বরিশালে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহাসিক বিবিরপুকুর, সংস্কারের দাবি

বরিশাল নগরীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ঐতিহ্যের ধারক 'বিবিরপুকুর'। শত বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুকুরটি আজও বরিশালের মানুষের কাছে আবেগ ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এর শ্রী হারিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় নাগরিক ও দর্শনার্থীরা।ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে জিল্লুর রহমান নামক এক ব্যক্তি জনকল্যাণে এই বিশাল পুকুরটি খনন করেন। তিনি তার প্রিয় কন্যা 'বিবি'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন 'বিবিরপুকুর'। ১৯০৮ সালেই তৎকালীন বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটি পুকুরটির উন্নয়ন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি বরিশাল নগরীর প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত।এক সময় বিবিরপুকুর ছিল নান্দনিক আলোকসজ্জা, ফোয়ারা আর স্বচ্ছ পানির আধার। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরের পানি এখন আর আগের মতো স্বচ্ছ নেই। ভাসমান ময়লা-আবর্জনা ও সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। রাতের আঁধারে পুকুরটিকে আলোকিত করে রাখা রঙিন বাতিগুলোর অধিকাংশ এখন অকেজো। ফলে সন্ধ্যার পর

বরিশালে সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহাসিক বিবিরপুকুর, সংস্কারের দাবি

বরিশাল নগরীর ঠিক মাঝখানে অবস্থিত ঐতিহ্যের ধারক 'বিবিরপুকুর'। শত বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই পুকুরটি আজও বরিশালের মানুষের কাছে আবেগ ও সৌন্দর্যের প্রতীক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এর শ্রী হারিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় নাগরিক ও দর্শনার্থীরা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে জিল্লুর রহমান নামক এক ব্যক্তি জনকল্যাণে এই বিশাল পুকুরটি খনন করেন। তিনি তার প্রিয় কন্যা 'বিবি'র নামানুসারে এর নামকরণ করেন 'বিবিরপুকুর'। ১৯০৮ সালেই তৎকালীন বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটি পুকুরটির উন্নয়ন ও সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়। সেই থেকে দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি বরিশাল নগরীর প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত।

এক সময় বিবিরপুকুর ছিল নান্দনিক আলোকসজ্জা, ফোয়ারা আর স্বচ্ছ পানির আধার। কিন্তু ২০২৬ সালের বর্তমান চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পুকুরের পানি এখন আর আগের মতো স্বচ্ছ নেই। ভাসমান ময়লা-আবর্জনা ও সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। রাতের আঁধারে পুকুরটিকে আলোকিত করে রাখা রঙিন বাতিগুলোর অধিকাংশ এখন অকেজো। ফলে সন্ধ্যার পর এলাকাটি অনেক ক্ষেত্রে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকে। দর্শনার্থীদের হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ের টাইলস উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বসার বেঞ্চগুলোও ভেঙে পড়ে আছে। পুকুরের মাঝখানে থাকা দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারাটি দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকায় এর জৌলুস পুরোপুরি ম্লান হয়ে গেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিবিরপুকুর শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি বরিশালের পরিচয়। দর্শনার্থীরা বলছেন, দ্রুত সংস্কার না করলে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি তার চিরচেনা রূপ হারিয়ে ফেলবে। তারা অবিলম্বে পুকুরের পানি পরিষ্কার, ফোয়ারা সচল এবং ওয়াকওয়ে মেরামতের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (BCC) হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বরিশালবাসীর প্রাণের এই বিবিরপুকুরকে তার পুরনো রূপে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। নগর কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এটি পুনরায় পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow