বর্ষায় চুল পড়া কমাতে দামি সিরাম নয়, খেতে হবে যেসব খাবার
ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই হঠাৎ করে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। গোসলের সময়, চিরুনি ব্যবহার করার সময় কিংবা বালিশে জমে থাকা চুল দেখে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। অনেকেই তখন দামি শ্যাম্পু, সিরাম বা হেয়ার ট্রিটমেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও মজবুত চুলের ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের ভেতর থেকেই। চুলের গোড়া শক্ত রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ। সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া গেলে ঋতুগত চুল পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পাঁচটি খাবারের কথা, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। আমলকি চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে আমলকি আমলকি ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস। ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মাথার ত্বক ও চুলের গোড়া মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে, ফলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয়। কাঁচা আমলকি, আমলকির রস, আচার কিংবা গুঁড়া খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। কারি পাতা অন
ঋতু পরিবর্তনের সময় অনেকেরই হঠাৎ করে চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। গোসলের সময়, চিরুনি ব্যবহার করার সময় কিংবা বালিশে জমে থাকা চুল দেখে দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। অনেকেই তখন দামি শ্যাম্পু, সিরাম বা হেয়ার ট্রিটমেন্টের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও মজবুত চুলের ভিত্তি তৈরি হয় শরীরের ভেতর থেকেই।
চুলের গোড়া শক্ত রাখতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ। সুষম খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে এসব পুষ্টি উপাদান পাওয়া গেলে ঋতুগত চুল পড়ার প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এমন পাঁচটি খাবারের কথা, যা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আমলকি চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সাহায্য করে
আমলকি
আমলকি ভিটামিন সি-এর অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস। ভিটামিন সি শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে, যা মাথার ত্বক ও চুলের গোড়া মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে, ফলে চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয়। কাঁচা আমলকি, আমলকির রস, আচার কিংবা গুঁড়া খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
কারি পাতা
অনেকেই খাবারের প্লেট থেকে কারি পাতা আলাদা করে ফেলেন। কিন্তু এই পাতায় রয়েছে আয়রন, বিটা-ক্যারোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা মাথার ত্বকের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। নিয়মিত কারি পাতা খেলে চুলের গোড়া শক্ত থাকতে পারে এবং অকালপক্বতার ঝুঁকিও কিছুটা কমতে পারে। ডাল, সবজি, পোহা কিংবা চাটনির সঙ্গে এটি সহজেই খাওয়া যায়।
কারি পাতাও হতে পারে স্বাস্থ্যকর চুলের গোপন রহস্য
কুমড়োর বীজ
কুমড়োর বীজে রয়েছে পর্যাপ্ত জিঙ্ক, যা চুলের বৃদ্ধি এবং চুলের গোড়ার সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে অনেকের ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কুমড়োর বীজ সালাদ, দই, ওটস বা স্মুদির সঙ্গে খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
কুমড়োর বীজে থাকা জিঙ্ক চুলের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সজনে পাতা
সজনে পাতা বা মরিঙ্গা আয়রন, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি-তে সমৃদ্ধ। এই পুষ্টি উপাদানগুলো চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগাতে এবং নতুন চুল গজানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি মাথার ত্বকের সার্বিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে সাহায্য করে। ডাল, সবজি কিংবা পরোটার পুর হিসেবে সজনে পাতা সহজেই খাওয়া যায়।
কালো তিল
আয়ুর্বেদে কালো তিলকে চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচনা করা হয়। এতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, তামা, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান চুলের প্রাকৃতিক রং বজায় রাখতে, চুলের গোড়া পুষ্ট করতে এবং চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। কালো তিল দিয়ে লাড্ডু, চাটনি বা সালাদ তৈরি করে খাওয়া যায়।

লাল নাকি সাদা কোন ডিমে পুষ্টি বেশি
শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ
চুলের যত্ন শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত পানি পান, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিনের অনিদ্রা, অতিরিক্ত স্ট্রেস বা পানিশূন্যতা চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। কোনো একটি খাবার দ্রুত চুল পড়া বন্ধ করে দিতে পারে না। তবে নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে চুলের গোড়া ধীরে ধীরে শক্ত হতে পারে এবং ঋতুগত চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

ব্যথা বাড়ার আগেই বেছে নিন সঠিক সেঁক
তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়তে থাকে, মাথার ত্বকে চুলকানি, খুশকি বা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, কিংবা হঠাৎ করেই চুল দ্রুত পাতলা হয়ে যায়, তাহলে দেরি না করে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ভেরি ওয়েল হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?