বরখাস্ত হয়েও স্বপদে বহাল প্রকৌশলী জামানুর  

দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী সহকর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের দায়ে একাধিকবার শাস্তি পেয়েও দমে যাননি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে এসে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, জামানুর রহমান পাবনা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পাবনার সুজানগরে ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশ (পেইড ওয়াটার এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন) প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের সমস্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন তিনি। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জামানুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল।  মামলার তথ্যমতে, ২০২২ সালে জুলাই মাসে প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সেই অভিযোগ তদন্ত করতে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ওই কমিটি তার ভুয়া বিল দিয়ে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের বিষয়টির প্রমাণ পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত কর

বরখাস্ত হয়েও স্বপদে বহাল প্রকৌশলী জামানুর  

দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং নারী সহকর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের দায়ে একাধিকবার শাস্তি পেয়েও দমে যাননি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফরিদপুর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমান। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে স্বপদে ফিরে এসে তিনি আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সূত্রমতে, জামানুর রহমান পাবনা সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকা অবস্থায় ব্যাপক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। পাবনার সুজানগরে ‘আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশ (পেইড ওয়াটার এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন) প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রকল্পের সমস্ত টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন তিনি। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জামানুর রহমানকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। 

মামলার তথ্যমতে, ২০২২ সালে জুলাই মাসে প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানের সেই অভিযোগ তদন্ত করতে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ওই কমিটি তার ভুয়া বিল দিয়ে প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের বিষয়টির প্রমাণ পায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপরও জামানুর রহমান তার পদে বহাল তবিয়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কর্মকর্তারা। 

এদিকে মামলার নথি বলছে, আর্থিক দুর্নীতি ছাড়াও জামানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অসদাচরণ এবং অনৈতিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের মৌখিক ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে, নারী সহকর্মীদের প্রতি অনৈতিক ইঙ্গিত ও হয়রানি, গুরুতর নৈতিক স্খলন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার মতো অভিযোগের সত্যতা মিলে। এর পর ২০২৩ সালে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করা হয়। যার নম্বর ১৪২/২০২৩।  

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, জামানুরের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও বিপুল টাকার দিয়ে উপরের মহলে ম্যানেজ করে পুনরায় এ দপ্তরে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর সার্কেলে দায়িত্বরত থাকাকালীন তার প্রভাব ও দাপট আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ তিনি প্রভাবশালীদের পেছনে ব্যয় করে নিজেকে ‘সুরক্ষিত’ রাখছেন।

সব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রকৌশলী মো. জামানুর রহমানকে একাধিকার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। পরে তাকে এসএমএস করলেও তিনি রেসপন্স (সাড়া) দেননি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন ও খুলনা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো, ওয়ালীউল্লাহকে ফোন করলেও তাদের পাওয়া যায়নি। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow