বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) এর মাধ্যমে উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি, নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।  বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রবাসী কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।  জাপান সরকারের পক্ষে সভায় অংশগ্রহণ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইকোনমি

বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) এর মাধ্যমে উচ্চমানের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের ৮ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় চলমান প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি, নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার অগ্রাধিকার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশিক চৌধুরী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রবাসী কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান। 

জাপান সরকারের পক্ষে সভায় অংশগ্রহণ করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি, জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলআইটি) রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন ইকোনমি বিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার ফুজিতা মাসাকুনি, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিষয়ক সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রেইকোসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

সভায় কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব (এমএমটিএইচ), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স, আউটার রিং রোড প্রকল্প এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (আরএইচডি) স্থানীয় সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো দ্রুত সমাধান, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় দেশ পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

কমলাপুর মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব প্রকল্পের সংশোধিত মাস্টারপ্ল্যান এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয় অব্যাহত রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়। একই সঙ্গে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স কার্যক্রমের অবশিষ্ট প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সংযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম সম্ভাবনাময় পিপিপি প্রকল্পগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ সময় শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু এবং বরিশাল-ভোলা সেতু প্রকল্পকে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের নতুন প্রকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এ ধরনের কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নে দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

এ ছাড়া জাপান প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব উপস্থাপন করে, যা টেকসই নগর উন্নয়ন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ভোলা-লক্ষ্মীপুর সেতু প্রকল্প উপস্থাপন করলে জাপান পক্ষ প্রকল্পটির প্রতি দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করে এবং দক্ষিণাঞ্চলের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর কৌশলগত গুরুত্বের স্বীকৃতি প্রদান করে।

সভায় জাপানের কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশের পুরোনো রেলওয়ে সেতুগুলোর পুনর্নবীকরণ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবও পর্যালোচনা করা হয়, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের পিপিপি সহযোগিতার পরিধি আরও সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

সভায় বক্তব্য প্রদানকালে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান পিপিপি অংশীদারত্ব এখন একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যা দেশের রূপান্তরমূলক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানসম্মত বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সমাপনী বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের প্রতি সরকারের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক পিপিপি প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।

সভায় বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশ কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়ন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা জোরদার এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে পুনরায় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow