বনিবনা হচ্ছে না ট্রাম্প-পুতিনের, কোন দিকে যাচ্ছে পরিস্থিতি?

23 hours ago 4

ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মার্কিন প্রস্তাব মানতে নারাজ রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সের্গেই রিয়াভকভ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে কিয়েভের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি মানা সম্ভব নয় মস্কোর। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ম্যাগাজিনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মস্কো মনে করে, মার্কিন প্রস্তাবে রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো রাখা হয়নি। যে কারণে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেই বিষয়গুলো এই প্রস্তাবে নেই। ফলে এ প্রস্তাব মানা সম্ভব নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ক্রেমলিনকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি রাশিয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব না মানলে মস্কোর তেল রপ্তানির ওপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করারও হুমকি দেয় ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন আলোচনা এখনও কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।

সের্গেই রিয়াভকভ বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন-ইউক্রেনীয় যৌথ পরিকল্পনায় উত্থাপিত ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পুতিন আগেই বলেছেন, শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পদ থেকে অপসারণ করা উচিত।

রোববার ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, তিনি আশা করেছিলেন রাশিয়ান নেতা একটি শান্তি চুক্তির জন্য আন্তরিক হবেন। তবে পুতিন জেলেনস্কির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানানোয় তিনি বিরক্ত। অন্যদিকে ক্রেমলিন বলছে, পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলতে প্রস্তুত রয়েছে তবে যুদ্ধবিরতির জন্য অবশ্যই রাশিয়ার উদ্বেগের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। 

রিয়াভকভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিন্তু মস্কো ট্রাম্প বা ইউক্রেনের কাছ থেকে এমন কোনও সংকেত দেখতে পাচ্ছে না যা ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বাইরে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। 

সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধবিরতির মার্কিন পরিকল্পনায় আমাদের মূল দাবির কোনো স্থান নেই। সুতরাং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলি’ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না এবং প্রকৃতপক্ষে সমস্যাগুলির কোনো সমাধান ভাবা হচ্ছে না। রাশিয়ান কর্মকর্তারা বারবার ‘মূল কারণ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যার অর্থ রাশিয়া ইউক্রেনের দখল করা এলাকাগুলো ছাড়বেনা এবং ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ চাওয়া থেকে সরে আসতে হবে। 

পুতিন এবং ট্রাম্প যখন ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলো নিয়ে একমত হতে পারছেন না তখন স্বভাবতই যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে কি ট্রাম্পও হারবেন পুতিনের জেদের কাছে! ইউক্রেনও বা কী করবে এখন? কিয়েভের সামনে একমাত্র পথ হতে পারে পুতিনের চাওয়া মত জেলেনস্কিকে সরিয়ে দেওয়া এবং ন্যাটো বিড ত্যাগ করা। 

Read Entire Article