বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা ঠেকাতে মন্ত্রীকে চিঠি চট্টগ্রাম চেম্বারের

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা প্রতিরোধে এবং জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার। বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক সই করা এক চিঠিতে মন্ত্রীকে এ  অনুরোধ জানানো হয়। দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগী ও চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয় মন্ত্রীকে চিঠিতে। চিঠিতে বলা হয়, ‘গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এসব ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় কোস্ট গার্ড ও বন্দরকে অবহিত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।’ চিঠির আরেক অংশে উল্লেখ

বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা ঠেকাতে মন্ত্রীকে চিঠি চট্টগ্রাম চেম্বারের

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জলদস্যুতা প্রতিরোধে এবং জাহাজের নিরাপত্তা জোরদারের অনুরোধ জানিয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক সই করা এক চিঠিতে মন্ত্রীকে এ  অনুরোধ জানানো হয়।

দেশে বিনিয়োগবান্ধব ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্রেড পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে কোস্টগার্ডের টহল আরও জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধিসহ অপরাধী চক্রের সহযোগী ও চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয় মন্ত্রীকে চিঠিতে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘গত এক মাসের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে জলদস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল, জাহাজের সরঞ্জাম ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ লুট হয়েছে। এসব ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় কোস্ট গার্ড ও বন্দরকে অবহিত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। এতে বিদেশি জাহাজের মালিক, শিপিং এজেন্ট এবং নাবিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।’

চিঠির আরেক অংশে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বর্তমান সরকারের নানামুখী বাস্তব উদ্যোগের ফলে ২০৩৫ সাল নাগাদ চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং ক্যাপাসিটি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

একই সঙ্গে বন্দরটি এ অঞ্চলের অন্যতম রিজিওনাল বিনিয়োগ ও ট্রান্সমোডাল লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জলদস্যুতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। ফলে বন্দরের বহির্নোঙরে নিরাপত্তাহীনতা শুধু শিপিং শিল্পের জন্য নয় বরং জাতীয় অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

এসব ঘটনার কারণে বিদেশি শিপিং অপারেটরদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বিমাব্যয়, জাহাজ পরিচালনায় বিলম্ব এবং বাণিজ্যব্যয় বৃদ্ধি করতে পারে। যেখানে সরকার ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বাড়ানো এবং ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে এ ধরনের ঘটনা সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে চিঠিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা-রিজিওনাল কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট অন কমবেটিং পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইনস্ট শিপস ইন এশিয়ার (রিক্যাপ) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো প্রকার দস্যুতা বা চুরির ঘটনা ঘটেনি।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশের জলসীমায় যখন চুরি ও দস্যুতার ঘটনা চলমান, তখন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ তৎপরতা এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে এই সাফল্য এসেছে বলে আমরা মনে করি। কিন্তু সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলো রিক্যাপ প্রতিবেদনে প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম নষ্ট হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অনস্বীকার্য।’

তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সংগঠিত ঘটনাগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও নাবিকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিকমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিং অতীব জরুরী বলে চিঠিতে মতামত ব্যক্ত করা হয়।

এমডিআইএইচ/বিএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow