বনের সেই কিশোর থেকে ফাইনালে ওঠার নায়ক
২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের এক বনের মধ্যে ইংরেজি শেখার ক্যাম্পে ছিলেন ছোট্ট রদ্রি। সেখানে ছিল না মোবাইল নেটওয়ার্ক, ছিল না ইন্টারনেট। স্পেনের ম্যাচের খবর পেতেন ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়কদের কাছে আসা বার্তা থেকে। ফাইনালের দিন অনেক অনুরোধ করে ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা গোল করতেই আনন্দে বনের ভেতর দৌড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। আশপাশের কেউ বুঝতেই পারেনি, কেন ছেলেটি এতটা উচ্ছ্বসিত! ১৬ বছর পর সেই ছেলেটিই এখন স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রি ফিরে গিয়েছিলেন সেই স্মৃতিতে। তবে স্মৃতিচারণের চেয়েও বড় ছিল তার বিশ্বাস-এই স্পেনও ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত। রদ্রির কাছে ২০১০ সালের স্পেন এখনও সর্বকালের সেরা দল। কারণ তাদের কীর্তি এখনো কেউ ছুঁতে পারেনি। রদ্রির ভাষায়, ‘আমি বলব না আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারব। আমার বিশ্বাস, ওরাই সর্বকালের সেরা প্রজন্ম। টানা দুটি ইউরো আর একটি বিশ্বকাপ-এমন কীর্তি আর কেউ করতে পারেনি। আমরা তাদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে চাই না। আমরা নিজেদে
২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের এক বনের মধ্যে ইংরেজি শেখার ক্যাম্পে ছিলেন ছোট্ট রদ্রি। সেখানে ছিল না মোবাইল নেটওয়ার্ক, ছিল না ইন্টারনেট। স্পেনের ম্যাচের খবর পেতেন ক্যাম্পের তত্ত্বাবধায়কদের কাছে আসা বার্তা থেকে।
ফাইনালের দিন অনেক অনুরোধ করে ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেছিলেন। আর আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা গোল করতেই আনন্দে বনের ভেতর দৌড়াতে শুরু করেছিলেন তিনি। আশপাশের কেউ বুঝতেই পারেনি, কেন ছেলেটি এতটা উচ্ছ্বসিত!
১৬ বছর পর সেই ছেলেটিই এখন স্পেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের একজন। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রদ্রি ফিরে গিয়েছিলেন সেই স্মৃতিতে। তবে স্মৃতিচারণের চেয়েও বড় ছিল তার বিশ্বাস-এই স্পেনও ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত।
রদ্রির কাছে ২০১০ সালের স্পেন এখনও সর্বকালের সেরা দল। কারণ তাদের কীর্তি এখনো কেউ ছুঁতে পারেনি। রদ্রির ভাষায়, ‘আমি বলব না আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে যেতে পারব। আমার বিশ্বাস, ওরাই সর্বকালের সেরা প্রজন্ম। টানা দুটি ইউরো আর একটি বিশ্বকাপ-এমন কীর্তি আর কেউ করতে পারেনি। আমরা তাদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতে চাই না। আমরা নিজেদের পথেই হাঁটছি। নেশনস লিগ জিতেছি, ইউরো জিতেছি। এবার আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-বিশ্বকাপ জেতা। আমি বিশ্বাস করি, এই দল সেই ধাপটা পেরোনোর জন্য প্রস্তুত।’
সেই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তিটাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আমরা অনেক বছর ধরে এই মুহূর্তের জন্য কাজ করছি। এমন মানসিকতা গড়ে তুলেছি, যাতে বিশ্বকাপ জেতার মতো প্রস্তুত থাকতে পারি। যদি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারি, তাহলে ইতিহাসের বিশেষ জায়গায় নিজেদের নাম লিখতে পারব।’
রদ্রির ভাষায়, এই স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি কোনো একক তারকা নন, পুরো দল, ‘আমি সবসময় একটা কথা বলি-আমরা ছোট দলের মতো দৌড়াই, কিন্তু বড় দলের মতো খেলি। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আমাদের এই পরিচয়টাই গড়ে দিয়েছেন। আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করি, সবসময় বিনয়ী থাকি এবং যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকি। মাঠে যে-ই নামুক না কেন, সবাই শেখার জন্য প্রস্তুত থাকে। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমরা একসঙ্গে খেলি। বড় কিছু অর্জন করতে হলে এটাই একমাত্র পথ।’
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যেন নিজের প্রতিটি কথারই বাস্তব প্রমাণ দিলেন রদ্রি। পুরো টুর্নামেন্টে ভয় ধরানো ফ্রান্সকে মাঝমাঠেই থামিয়ে দেয় স্পেন। এমবাপে, দেম্বেলে কিংবা ফরাসি মিডফিল্ড-কেউই নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাননি। স্পেনের পজিশনাল ফুটবল, বল হারানোর পর মুহূর্তেই কাউন্টার-প্রেসিং, আর প্রতিপক্ষকে মাঝমাঠেই শ্বাসরোধ করে ফেলার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন রদ্রি।
ফরাসি প্রেসের মাঝেও বারবার নিজেকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখান থেকে সহজেই বল পাস দেওয়া যায়। এক পাস, দুই পাস, তিন পাস-দেখতে যতটা সহজ, বাস্তবে ততটাই কঠিন। সেই সরলতার মধ্যেই ছিল অসাধারণত্ব। স্পেনের আক্রমণের ছন্দ, বলের নিয়ন্ত্রণ, ম্যাচের গতি-সবকিছুই যেন তার পায়ের ছোঁয়ায় পরিচালিত হয়েছে।
ম্যাচ শেষে অনেক বিশ্লেষকই বলেছেন, ফ্রান্সকে হারানোর একটাই পথ ছিল-তাদের বলের পেছনে ছোটাতে বাধ্য করা। স্পেন সেটাই করেছে। আর সেই পরিকল্পনার প্রাণ ছিলেন রদ্রি।
বিশ্বকাপের আগে রদ্রি আরও বলেছিলেন, দলে ব্যক্তির চেয়ে সমষ্টির মূল্যই সবচেয়ে বেশি, ‘এই দলের সাফল্যের রহস্যই হলো, আমরা ব্যক্তির আগে দলকে রাখি। এখানে কেউ কারও চেয়ে বড় নয়। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমরা কোনো একজনকে কেন্দ্র করে খেলি না। আমরা দল হিসেবে খেলি এবং একে অন্যের শক্তিকে কাজে লাগাই। এটাই আপনাকে জয়ের সবচেয়ে কাছে নিয়ে যায়।’
ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল সেই দর্শনেরই প্রতিফলন। কুকুরেয়া, দানি ওলমো, রক্ষণভাগ থেকে শুরু করে মাঝমাঠ-প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন নিখুঁতভাবে। শেষদিকে স্পেনের ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাসী পাস বিনিময়ও বুঝিয়ে দিয়েছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের হাতেই।
রদ্রির জন্য বিশ্বকাপের গুরুত্বও অন্য সব ট্রফির চেয়ে আলাদা, ‘বিশ্বকাপ জেতা হলে সেটাই হবে আমার ক্যারিয়ারের সেরা অর্জন। এর চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না। একজন ফুটবলারের জন্য বিশ্বকাপই সর্বোচ্চ স্বপ্ন।’
একসময় বনের ভেতরে দাঁড়িয়ে ইনিয়েস্তার গোল দেখে আনন্দে দৌড়ানো সেই কিশোর আজ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় ভরসা। স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝে ১৬ বছরের ব্যবধান। কিন্তু রদ্রির গল্পটা যেন একই জায়গায় এসে মিলেছে-২০১০ সালে তিনি বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী ছিলেন, আর ২০২৬ সালে সেই ইতিহাসের অংশ হওয়ার অপেক্ষায়।
এসকেডি/এমএমআর
What's Your Reaction?