বর্ষায় লবণ ঝরঝরে রাখতে যেসব কাজ করবেন

বর্ষা এলেই রান্নাঘরে একটি পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি হন প্রায় সবাই। লবণের কৌটোর ঢাকনা খুলতেই দেখা যায়, লবণ আর আগের মতো ঝরঝরে নেই। কোথাও ছোট ছোট দলা, কোথাও আবার নিচে জমেছে পানি। অনেক সময় এমন অবস্থাও হয় যে, লবণ চামচ দিয়ে তুলতে কষ্ট হয়। একই সমস্যা চিনির ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব- কেন বর্ষায় লবণ ভিজে যায়? বৃষ্টির মৌসুমে বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। লবণ একটি হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ, অর্থাৎ এটি আশপাশের পরিবেশ থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। কৌটোর ঢাকনা বারবার খুললে প্রতিবারই ভেজা বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সেই আর্দ্রতা লবণের কণাগুলোর সঙ্গে মিশে গিয়ে দলা তৈরি করে। আর্দ্রতা বেশি হলে লবণের নিচে সামান্য লবণাক্ত পানিও জমে যেতে পারে। কয়েকটি চালের দানাই যথেষ্ট বর্ষাকালে লবণ শুকনো রাখার ঘরোয়া উপায় হলো কৌটোর মধ্যে কয়েকটি শুকনো চালের দানা রেখে দেওয়া। চাল অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। ফলে লবণ দীর্ঘ সময় ঝরঝরে থাকে। ছোট লবণদানিতে কয়েকটি চালের দানা সরাসরি দেওয়া যায়। বড় কৌটোর ক্ষেত্রে একটি ছোট পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যুতে কিছু চাল বেঁ

বর্ষায় লবণ ঝরঝরে রাখতে যেসব কাজ করবেন

বর্ষা এলেই রান্নাঘরে একটি পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি হন প্রায় সবাই। লবণের কৌটোর ঢাকনা খুলতেই দেখা যায়, লবণ আর আগের মতো ঝরঝরে নেই। কোথাও ছোট ছোট দলা, কোথাও আবার নিচে জমেছে পানি। অনেক সময় এমন অবস্থাও হয় যে, লবণ চামচ দিয়ে তুলতে কষ্ট হয়। একই সমস্যা চিনির ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে।

তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে এই ঝামেলা সহজেই এড়ানো সম্ভব-

কেন বর্ষায় লবণ ভিজে যায়?

বৃষ্টির মৌসুমে বাতাসে জলীয় বাষ্পের মাত্রা অনেক বেশি থাকে। লবণ একটি হাইগ্রোস্কোপিক পদার্থ, অর্থাৎ এটি আশপাশের পরিবেশ থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। কৌটোর ঢাকনা বারবার খুললে প্রতিবারই ভেজা বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। সময়ের সঙ্গে সেই আর্দ্রতা লবণের কণাগুলোর সঙ্গে মিশে গিয়ে দলা তৈরি করে। আর্দ্রতা বেশি হলে লবণের নিচে সামান্য লবণাক্ত পানিও জমে যেতে পারে।

কয়েকটি চালের দানাই যথেষ্ট

বর্ষাকালে লবণ শুকনো রাখার ঘরোয়া উপায় হলো কৌটোর মধ্যে কয়েকটি শুকনো চালের দানা রেখে দেওয়া। চাল অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণ করে নেয়। ফলে লবণ দীর্ঘ সময় ঝরঝরে থাকে।

ছোট লবণদানিতে কয়েকটি চালের দানা সরাসরি দেওয়া যায়। বড় কৌটোর ক্ষেত্রে একটি ছোট পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যুতে কিছু চাল বেঁধে রাখলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।

 সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলেই বর্ষাতেও লবণ থাকবে শুকনো ও ঝরঝরে

সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলেই বর্ষাতেও লবণ থাকবে শুকনো ও ঝরঝরে

কফি বিনও হতে পারে সমাধান

অনেকের বাড়িতেই কফি বিন থাকে। এগুলোও অতিরিক্ত আর্দ্রতা শোষণে সাহায্য করে। তাই চাইলে কয়েকটি কফি বিন একটি ছোট কাপড়ে বেঁধে কৌটোর ভেতরে রাখতে পারেন। এতে লবণ বা চিনির গুণগত মানের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না।

লবঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন

লবঙ্গেও আর্দ্রতা শোষণের কিছু ক্ষমতা রয়েছে। তবে এটি সরাসরি লবণের মধ্যে না দিয়ে একটি পাতলা কাপড়ে বেঁধে রাখাই ভালো। এতে লবণের স্বাদ বা গন্ধ পরিবর্তনের আশঙ্কা কম থাকে।

রাজমা বা শুকনো ডালও কাজে লাগে

অনেকেই বর্ষাকালে লবণের কৌটোর মধ্যে কয়েকটি শুকনো রাজমা বা বড় দানার শুকনো ডাল রাখেন। এগুলোও অতিরিক্ত আর্দ্রতা টেনে নিতে কিছুটা সাহায্য করে এবং লবণ সহজে দলা বাঁধে না।

সংরক্ষণের জায়গা গুরুত্বপূর্ণ

লবণ বা চিনি কোথায় রাখছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সিঙ্ক, চুলা, জানালার পাশে বা যেখানে বাষ্প বেশি হয়, সেখানে লবণ রাখা উচিত নয়।সবসময় ঠান্ডা, শুকনো এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় সংরক্ষণ করুন।

এয়ারটাইট কৌটো ব্যবহার করা

ভালো মানের এয়ারটাইট কন্টেনার ব্যবহার করলে বাইরের আর্দ্রতা সহজে ভেতরে ঢুকতে পারে না। প্রতিবার ব্যবহার শেষে ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ করুন। কৌটোর মুখ খোলা রেখে দিলে খুব দ্রুত লবণ ভিজে যেতে পারে।

ভেজা চামচ রাখা যাবে না

অনেকেই রান্নার সময় ভেজা হাত বা ভেজা চামচ দিয়ে লবণ নিয়ে থাকেন। এতে এটি লবণ ভিজে যায়। তাই সবসময় সম্পূর্ণ শুকনো চামচ ব্যবহার করুন। এতে লবণ অনেক দিন ভালো থাকবে।

লবণ ভিজে গেলে যা করবেন

যদি লবণ দলা পাকিয়ে যায়, তাহলে পরিষ্কার একটি শুকনো ট্রেতে ছড়িয়ে কিছুক্ষণ পাখার বাতাসে বা রোদে রেখে দিতে পারেন। লবণ শুকিয়ে গেলে আবার এয়ারটাইট কৌটোতে ভরে সংরক্ষণ করুন। তবে দীর্ঘ সময় খোলা রোদে না রাখাই ভালো।

বর্ষাকালে লবণ ভিজে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। তবে কয়েকটি সহজ অভ্যাস-যেমন এয়ারটাইট কৌটো ব্যবহার, কৌটোর মধ্যে কিছু চালের দানা রাখা এবং সঠিক জায়গায় সংরক্ষণ, মেনে চললেই লবণ দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow