বইয়ের পাতার গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাশে বাংলাদেশের শিশুরা!
শিশুদের কল্পনার মহাকাশকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প–৩’। বাংলাদেশ এসএসসি ৯৮ ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইপিলিয়ন গ্রুপের সহযোগিতায় শুক্রবার দিনব্যাপী এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে। ক্যাম্পে খুদে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে মহাকাশ বিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা যখন হাতে-কলমে বিজ্ঞানের জটিল সব সমস্যার সমাধান খুঁজছিল, তখন ইনডোর স্টেডিয়ামে তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্টেম (STEM) শিক্ষার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পে অংশ নেয়। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন নাসা (NASA) থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সার্টিফাইড ফ্যাসিলিটেটররা। ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে নানা রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এর মধ্যে ছিল ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণ, মঙ্গল গ্রহে অবতরণের জন্য ‘মার্স ল্যান্ড
শিশুদের কল্পনার মহাকাশকে বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো ‘নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প–৩’। বাংলাদেশ এসএসসি ৯৮ ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইপিলিয়ন গ্রুপের সহযোগিতায় শুক্রবার দিনব্যাপী এই ক্যাম্প আয়োজন করা হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়ামে। ক্যাম্পে খুদে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে মহাকাশ বিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়। শিক্ষার্থীরা যখন হাতে-কলমে বিজ্ঞানের জটিল সব সমস্যার সমাধান খুঁজছিল, তখন ইনডোর স্টেডিয়ামে তৈরি হয় এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও স্টেম (STEM) শিক্ষার আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আয়োজন। ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম থেকে দশম শ্রেণির মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী ক্যাম্পে অংশ নেয়। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন নাসা (NASA) থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সার্টিফাইড ফ্যাসিলিটেটররা।
ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে নানা রোমাঞ্চকর বৈজ্ঞানিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এর মধ্যে ছিল ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (VR) প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশ ভ্রমণ, মঙ্গল গ্রহে অবতরণের জন্য ‘মার্স ল্যান্ডার’ মডেল তৈরি, মহাকাশে পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া, স্পেস এয়ার ফিল্টার তৈরি এবং আলো-ছায়ার সাহায্যে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুধাবন। পাশাপাশি গ্রহের গঠন সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নাসা থেকে পাঠানো সনদপত্র ও বিশেষ টি-শার্ট প্রদান করা হয়।
ক্যাম্পে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজধানীর এজি চার্চ স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছরের সামরীন সাবা নোমান বলে, ‘এই ক্যাম্পে এসে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, যেগুলো এতদিন শুধু বইয়ে পড়েছি। মনে হচ্ছিল সত্যিই মঙ্গল গ্রহে যাচ্ছি।’
সে জানায় ক্যাম্পে অংশ নিয়ে নভোচারীরা যেভাবে মহাকাশে পানি পরিষ্কার করে তা পরীক্ষা করে দেখা, গ্রহণ কীভাবে হয় তা হাতে-কলমে আবিষ্কার, নভোচারীরা যেভাবে মহাকাশে পানি পরিষ্কার করে তা পরীক্ষা করে দেখা, মার্স ল্যান্ডার তৈরি (মঙ্গল গ্রহে নামার জন্য একটি ছোট ল্যান্ডার মডেল তৈরি), স্পেস এয়ার ফিল্টার (মহাকাশের উপযোগী নিজস্ব এয়ার ফিল্টার বানানো), গ্রহ কীভাবে গঠিত হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে মহাকাশে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা লাভ করার সুযোগ পেয়েছে।
অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তুহিনা তানজুম ইতি বলেন, ‘আমাদের ছোটবেলায় মহাকাশ নিয়ে শেখা ছিল কেবল বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এখন আমাদের সন্তানেরা হাতে-কলমে শিখছে—এটা সত্যিই আনন্দের। এমন উদ্যোগ শিশুদের চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।’
ইভেন্ট আয়োজন প্রসঙ্গে নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প সাইট পার্টনার বাংলাদেশের ডিরেক্টর এবং ইপিলিয়ন গ্রুপের সিএসআর বিভাগের এজিএম নাজমুল আহসান স্বরূপ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো মহাকাশ বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোকে শিশুদের কাছে সহজ ও আনন্দদায়ক করে উপস্থাপন করা। নাসা এসিসিপি (NASA ACCP)-এর অফিশিয়াল পার্টনার হিসেবে আমরা গর্বিত যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এখন বিশ্বমানের লার্নিং মডিউলের মাধ্যমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, এর আগে রিয়াজ পাবলিক স্কুলের উদ্যোগে দেশে আরও দুটি নাসা অ্যাস্ট্রো ক্যাম্প সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে।
What's Your Reaction?