সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত মঙ্গলবারই ভেঙে গেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। সেদিনই তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা সমালোচনা চলছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান বোর্ডকে ঘিরে।
এই সময়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনও। তাকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে এসব বিষয়ে মুখ খুলেছেন কোয়াব সভাপতি। তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন বলেন, ‘এটা আসলে একটা পরিকল্পিত বিষয়, একটা বাহিনী, বট বাহিনী বলেও যেটার কথা কিছুদিন আগে শুনেছি। তামিম ভাই নিজেও এ বিষয়ে বলেছিলেন। তাদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এসব কাজ করানো হচ্ছে। তবে আমার মনে হয় না, এটা সফল হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা হলো ক্রিকেট। তামিম ভাই প্রথম দিন সংবাদ সম্মেলনে এসেই বলেছিলেন, ক্রিকেটের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে সেটি ফিরিয়ে আনাই তার প্রথম লক্ষ্য।’
‘বট’ শব্দটি এসেছে ‘রোবট’ থেকে। এটি আসলে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার, যেটি মানুষের মতো আচরণ করে সোস্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘোরাঘুরি করে, পোস্ট দেয়, কমেন্ট করে, শেয়ার করে। কিন্তু এগুলোর পেছনে কোনো মানুষ থাকে না, থাকে কোড আর অ্যালগরিদম। এইসব বটকে যখন একসঙ্গে অনেক সংখ্যায় ব্যবহার করা হয় কোনো একটি উদ্দেশ্য সফল করার জন্য, তখন তাকে বলা হয় 'বট বাহিনী'।
তবে মিঠুন মনে করেন এসব বট বাহিনী কর্তৃক কোন উদ্দেশ্যই সফল হবে না। তার ভাষ্যমতে, ‘আসলেই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ক্রিকেটারদের যে ভাবমূর্তি ছিল, এখন সেটা আগের জায়গায় নেই। আমরা বেশিরভাগই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করি। সেখানে অনেকেই পুরো বিষয়টা না বুঝেই মন্তব্য করে বসে। কেউ একটা নেতিবাচক মন্তব্য করলেই অনেকে সেটা দেখে না বুঝেই আরেকটা নেতিবাচক মন্তব্য করে। কিন্তু সেই মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, সেটি অনেকেই ভাবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের একটা চর্চা এখন দেখা যাচ্ছে। অনেকের কাছেই বিষয়টি পরিষ্কার যে এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে। কিন্তু আমার মনে হয় না এই চেষ্টা সফল হবে। কারণ বাংলাদেশের মানুষ যতই কষ্ট পাক, দিন শেষে তারা আবার মাঠে আসে, খেলা দেখে, খেলোয়াড়দের সম্মান করে এবং তাদের সঙ্গে মিশতে চায়।’