বগুড়ায় পাঁচ বছরে ৪০০ খুন

খুনের শহর হিসেবে বগুড়া চিহ্নিত হলেও এবং বছরজুড়ে খুনের আতঙ্ক থাকলেও পরিসংখ্যানে খুনের সংখ্যা কমেছে অনেক। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৫৭টি। অথচ এর আগে ২০২৪ সালে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৯৫টি।  সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় খুনের ঘটনা কমেছে ৩৮টি। অথচ ২০২৩ সালে জেলায় ৭৭টি খুন সংঘটিত হয়। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ৮৯টি এবং ২০২১ সালে খুনের ঘটনা ঘটে ৮২টি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৪০০টি।   উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ায় খুনের ঘটনা কমলেও এক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৫৭টি হত্যাকাণ্ড হয়। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও পারিবারিক কলহ, নানা কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ৫৭টি খুন সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও ১৪টি ডাকাতি ও ৩৫টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া সদর এলাকায় অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি। মোট ১৪টি খুনের ঘটনা রে

বগুড়ায় পাঁচ বছরে ৪০০ খুন

খুনের শহর হিসেবে বগুড়া চিহ্নিত হলেও এবং বছরজুড়ে খুনের আতঙ্ক থাকলেও পরিসংখ্যানে খুনের সংখ্যা কমেছে অনেক। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৫৭টি। অথচ এর আগে ২০২৪ সালে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৯৫টি। 

সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় খুনের ঘটনা কমেছে ৩৮টি। অথচ ২০২৩ সালে জেলায় ৭৭টি খুন সংঘটিত হয়। ২০২২ সালে এই সংখ্যা ৮৯টি এবং ২০২১ সালে খুনের ঘটনা ঘটে ৮২টি। সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে বগুড়ায় খুন হয়েছে ৪০০টি।  

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গুরুত্বপূর্ণ জেলা বগুড়ায় খুনের ঘটনা কমলেও এক বছরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ৫৭টি হত্যাকাণ্ড হয়। তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু করে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও পারিবারিক কলহ, নানা কারণে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। হঠাৎ অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ৫৭টি খুন সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়াও ১৪টি ডাকাতি ও ৩৫টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া সদর এলাকায় অপরাধের হার সবচেয়ে বেশি। মোট ১৪টি খুনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। শাজাহানপুর থানায় ৭টি, শিবগঞ্জ থানায় ৪টি, সোনাতলায় ২টি, গাবতলীতে ৪টি, সারিয়াকান্দিতে ৩টি, আদমদিঘীতে ২টি, দুপচাচিয়ায় ৪টি, নন্দীগ্রামে ৪টি, কাহালুতে ৩টি, শেরপুরে ৭টি এবং ধুনটে ৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

বগুড়ায় কিছু আলোচিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ১ মার্চ বগুড়া সদর সাবগ্রামে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আনোয়ারা বেগম (৫৮) ও তার মেয়ে সকিনাকে (৩৫) হত্যা করা হয়। পারিবারিক মনোমালিন্যকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড বলে পুলিশ জানিয়েছে।

১৫ জুন বগুড়ায় স্কুলছাত্রী মেয়েকে বিয়ে করতে না দেওয়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে শাকিল আহমেদকে (৪০) দলবদ্ধভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

১৬ জুলাই ইসলামপুর হরিগাড়ী রাতে বাড়িতে ঢুকে দুজন নারীকে ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয়, একজন আহত হয়। পরে ডিবি পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে।

১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জে কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী রানী বেগম ও ছেলে ইমরান হোসেনকে ঘরে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশের অভিযানে নিহতের ভাই ও সহযোগী আটক হয়।

২৮ অক্টোবর শহরের সেউজগাড়ী হাবিবুর রহমান খোকনকে (৩৫) দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে, আরেকজন আহত হয়। ৬ নভেম্বর বগুড়ার কাহালু উপজেলায় নেশার টাকার জন্য এক ব্যক্তি তার সৎ বাবাকে খুন করে। 

২৫ নভেম্বর বগুড়ার শাজাহানপুরে ছুটিতে বাড়ি আসা এক সেনাসদস্যের বাসা থেকে তার দুই সন্তানের গলাকাটা ও স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করে পুলিশ। 

বগুড়ার বিশিষ্ট আইনজীবী আব্দুল ওহাব বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের চলাচলের স্বাধীনতা এবং জানমালের নিরাপত্তা পাওয়া সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু বর্তমানে বগুড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে চরম অবনতি ঘটেছে, তাতে সাধারণ মানুষের সেই আইনি সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কর্মতৎপরতা হ্রাস পাওয়ায় অপরাধীরা বিচারহীনতার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে মানুষ সন্ধ্যার পর রাস্তায় বের হতে এবং দিনের বেলাতেও একা চলতে নিরাপত্তা বোধ করছে না।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ প্রবণতা দমনে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান সক্রিয়তা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই বিশৃঙ্খলা থামানো সম্ভব হবে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন জানান, বর্তমানে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এর কারণ হিসেবে তিনি সামাজিক অবক্ষয়কে দায়ী করেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকার এর দায় এড়াতে পারে না। 

তিনি আরও জানান, বগুড়ার খুনের ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষকে একটি ভীতির পরিবেশের মধ্যে রেখেছে।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধসহ নানা কারণে সম্প্রতি হত্যার ঘটনা বেড়েছে। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছে এবং রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। শুধুমাত্র পুলিশ প্রশাসন কঠোর হলে এসব অপরাধ দমন সম্ভব নয়। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করি শিগগির এ ধরনের অপরাধ কমে যাবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow