বরেন্দ্র নলকূপে অনিয়মের অভিযোগ, ভোগান্তিতে কৃষকরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মশিপুর গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সেচ ব্যবস্থায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পানি সংকটে পড়ে কৃষকরা এখন অনেকটা জিম্মি। বাধ্য হয়ে অনেকে সাশ্রয়ী ও সময়মতো সেচ নিশ্চিত করতে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বরেন্দ্রর সেচ ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী ঘণ্টাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি।  কৃষক তোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, বিঘাপ্রতি আমার কাছে ২ হাজার ৮০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা কম দিতে চাইলে জমিতে পানি দেওয়া হয় না। খরচের চাপে এবার অনেক জমিতে ধান লাগাতে পারিনি। অথচ পাশের নলকূপেই বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকায় সেচ দেওয়া হচ্ছে।  মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, নলকূপের কাছেই আমার ৮-১০ বিঘা জমি থাকলেও সময়মতো পানি পাই না। আমরা কৃষকরা এখন বরেন্দ্রর কাছে জিম্মি। বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। পানির সমস্যার কারণে ধানের বদলে বেশিরভাগ জমিতে ভুট্টা চাষ করতে হচ্ছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক শাহিন

বরেন্দ্র নলকূপে অনিয়মের অভিযোগ, ভোগান্তিতে কৃষকরা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মশিপুর গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সেচ ব্যবস্থায় অনিয়ম, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পানি সংকটে পড়ে কৃষকরা এখন অনেকটা জিম্মি। বাধ্য হয়ে অনেকে সাশ্রয়ী ও সময়মতো সেচ নিশ্চিত করতে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বরেন্দ্রর সেচ ব্যবস্থার নিয়ম অনুযায়ী ঘণ্টাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবে নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। 

কৃষক তোজাম্মেল হক অভিযোগ করেন, বিঘাপ্রতি আমার কাছে ২ হাজার ৮০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা কম দিতে চাইলে জমিতে পানি দেওয়া হয় না। খরচের চাপে এবার অনেক জমিতে ধান লাগাতে পারিনি। অথচ পাশের নলকূপেই বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকায় সেচ দেওয়া হচ্ছে। 

মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, নলকূপের কাছেই আমার ৮-১০ বিঘা জমি থাকলেও সময়মতো পানি পাই না। আমরা কৃষকরা এখন বরেন্দ্রর কাছে জিম্মি। বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত মেশিন ব্যবহার করছি। পানির সমস্যার কারণে ধানের বদলে বেশিরভাগ জমিতে ভুট্টা চাষ করতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষক শাহিন ও জহুরুল ইসলামও। তারা জানান, বিষয়টি নিয়ে অফিসে অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

অভিযোগ উঠেছে, সেচ ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রতি বছর পাম্প অপারেটর নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা কেবল নামমাত্র। আবেদনকারীদের কাছ থেকে ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত নতুনদের সুযোগ দেওয়া হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরনো অপারেটরদেরই বহাল রাখা হয়, যা সিন্ডিকেট প্রথাকে শক্তিশালী করছে।

অভিযোগের বিষয়ে মশিপুর পাম্প অপারেটর রেজাউল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সঠিক নয়। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে কিছু মানুষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি ২০০৬ সাল থেকে জমি দিয়ে এই নলকূপ স্থাপনে সহযোগিতা করেছি এবং নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি। 

বিএমডিএর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপারেটরদের কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে তাদের নবায়ন করা হয়। টাকা আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। তবে সেচ ব্যবস্থার এমন বিশৃঙ্খলা থাকলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় ও ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow