বগুড়ায় বাসচাপায় নিহত ৭, তদন্ত কমিটি গঠন
বগুড়া শহরের এরুলিয়ায় দিনমজুরদের হাটে যাত্রীবাহী বাস ওঠে যাওয়ায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া সদরের ফাপোঁড় মধ্যপাড়া গ্রামের বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পাবর্তীপুর গ্রামের আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি উপজেলার আমিরপুর গ্রামের আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বইল গ্রামের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. তাজিমুল (৪৭)।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার ভোরে এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছিলেন দিনমজুররা। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে
বগুড়া শহরের এরুলিয়ায় দিনমজুরদের হাটে যাত্রীবাহী বাস ওঠে যাওয়ায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বগুড়া সদরের ফাপোঁড় মধ্যপাড়া গ্রামের বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার পাবর্তীপুর গ্রামের আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি উপজেলার আমিরপুর গ্রামের আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বইল গ্রামের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. তাজিমুল (৪৭)।
জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার ভোরে এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে কাজের সন্ধানে জড়ো হয়েছিলেন দিনমজুররা। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় মোট সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মাসুদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন- জেলা পুলিশের একজন প্রতিনিধি এবং সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৌফিকুর রহমান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্ঘটনাস্থলে ইতোমধ্যে স্পিডব্রেকার (গতিরোধক) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য সরকারি বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা আজই পৌঁছে দেওয়া হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আহত শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। চিকিৎসাধীনদের জন্য রক্তের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নিতে যান প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডাক্তার মনোয়ারুল কাদির বিটু।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই অ্যাক্সিডেন্টের খবরে অনেক উদ্বিগ্ন। আমি খবর পেয়েই দ্রুত এখানে ছুটে এসেছি। আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। আইসিইউতে থাকা একজনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। চিকিৎসাধীন আরেকজনের মাথার আঘাত এতটা যে তার জ্ঞানের মাত্রা খুব কম।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক আরও জানান, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন, দেওয়া হয়েছে। ওষুধপত্র যা লাগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দেখবে এবং রক্তের প্রয়োজন হলেও সেটার জোগান এখান থেকে দেওয়া হবে। প্রয়োজন অনুসারে রোগীদের ঢাকায় রেফার করা হবে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
বগুড়া সদর থানার কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা দেয় এবং শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা যান।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।