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ধারণ করেছেন। তার এই একটি মাত্র কবিতাই পুঁজিতন্ত্রের টনক নাড়িয়ে দিয়েছে এবং উন্মোচন করেছে মানবতাবিরোধী পৈশাচিক মুখচিত্র। আমেরিকান আগ্রাসনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যে আগুন জ্বলছে, সেই অগ্নিশিখা শব্দানল হয়ে উঠেছে মার্তিগারের কবিতায়। তিনি লিখেছেন-
‘দাউ দাউ দাউ দাউ জ্বলে খাক হয় গ্রাম-নদী-আকাশ-নক্ষত্র
বুলেট-বেয়োনেটে বিদ্ধ হয় কৃষকের দেহ, নারীর দেহ, শিশুর দেহ
জমি জমি জমি বলে চিৎকার করে জমির শেখ
দিগন্ত ফেটে চৌচির
পুঁজি গড়ে উপনিবেশ তার,
এশিয়ায়-আফ্রিকায়-লাতিন আমেরিকায়
জ্বলছে এদিক- সেদিক দিগ্বিদিক দাউ দাউ দাউ দাউ।’
সাম্রজ্যবাদীরা কোনোদিন কোনোকালে মানবিক ছিল না। তাদের কাছে মানুষের চেয়ে জমির প্রয়োজন যেন অধিকতর। তাই দেশে দেশে বিশেষত প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ উদার, প্রগতিমুখী ও সমাজতান্ত্রিকভাবাপন্ন দেশগুলোতে দিনের পর দিন অসংখ্য জমির শেখকে নির্যাতনের মুখোমুখি করছে আমেরিকা। তথাকথিত ইসলামী খেলাফতের ধ্বজায় মুসলিম জঙ্গিবাদের উত্থানও ঘটিয়েছে তারা। সেইসঙ্গে জঙ্গি দমনের নামে ‘না ছুঁই জল, ধরি মাছ’ খেলায় ভূ-খণ্ড দখলে দেশে দেশে ঘাঁটি গেড়েছে মার্কিনসৈন্য।
জঙ্গি দমন কিংবা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বুলি আওরানো মার্কিন শাসক গোষ্ঠী নিজেদের সভ্য বা মানবতাবাদী দাবি করলেও তারা ঠিক কতটা মানব সভ্যতার জন্য নিরাপদ তা আমরা ফিলিস্তিনের দিকে তাকালেই অনুভব করতে পারি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের আগ্রাসনও আমাদের জানিয়ে দেয়, পৃথিবী তাদের জন্য নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠছে দিনকে দিন। যুগের পর যুগ তারা ধ্বংসলিলায় মত্ত। ফ্রানসিস্কো মার্তিগার আমাদের মাঝে মার্কিনীদের তথাকথিত মানবতা ও মানবাধিকারের এক দালিলিক তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেছেন। তার কবিতার শব্দবাগ মুহুর্তেই ভিডিও ফুটেজের মতো বিশ্বরূপকে সামনে তুলে ধরেছেন এভাবে-
‘১৯৮৩: মার্কিন বোমা ঝরে বৃষ্টির মতো গ্রানাডায়
১৯৮৪: লেবানন ভাসে রক্তে রক্তে মার্কিন থাবায়
১৯৮০: পুরো দশক এল সালভাদোর আর নিকারুগুয়ায় আবারও মার্কিন থাবা
১৯৮৭: ইরানে হাজির আমেরিকা-
১৯৮৯: পানামায়
১৯৯৩: সোমালিয়ায়
১৯৯৪: বসনিয়ায়
১৯৯৮: সুদানে
২০০৬: আফগানিস্তান যেখানে
হাজির হাজির হাজির হাজির হাজির হাজির
আল্লাহ্র সাথে পাল্লা-দেয়া হাজির মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ’
স্রষ্টার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এভাবেই সোভিয়েত পতন পরবর্তী বিশ্বে, বিশেষত ১৯৮৩ থেকে বর্তমান অব্দি গ্রানাডা, লেবানন, সালভাদোর, নিকারুগুয়া, ইরাক, ইরান, পানামা, সোমালিয়া, বসনিয়া, সুদান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ফিলিস্তিনসহ বহু দেশেই মার্কিন ও তার সহযোগীরা ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। তাদের মিত্রশক্তি ইসরাইল কর্তৃক এই হত্যাযজ্ঞ এখনো চলমান ফিলিস্তিনে। যুদ্ধের দামামা এখন ইউক্রেন, মায়ানমার পেরিয়ে এগিয়ে আসছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের ভূখন্ডে। অস্থিথিশীল মায়ানমার, বাংলাদেশ, পাস্তিান, শ্রিলংঙ্কা ও নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহও মার্কিন আগ্রাসনের উপস্থিতিকেও জানান দিয়েছে ইতোমধ্যে।
যুদ্ধাংদেহী মার্কিন বলয় কতটা নির্মম ও ভয়ঙ্কর তা আর বলার কিছু নেই। শান্তির নাম করে সাম্রাজ্যবাদীরা বিশ্বজুড়ে যে অশান্তি ও বিভক্তির বীজ বপন করেছে তা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আজ প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য মার্তিগারে এই প্রশ্ন অমূলক নয়। তিনি যখন উচ্চারণ করেন, ‘এ কোন যুদ্ধের কথা বলো কমরেড? এ কোন যুদ্ধ? তখন আমাদের উত্তর দেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতিই আর থাকে না। তিনি কবিতায় উচ্চারণ করতে থাকেন-
‘তার থেকে বেতারে-বেতারে পথে-ঘাটে-মাঠে
পোস্টাপিসের ভেতর থেকে বাইরে
চায়ের পেয়ালায়, সিগ্রেটের ধোঁয়ায়-ধোঁয়ায়, মেঘ-লাগা রঙে
মস্তিষ্কের কোষে-কোষে, গ্রন্থাগারের গভীর গর্ভে
হরফে হরফে এ কোন বোমা পতন, কমরেড?
‘এ-কোন বোমা পড়ে’ তা আমরা সকলেই জানি। কিন্ত আমরা অসার। আমরা প্রতিবাদ জানি না, প্রতিরোধ করতে পারি না। এই পারা না পারার মাঝেই বিশ্ব তাবেদার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদিরা তাদের পুঁজি জিয়ে আমাদের ওপর শাসন ও শোসন জারি রাখছে। আমরা শোসিত হচ্ছি মার্কিন উপনিবেশবাদের কবলে পড়ে। এর থেকে নিস্তারের জন্য যে শ্রেণি সংগ্রাম তুলবার কথা ছিল আমাদের, আমরা তা ভুলে গিয়েছি। লড়াকু শ্রেণি বা গোষ্ঠীর উত্থান না হওয়ায় বৃটিশ-মার্কিন বেনিয়া তত্ত্বের ‘ভাগ কর শাসন কর’ নীতিতেই নব নব দ্বি-জাতি তত্ত্ব বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় উগ্রবাদের জন্ম দিচ্ছে। মার্কিনীদের চূড়ান্ত চাওয়াকেই আমরা ক্রমশ ডেকে আনছি । তাদের মাস্তানির নবনব রূপ আমাদের ইতিহাসের পথকেও বদলিয়ে দিচ্ছে এর মধ্য দিয়ে। বৈচিত্র্যময় মানবসভ্যতা তার শ্রী হারিয়ে ফেলছে। কবি লিখছেন-
‘ইতিহাসের বুকের ওপর চড়ে বসে আছে যে-মাস্তান
তেরচা করে পানের পিক ফেলে যে অক্ষরের ওপর
উপমা-রূপক ঢেপসে যায়, বয়ান-আখ্যান ছিন্নভিন্ন হয়
জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়- নাম মুছে যায়, বাপ-দাদার, সন্তান-সন্ততির নাম-’
আধিপত্যবাদী যুদ্ধ কীভাবে ইতিহাসের সমৃদ্ধ জনপদগুলোর ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কালচার, সংস্কৃতি ও নিজস্ব সব রীতি-নীতি ও বিশ্বাসকে স্ব-মূলে উপরে ফেলে, তার নিখাদ বিবরণ মার্তিগারের এই কবিতা। তার কবিতার মধ্য দিয়েই প্রতিটি রাষ্ট্র, দেশ, জাতি, সমাজ, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠর মানুষের ভেতরকার আত্মকষ্ট উপলব্ধি করা যায়। তার কাব্যলোক থেকে শুনি-
‘শুনি সাদা মানুষ ভেতর থেকে কথা কয়-
কথা কয়, কাউমাউ করে, ভেতরে ও বাইরে
কণ্ঠের ওপরে আরেক কণ্ঠ
ভাষার ওপরে আরেক ভাষা
মুখের ওপরে আরেক মুখোশ-
সভ্যতা চাই সভ্যতা চাই বলে চিৎকার করে’
এই চিৎকার জাতিসংঘের কাছে পৌঁছায় না। মানবতার ফেরিওয়ালারাও তখন বধির ও কালা হয়ে থাকে। তারা অন্ধ হয়ে যায়। কিছু দেখতে ও শুনতে পায় না। এই যুদ্ধ, এই সন্ত্রাস, এই বিশ্ব মাফিয়াদের মাস্তানি তাদের উৎকণ্ঠিত করে না। মানুষের ঘৃণা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। পুঞ্জিভূত হয় ক্ষুব্ধতা। হয়তো একদিন অসংখ্য মানুষ, অসংখ্য জাতি ও সভ্যতার চিৎকার আরও ক্ষীপ্র হয়ে উঠবে। মানুষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়বে দেশে-দেশে। মার্তিগারের ভাষায়-
‘তাহলে কি চাই পাল্টা সন্ত্রাস
চাই দুনিয়া জুড়ে বাদামী আর কালা আদমীর ঢল? নারীর ঢল?
শ্রমিকের ঢল কৃষকের ঢল?
মানুষই উঠবে না গর্জে তাহলে?
ফ্রানসিস্কো মার্তিগার ঠিকই উপলব্ধি করছেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ আর স্থির থাকে না। অস্তিত্বের লড়াইয়ে তারা জেগে ওঠে এবং শত্রু পক্ষের চেয়েও হিংস্র হয়ে ওঠে। এই হিংস্রতা তাদের শোসন নির্যাতনের বদন্যতায় নৈতিক হয়ে যায়। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে এই প্রতিরোধের তিব্রতায়-
‘গর্জে উঠুক
গর্জে উঠুক
গর্জে উঠুক
নতুন মানুষ
গর্জে উঠুক’
এই আহ্বান অব্যর্থ হয়ে রয়। এ মিথ্যা নয়, শোসিতরা শুধু মুখ বুজে মার খেতেই জানে না, সময়ই তাদেরকে একদা মারমুখী হিসেবে গড়ে তোলে। তারা প্রতিবাদ করতে শেখে। অ্যালেকসিস্ নিউন্দাইয়ের মতোই মার্তিগার কবিতায় দৃঢ়। সব মানুষ ঠিকই একদিন গর্জে উঠবে এবং বলবে-
‘ভেঙে ফেলো আরুস্তলীয় নকশা, মারো লাথি
কার্তেসীয় দর্শনের পোদে, নিকুচি করি হেগেলের হাকিমি।’
এই বিশ্বাসটুকু তার আছে। তিনি জানেন, পুঁজিবাদকে রুখতে শ্রেণি সংগ্রাম প্রয়োজন। যুদ্ধময় পৃথিবীবাসী আজ আবারও উপলব্ধি করছে, শ্রেণি সংগ্রামকে সম্পূর্ণ করার বিকল্প নেই। এও সত্য, মার্কসীয় দর্শন কপদপচিয়ে বসে থাকলে মার্তিগারদের আহ্বান আহ্বানই থেকে যাবে। এজন্য শুধু তত্ত্ব কথা নয়, প্রয়োজন তার প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন । দরকর কর্মপন্থা ও কর্মসূচি। অন্যথায় বান্দা ও জমিনের নামে আমাদের যে কসম তা ব্যর্থ হয়ে যাবে। মুখ ও মুখোশ আলাদা করে চেনাবার পথ সংকীর্ণ হয়ে উঠবে। মার্তিগার তার কবিতায় তা বারবার পাঠক মাত্রকেই মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন।
‘এ কোন যুদ্ধের কথা বল’ কবিতা এমনই এক সুতীব্র উচ্চারণ যা আমাদের একজন বলিষ্ট মানুষের কথা বলে দেয়। মার্তিগারকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানো এই কবিতা তীর্যতাপূর্ণ এবং নিরুত্তর প্রশ্নে জরজরিত। এর উত্তর আগামীতে আমাদেরই তৈরি করতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যমে।
(আলোচনায় উদ্ধৃত পঙক্তি আজফার হোসেনের অনূদিত ফ্রানসিস্কো মার্তিগারের কবিতা ‘এ কোন যুদ্ধের কথা বলো’ থেকে উদ্ধৃত)
What's Your Reaction?