বগুড়ায় স্কুলে ঢুকে তাণ্ডব, ঠিকাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভাঙচুর এবং ঠিকাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভুক্তভোগী ঠিকাদার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত মো. পিয়াস রহমান (৩০) নিজেকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ করছে এম,এস-জি এ এন কন্সট্রাকশন নামীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসের ১৮ তারিখ সকালে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত পিয়াস রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে হুট করে বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন। বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভিন নাহার সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, আমরা সবাই স্কুলেই ছিলাম। হঠাৎ একটা লোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে স্কুলের নতুন গাঁথা ইটগুলো একদম ভেঙে দিল। ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাশেই ছিল, সবাই আতঙ্কে ভয় পেয়ে গেছে। এটা তো একটা শিক্ষ

বগুড়ায় স্কুলে ঢুকে তাণ্ডব, ঠিকাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভাঙচুর এবং ঠিকাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নির্মাণশ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভুক্তভোগী ঠিকাদার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযুক্ত মো. পিয়াস রহমান (৩০) নিজেকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ করছে এম,এস-জি এ এন কন্সট্রাকশন নামীয় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত মে মাসের ১৮ তারিখ সকালে ক্লাস চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত পিয়াস রহমান ও তার ৩-৪ জন সহযোগী মোটরসাইকেল নিয়ে হুট করে বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর ঢুকে পড়েন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভিন নাহার সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলে, আমরা সবাই স্কুলেই ছিলাম। হঠাৎ একটা লোক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে স্কুলের নতুন গাঁথা ইটগুলো একদম ভেঙে দিল। ৭ম ও ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাশেই ছিল, সবাই আতঙ্কে ভয় পেয়ে গেছে। এটা তো একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কোনো গুন্ডাদের আড্ডাখানা না। আমরা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।

বিপুল চন্দ্র সরকার নামে এক শিক্ষক জানান, হামলাকারী ব্যক্তি কোনো কথা না বলেই বারান্দার রেলিংয়ের জন্য সবেমাত্র গেঁথে রাখা ইটগুলো লাথি মেরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং সিমেন্ট নষ্ট করে ফেলে। বাধা দিতে গেলে রাজমিস্ত্রি ও শ্রমিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আকস্মিক এ মাস্তানি ও ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রীরা ভয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে এবং দুই ছাত্রী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ঠিকাদার মো. নয়ন ইসলাম জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে তিনি সুশৃঙ্খলভাবে সেখানে কাজ করে আসছেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে পিয়াস রহমান নিজেকে রাজনৈতিক নেতা পরিচয় দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হয়।

নয়ন ইসলাম বলেন, ওরা আমাকে বলে, এখানে কাজ করতে হলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া লাগবে। আমি রাজি না হওয়ায় কাজের সাইটে এসে রাজমিস্ত্রিদের গায়ে হাত তোলে এবং সব ভাঙচুর করে। এখন আমাকে এলাকা ছাড়া করার এবং প্রয়োজনে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

গুজিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তুজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। এসে শুনি পিয়াস নামের ওই ছেলেটি এসে দেয়ালের গাঁথনিগুলো লাথি দিয়ে ভেঙে ফেলেছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে ঠিকাদারের সঙ্গে আমার আর্থিক লেনদেন আছে, আমার সঙ্গে না বসলে ওকে কাজ করতে দেব না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসে এমন বর্বর আচরণ ন্যক্কারজনক। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, গুজিয়া স্কুলের ঘটনার প্রেক্ষিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

এল.বি/কেএইচকে/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow