বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ১৪৪ ধারা জারি, ডুবছে বোরো ফসল

টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই বাঁধ শতাধিক কৃষক ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ফসল রক্ষায় পানি নিষ্কাশনের দাবিতে কৃষকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পেয়ে অনেক স্থানে নিজেরাই শেলু মেশিন বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। তাতেও সুফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিচ্ছেন। এতে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকুয়ার হাওরের মোহনপুর, সরদারপুর, জয়নগর, নোয়াগাঁও ও উলুতুলসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। একইদিনে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম এবং

বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষে ১৪৪ ধারা জারি, ডুবছে বোরো ফসল
টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষকদের একমাত্র বোরো ফসল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টরের বেশি জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওরের পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের কাড়াড়াই বাঁধ শতাধিক কৃষক ভেকু মেশিন দিয়ে কেটে দেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে শনিবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এদিকে ফসল রক্ষায় পানি নিষ্কাশনের দাবিতে কৃষকরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না পেয়ে অনেক স্থানে নিজেরাই শেলু মেশিন বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। তাতেও সুফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দিচ্ছেন। এতে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকুয়ার হাওরের মোহনপুর, সরদারপুর, জয়নগর, নোয়াগাঁও ও উলুতুলসহ কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। একইদিনে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম এবং জামালগঞ্জ উপজেলার কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা নিয়েও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে জামালগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে ২০ জন আহত হন। কৃষকদের অভিযোগ, আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ধান কাটার সময় ছিল। কিন্তু কাঁচা ধান পানিতে তলিয়ে পচে যাচ্ছে। এক কৃষক বলেন, ‘চোখের সামনে ফসল নষ্ট হচ্ছে, রাতে ঘুম আসে না। পানি না নামলে সব শেষ হয়ে যাবে।’ এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং কোথাও কোথাও মেশিন দিয়ে পানি অপসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-২ আসনের পরাজিত প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি দিয়েছেন। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, হাওরপাড়ের মানুষের একমাত্র জীবিকা এই বোরো ফসল, যা দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে। তিনি সরেজমিনে পরিদর্শন, হেলিকপ্টার ব্যবহার এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি দিরাই-শাল্লা এলাকায় খাল খনন বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে জেলার ১২টি উপজেলায় অর্ধশতাধিক হাওরে গণসমাবেশ চলছে, যেখানে কৃষকসহ সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তারা কাটা বাঁধ পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, ‘উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নির্দেশনা অমান্য করে বাঁধ কাটায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্তের আগে বাঁধ কাটা ঠিক হয়নি। কোনোভাবেই এক হাওরের পানি অন্য হাওরে প্রবাহিত করা যাবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন জানান, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আগেই কিছু লোক আইন অমান্য করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জিত কুমার বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বাঁধ কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৬টি উপজেলায় ১ হাজার ৮১৯ হেক্টর জমি ইতোমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে হাওর আন্দোলনের নেতাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি-জেলায় ১৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। তবে বর্তমান জলাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষক, প্রশাসন ও বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমুখী অবস্থানে হাওরাঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow