বাংলাদেশ ইস্যুতে শেষ মুহূর্তে আইসিসির সামনে যেসব বড় জটিলতা

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আর মাসখানেকও বাকি নেই। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে জটিল সমীকরণের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর যে দাবি উঠেছে, তা কেবল একটি বোর্ডের ইচ্ছার বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লজিস্টিক, সূচি, স্বাগতিক বোর্ডের ভূমিকা এবং এমনকি সরকারিভাবেও সংবেদনশীল কিছু বাস্তবতা। ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি নীতিগতভাবে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছে না। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। রবিবার হওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি বৈঠকও হয়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এত কম সময়ের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল এবং এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো টুর্নামেন্ট কাঠামোর ওপর। বিসিসিআইয়ের বড় ভূমিকা সহ-আয়োজক হিসেবে এই সিদ্ধান্তে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ৩০ দিনের একটু বেশি সময় বাকি। এই পর্যায়ে সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে গেলে শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ নয়, গ্রুপ সি–এর অন্যান্য দল—ইংল্যা

বাংলাদেশ ইস্যুতে শেষ মুহূর্তে আইসিসির সামনে যেসব বড় জটিলতা

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আর মাসখানেকও বাকি নেই। ঠিক এমন সময়ে বাংলাদেশের ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধে জটিল সমীকরণের মুখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে ভারত থেকে ম্যাচ সরানোর যে দাবি উঠেছে, তা কেবল একটি বোর্ডের ইচ্ছার বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লজিস্টিক, সূচি, স্বাগতিক বোর্ডের ভূমিকা এবং এমনকি সরকারিভাবেও সংবেদনশীল কিছু বাস্তবতা।

ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি নীতিগতভাবে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর বিষয়টি পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছে না। তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। রবিবার হওয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি বৈঠকও হয়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মনে করছে, এত কম সময়ের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জটিল এবং এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো টুর্নামেন্ট কাঠামোর ওপর।

বিসিসিআইয়ের বড় ভূমিকা

সহ-আয়োজক হিসেবে এই সিদ্ধান্তে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ৩০ দিনের একটু বেশি সময় বাকি। এই পর্যায়ে সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে গেলে শুধু বাংলাদেশের ম্যাচ নয়, গ্রুপ সি–এর অন্যান্য দল—ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালিকেও প্রভাবিত করবে। বিসিসিআইয়ের অবস্থান ছাড়াও টিকিট, ভেন্যু প্রস্তুতি ও দর্শকদের পরিকল্পনা নতুন করে সাজাতে হবে, যা বাস্তবায়ন করা কঠিন।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচ খেলবে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচগুলো সরালে শুধু লিগ পর্ব নয়, বাংলাদেশ সুপার এইটে উঠলে পরবর্তী ধাপের সূচিতেও বড় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

আইসিসির ভেতরের অবস্থান

আইসিসি কর্মকর্তাদের মধ্যে ধারণা, এটি মূলত বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যকার একটি দ্বিপাক্ষিক ইস্যু। এত দেরিতে আইসিসিকে এর মধ্যে টেনে আনা আদর্শ পরিস্থিতি নয়। তবে সংস্থাটি কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। আগামী এক–দুই দিনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে বিসিবিকে বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলো ব্যাখ্যা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের ভূমিকা ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই ইস্যুতে দুই দেশের সরকারের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিসিসিআই বড় সিদ্ধান্তে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শ নিয়ে থাকে—এটি নতুন নয়। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফর আলোচনায় এলেও, সেটিকে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাইছে না আইসিসি।

মূল কারণ: মুস্তাফিজ ইস্যুর প্রতিক্রিয়া

এই পরিস্থিতির সূত্রপাত মূলত কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার বিসিসিআই নির্দেশ থেকে। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতির’ কথা বলে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ভারতের উদ্বেগই এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এর প্রতিক্রিয়াতেই বিসিবি ম্যাচ ভেন্যু সরানোর অনুরোধ জানায়।

সামনে কী হতে পারে

বিশ্বকাপটি ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার আটটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আইসিসির সামনে এখন তিনটি পথ—ম্যাচ সরানো, ভেন্যু অদলবদল করা, কিংবা সূচি অপরিবর্তিত রাখা। তবে যেকোনো সিদ্ধান্তই হবে সময়ের চাপে নেওয়া এক কঠিন সমঝোতা।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অনুরোধ আইসিসিকে এমন এক মুহূর্তে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে ক্রিকেটের বাইরে বাস্তবতা, রাজনীতি ও ব্যবস্থাপনার চাপ একসঙ্গে সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কোন পথে হাঁটে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow