বন্ধ ৩ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, শহরে বর্জ্যের পাহাড় 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ হস্তান্তরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। ফলে পৌর এলাকার মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় তৈরি হয়েছে বর্জ্যের পাহাড়। এতে চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার জনসংখ্যা ১৭ হাজার ১৬৮ জন। পৌর শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য ও মানব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২ দশমিক এক একর জমিতে নেওয়া হয় ‘পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টার্ন’ ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্ল্যান্টটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে হস্তান্তরের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও লোকবল সংকট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্ল্যান্টটি কার্যকর

বন্ধ ৩ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট, শহরে বর্জ্যের পাহাড় 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভায় প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ হস্তান্তরের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি। ফলে পৌর এলাকার মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন একটি আবাসিক এলাকায় তৈরি হয়েছে বর্জ্যের পাহাড়। এতে চরমভাবে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার জনসংখ্যা ১৭ হাজার ১৬৮ জন। পৌর শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য ও মানব বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২ দশমিক এক একর জমিতে নেওয়া হয় ‘পানি সরবরাহ ও মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ ইনভাইরনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প।

প্রকল্পের আওতায় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ২ কোটি ৯৮ লাখ ৪৩ হাজার ১৬১ টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত কঠিন ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট’ নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘টার্ন’ ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি প্ল্যান্টটি পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।

তবে হস্তান্তরের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও লোকবল সংকট ও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্ল্যান্টটি কার্যকর করা যায়নি। ফলে পৌরসভায় বর্জ্য পরিবহনের জন্য ৫টি সিএনজিচালিত অটোভ্যান, ২টি মিনি ট্রাক ও মানব বর্জ্য পরিবহনের জন্য ২টি ট্যাংকার থাকলেও সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এর ফলেই মীরগঞ্জ বাজারের আবাসিক এলাকায় জমছে বর্জ্যের স্তূপ এবং বাজারের মাঝপথের ড্রেন পরিণত হয়েছে ময়লার ভাগাড়ে।

প্ল্যান্ট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানব বর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে সুপেয় পানি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত। ছাঁকনির মাধ্যমে মানব বর্জ্য পরিশোধন হয়ে তিন স্তরের পাথর ও মোটা বালুর ফিল্টার ট্যাংক পেরিয়ে বিশুদ্ধ পানিতে রূপান্তরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পৃথক একটি ভবনে কঠিন বর্জ্য থেকে জৈবসার উৎপাদনের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে। সেখানে বর্জ্য বাছাই করে লোহালক্কড়, প্লাস্টিক ও পচনশীল অংশ আলাদা করে জৈবসার উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে ৫–৬ মাস প্ল্যান্টটি চালানোর পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে জমে থাকা বর্জ্য প্ল্যান্ট এলাকাতেই পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে নির্গত ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হলেও তা বন্ধ থাকায় উল্টো ক্ষতি হচ্ছে। ময়লা পোড়ানোর ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু ও বয়স্করা। দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর দাবি জানান তারা।

প্ল্যান্টে কর্মরত সিএনজিচালিত অটোভ্যান চালক মহসিন আলী বলেন, ৫–৬ মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হলেও এখন লোকবলের অভাবে পুরোপুরি বন্ধ ৫টি সিএনজি ভ্যানে আমরা বর্জ্য পরিবহন করি। কিন্তু ২টি মিনি ট্রাক ও ২টি ট্যাংকার থাকলেও চালক একজনই। তাই বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ বন্ধ রেখে শুধু শহর ও হাট-বাজারের ময়লা আনা হচ্ছে। বর্জ্য বেশি হওয়ায় এখন পুড়িয়ে ফেলতে হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. খোকন রানা কালবেলাকে বলেন, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্ল্যান্টটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও জনবল সংকটের কারণে এখনো আমাদেরই তদারকি করতে হচ্ছে। বেতন-ভাতাও আমরা দিচ্ছি। পরীক্ষামূলকভাবে জৈবসার উৎপাদন হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত আমরা দায়িত্বে থাকব। এরপর পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

প্ল্যান্টটি কবে পুরোপুরি চালু হবে— এমন প্রশ্নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ঈফফাত জাহান তুলি কালবেলাকে বলেন, লোকবল সংকটের কারণে প্ল্যান্টটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্বাচন শেষে কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে কীভাবে দ্রুত চালু করা যায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow