বরিশাল বিভাগের জন্য দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এলো সুখবর

3 hours ago 5

দক্ষিণ কোরিয়ায় মৎস্য খাতে পুরুষ মৌসুমি কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য বরিশাল বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর স্থায়ী নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে তাদের ভেরিফায়েড পেজে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বোয়েসেল বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন জনশক্তি প্রেরণকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কম খরচে জনশক্তি পাঠিয়ে থাকে।

বিজ্ঞপ্তিতে বোয়েসেল জানায়, ‘বরিশাল বিভাগের আওতাধীন জেলাসমূহের স্থায়ী নাগরিকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ওয়ানডো-গুন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সম্পাদিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার ল্যান্ড ফিশারি সেক্টর (Land Fishery Sector) এবং সি ফার্মিংয়ে (Sea Farming) বাংলাদেশি মৌসুমি কর্মী (পুরুষ) নিয়োগ দেওয়া হবে।

বরিশাল বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর অধিবাসী সমুদ্রে মৎস্য আহরণ কাজে নিয়োজিত এবং মৎস্য অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত প্রকৃত মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে। আগ্রহী প্রার্থীদের নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে ২৭ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বোয়েসেল অফিসে জীবন বৃত্তান্ত, Fisherman ID Card ও ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল।

সুযোগ-সুবিধা

মেয়াদ প্রাথমিকভাবে ৫ মাস। চাকরির শর্তাবলিতে বলা হয়েছে বেতন (কোরিয়ান ওন) ১০ হাজার ০৩০ প্রতি ঘণ্টায়। কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা। সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন। ভিসার ধরণ-E-8। মাসিক বেতন আনুমানিক (ওভার টাইমের সুযোগ আছে) বাংলাদেশি টাকা ১ লাখ ৭০ হাজার।

এ ছাড়া বৈধ পাসপোর্টধারী ন্যূনতম এক বছর মেয়াদ থাকতে হবে এবং বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছর হতে হবে। Land Fishery Sector এবং Sea Farming খাতে এক বছরের অধিক বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

মানতে হবে যেসব শর্ত

১. বরিশাল বিভাগের আওতাধীন জেলা/উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে Fisherman ID Card (FID) – থাকতে হবে।
২. সমুদ্রগামী জেলের তালিকাভুক্ত FID-কার্ডধারী কোরিয়ান/ইংরেজি ভাষা পারদর্শী ও ইপিএস পদ্ধতিতে রোস্টারভুক্ত বা রোস্টার হতে ডিলিটকৃত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
৩. নিয়োগকর্তার চাহিদা মোতাবেক কর্মকাল সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময় দেশে ফেরত আসতে হবে।
৪. প্রত্যাগত মৌসুমি কর্মী বোয়েসেলের মাধ্যমে পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাবে এবং ২য় ও ৩য় বারে ভিসা ক্যাটাগরি পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে।
৫. কালার ব্লাইন্ডনেস বা রঙ বোঝার সক্ষমতার সমস্যা মুক্ত হতে হবে।
৬. মাদকাসক্ত/সিফিলিস শনাক্ত ব্যক্তিগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৭. ফৌজদারি অপরাধে জেল বা অন্য কোনো শাস্তি প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৮. দক্ষিণ কোরিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৯. দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আছে এমন ব্যক্তিগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
১০. ই-৯ বা ই-১০ ভিসায় কোরিয়াতে ৫ বছরের বেশি অবস্থানকারীগণ অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
১১. দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া-আসার বিমান ভাড়াসহ নির্ধারিত ব্যয় কর্মীর নিজেকে বহন করতে হবে এবং
১২. অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কোরিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য।

বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য ব্যয়

নির্বাচিত প্রার্থীদের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ, প্রশিক্ষণ ফি, বহির্গমন ট্যাক্স, সার্ভিস চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ভিসা ফি, কল্যাণ ফি, বীমাসহ সমুদয় ব্যয় ৪৮ হাজার ৮২০ টাকা এবং নির্ধারিত ফেরতযোগ্য জামানত এক লাখ টাকা প্রার্থীকে বহন করতে হবে।

তা ছাড়া প্রার্থীকে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্ম সম্পন্ন করে দেশে ফেরত আসবে মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নির্বাচিত প্রার্থীর অভিভাবক ও সুপারিশকারীকে স্বাক্ষর করতে হবে। চূড়ান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নিয়োগকর্তা কর্তৃক CCVI ইস্যু ও ভিসাসংক্রান্ত কার্যাদির যাবতীয় প্রমাণাদি ও নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য ব্যয়ের পে-অর্ডার বোয়েসেলে দাখিল করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, অনলাইনে আবেদন চাকরির সাক্ষাৎ ও চূড়ান্ত নির্বাচনের নিশ্চয়তা বহন করবে না। চাকরির জন্য আপনাকে বর্ণিত শর্তাবলি পূরণ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত না হওয়ায় পর্যন্ত বোয়েসেলকে কোনো সার্ভিস চার্জ/ফি প্রদান করতে হয় না। নির্ধারিত চার্জ/ফি ব্যাংক কর্তৃক পে-অর্ডার মাধ্যমে দিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়েসেলের এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অন্যান্য খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা সব সময় বেশি। সে অনুযায়ী এবার মৌসুমি মৎস্য খাতে কর্মী নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চলতি বছর বরিশাল বিভাগের জন্য আরও বিভিন্ন ধাপের প্রস্তাব আসতে পারে বলে আশা করা যায়।

নতুন এই খাত তত্ত্বানবধানকারী বোয়েসেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি) মো. নূরুল ইসলামের নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন না ধরায় বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়নি।

Read Entire Article