বনি ইসরাইল অভিশপ্ত হওয়ার ১০ কারণ

মুসলিম জাতির পিতা নবী হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তাঁর ছেলে ইসহাক আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন। ইসহাক আলাইহিস সালামের ছেলে ইয়াকুব আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন। তাঁর আরেক নাম ছিল ইসরাইল। তাই তাঁর বংশধররাই বনি ইসরাইল বা ইসরাইলের সন্তান নামে পরিচিত। এই বংশেই আগমন ঘটে নবী হজরত মুসা আলাইহিস সালামের। তাঁর অনুসারী হিসেবে বনি ইসরাইল ইহুদি নামে পরিচিত পেয়েছে। তারা এক সময় সঠিক আসমানী ধর্মের অনুসারী হলেও ইসলাম আগমনের পর অন্য সব আসমানী ধর্ম রহিত হয়ে যায় এবং একমাত্র ইসলামকেই মনোনীত ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন আল্লাহ তায়ালা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সুরা মায়িদা : ৩) ইসলামের ইতিহাসে বনি ইসরাইলরা অভিশপ্ত জাতি হিসেবে পরিচিত। কোরআনে এসেছে, আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম ও ইসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলের অবিশ্বাসীদের অভিশাপ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, বননি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ইসার মুখে লা’নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন ক

বনি ইসরাইল অভিশপ্ত হওয়ার ১০ কারণ

মুসলিম জাতির পিতা নবী হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। তাঁর ছেলে ইসহাক আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন। ইসহাক আলাইহিস সালামের ছেলে ইয়াকুব আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন।

তাঁর আরেক নাম ছিল ইসরাইল। তাই তাঁর বংশধররাই বনি ইসরাইল বা ইসরাইলের সন্তান নামে পরিচিত। এই বংশেই আগমন ঘটে নবী হজরত মুসা আলাইহিস সালামের। তাঁর অনুসারী হিসেবে বনি ইসরাইল ইহুদি নামে পরিচিত পেয়েছে।

তারা এক সময় সঠিক আসমানী ধর্মের অনুসারী হলেও ইসলাম আগমনের পর অন্য সব আসমানী ধর্ম রহিত হয়ে যায় এবং একমাত্র ইসলামকেই মনোনীত ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন আল্লাহ তায়ালা। ইরশাদ হয়েছে, ‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম।’ (সুরা মায়িদা : ৩)

ইসলামের ইতিহাসে বনি ইসরাইলরা অভিশপ্ত জাতি হিসেবে পরিচিত। কোরআনে এসেছে, আল্লাহর নবী দাউদ আলাইহিস সালাম ও ইসা আলাইহিস সালাম বনি ইসরাইলের অবিশ্বাসীদের অভিশাপ দিয়েছেন।

ইরশাদ হয়েছে, বননি ইসরাইলের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তাদেরকে দাউদ ও মারইয়াম পুত্র ইসার মুখে লা’নত করা হয়েছে। তা এ কারণে যে, তারা অবাধ্য হয়েছে এবং তারা সীমালঙ্ঘন করত। (সুরা মায়েদা : ৭৮)

এ আয়াতে অভিশপ্ত হওয়ার কারণ হিসেবে তাদের অবাধ্যতা ও বাড়াবাড়ির কথা বলা হয়েছে। পরের দুটি আয়াতে আরও কিছু কারণ উল্লেখ করে আল্লাহ বলেছেন, তারা যে অন্যায় কাজ করেছিল তা থেকে একে অপরকে নিষেধ করতে না; তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত গর্হিত। তুমি তাদের অনেককে দেখবে, তারা কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করছে; যে কাজ তারা ভবিষ্যতের জন্য করেছে তা নিঃসন্দেহে মন্দ, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। ফলে তারা আজাবে চিরকাল থাকবে। (সুরা মায়েদা : ৭৯-৮০)

এদিকে, সুরা নিসার ১৫৫-১৬১ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বনি ইসরাইলের ওপর ক্রোধ ও অভিশাপের ১০টি কারণ উল্লেখ করেছেন।

সংক্ষেপে কারণগুলো হলো—

১. ব্যাপক পাপাচার

২. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ করতে মানুষকে বাঁধা দেওয়া

৩. তাদের ধর্মে সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও সুদ খাওয়া

৪. অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করা

৫. অঙ্গীকার ভঙ্গ করা

৬. নবীদের হত্যা করা

৭. আল্লাহর প্রেরিত ধর্ম গ্রহণ না করে অজুহাত দেওয়া যে, আমাদের অন্তর তালাবদ্ধ, নতুন কোনো ধর্ম গ্রহণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

৮. কুফরি করা

৯. মারিয়াম আলাইহিস সালামের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেওয়া।

১০. ইসা আলাইহিস সালামকে শূলে বিদ্ধ করে হত্যার মিথ্যা দাবি করা।

উল্লেখ্য, বনি ইসরাইলের অবাধ্যতার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য একটি ঘটনা হলো ‘শনিবারের বিধান লঙ্ঘন’। তাওরাতে বনি ইসরাইলের প্রতি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, শনিবার (ইয়াওমুস সাবত) দিনটি সম্পূর্ণভাবে ইবাদত-বন্দেগির জন্য নির্ধারিত থাকবে। এ দিনে দুনিয়াবি কাজকর্ম, বিশেষ করে মাছ শিকার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এটি ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তাদের জন্য একটি বিশেষ পরীক্ষা। 

কিন্তু বনি ইসরাইলের একদল মানুষ এই নির্দেশকে সরাসরি অমান্য না করার ভান করে চাতুরী ও অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা শনিবার দিনে প্রকাশ্যে মাছ শিকার না করলেও সেদিনই জাল ও গর্ত বসিয়ে রাখত, যাতে মাছ আটকা পড়ে যায়; এরপর রবিবার তা তুলে নিত। বাহ্যিকভাবে তারা শরিয়তের বিধান মানছে মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তারা আল্লাহর আদেশের সঙ্গে প্রতারণা করছিল। এই অবাধ্যতা ও ধোঁকাবাজির পরিণতিতে আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ভয়াবহ শাস্তি নাজিল করেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর অবশ্যই তোমরা জানো তাদের কথা, যারা তোমাদের মধ্য থেকে শনিবারের বিধান লঙ্ঘন করেছিল। অতঃপর আমি তাদের বলেছিলাম তোমরা লাঞ্ছিত বানরে পরিণত হও।’ (সুরা বাকারা : ৬৫)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow