বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলবেন রশিদ খান

পিঠের ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। নিজের ক্যারিয়ার বাঁচাতে বছরে মাত্র ১টি টেস্ট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে পিঠের চোটের পর থেকেই তিনি লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে সীমিত রাখার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। আফগানিস্তান দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রশিদ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলেছেন। ২০২৬ সালেও একটি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা থাকলেও, ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রশিদ জানান, অতীতে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার ফলেই তাকে এখন সতর্ক হতে হচ্ছে। তিনি স্মৃতিচারণ করেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে খেলা একটি টেস্ট ম্যাচের কথা, যেখানে তিনি একাই দুই ইনিংসে মোট ৫৫ ওভার (বা প্রায় ৬৭ ওভার) বল করেছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করেই তিনি সেই ম্যাচে খেলেছিলেন। রশিদ বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, যদি আমি দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু আমি তখনও খ

বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলবেন রশিদ খান

পিঠের ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছেন আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রশিদ খান। নিজের ক্যারিয়ার বাঁচাতে বছরে মাত্র ১টি টেস্ট খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালে পিঠের চোটের পর থেকেই তিনি লাল বলের ক্রিকেটে নিজেকে সীমিত রাখার পরিকল্পনা করেছেন, যেখানে বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার।

আফগানিস্তান দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক রশিদ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলেছেন। ২০২৬ সালেও একটি টেস্ট খেলার সম্ভাবনা থাকলেও, ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রশিদ জানান, অতীতে অতিরিক্ত চাপ নেওয়ার ফলেই তাকে এখন সতর্ক হতে হচ্ছে। তিনি স্মৃতিচারণ করেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে খেলা একটি টেস্ট ম্যাচের কথা, যেখানে তিনি একাই দুই ইনিংসে মোট ৫৫ ওভার (বা প্রায় ৬৭ ওভার) বল করেছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অমান্য করেই তিনি সেই ম্যাচে খেলেছিলেন।

রশিদ বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে বলেছিলেন, যদি আমি দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হবে। কিন্তু আমি তখনও খেলেছি। পরে যখন তিনি জানলেন আমি এত ওভার বল করেছি, তিনি বিস্মিত হন এবং বলেন- এভাবে নিজের ক্ষতি করা ঠিক না।’

প্রথমদিকে চোট ধরা পড়ার পরও ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের কথা ভেবে অস্ত্রোপচার না করানোর সিদ্ধান্ত নেন রশিদ; কিন্তু এতে তার পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়ে এবং শারীরিক যন্ত্রণাও বাড়ে। তাই এখন তিনি খেলায় নিজের সময় ও চাপ- দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান।

তিনি আরও জানান, ‘আমি ইতোমধ্যে একটি টেস্ট খেলেছি, তাই এখন একটু ধীরে এগোতে চাই। সামনে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চাই। টেস্টে যদি আবার চোট পাই, তাহলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য না থাকাও তার সিদ্ধান্তের একটি কারণ। রশিদের ভাষায়, ‘আমি তো ১০০টা টেস্ট খেলতে পারব না। বছরে একটি করে খেললে ১০০ বছর লাগবে! আর আমাদের মতো দলের জন্য টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বড় লক্ষ্যও নেই।’

বর্তমানে তার মূল ফোকাস সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে দীর্ঘ সময় খেলার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। ‘ওয়ানডে আমি উপভোগ করি এবং এই ফরম্যাটে দীর্ঘদিন খেলতে চাই। তবে নিজেকে সতর্ক রাখতে হবে, যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে‘- বলেন রশিদ।

সম্প্রতি আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তিনি। গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।

২০১৮ সালে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৬টি টেস্ট খেলেছেন রশিদ খান। এতে তিনি ২০.৪৪ গড়ে নিয়েছেন ৪৫টি উইকেট- যা তার সামর্থ্যেরই প্রমাণ। তবে নিজের ফিটনেস ও ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করতেই এখন টেস্ট ক্রিকেটে সংযমী হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন এই বিশ্বমানের স্পিনার।

আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow