বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর রোডশো সফলভাবে সম্পন্ন
বাংলাদেশ দূতাবাস সিউল এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনব্যাপী একটি উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর রোডশো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত ১২-১৩ মে অনুষ্ঠিত এই রোডশোর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে। রোডশোটি ১২ মে শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস এবং কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ)-এর সঙ্গে একাধিক একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে। বিএসআইএর প্রেসিডেন্ট এম এ জব্বারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে অংশ নেন। রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গত ১২ মে সিউলের ডাবলট্রি বাই হিলটন পাংয়ো হোটেলে আয়োজিত ব্যাংকোয়েট রিসেপশন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল, এনডিসি স্বাগত বক্তব্যে দুই দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি এডিবির প্রস্তাবিত ৭৯ বিলিয়ন ডলারের ২০ বছর মেয়াদি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোর
বাংলাদেশ দূতাবাস সিউল এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) যৌথভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় দুই দিনব্যাপী একটি উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন সেমিকন্ডাক্টর রোডশো সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
গত ১২-১৩ মে অনুষ্ঠিত এই রোডশোর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইনে অন্তর্ভুক্ত করা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে।
রোডশোটি ১২ মে শুরু হয় দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন হাউস এবং কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ)-এর সঙ্গে একাধিক একান্ত বৈঠকের মাধ্যমে। বিএসআইএর প্রেসিডেন্ট এম এ জব্বারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে অংশ নেন।
রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল গত ১২ মে সিউলের ডাবলট্রি বাই হিলটন পাংয়ো হোটেলে আয়োজিত ব্যাংকোয়েট রিসেপশন। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল, এনডিসি স্বাগত বক্তব্যে দুই দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মধ্যে যৌথ সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি এডিবির প্রস্তাবিত ৭৯ বিলিয়ন ডলারের ২০ বছর মেয়াদি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত ইকোনমিক করিডোরের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি ঐতিহ্যবাহী শহরাঞ্চলের বাইরে হাই-টেক শিল্পায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, অ্যাডভান্সড প্যাকেজিং এবং ইলেকট্রনিক্স খাত সমৃদ্ধ হবে।
বিএসআইএর প্রেসিডেন্ট এম এ জব্বার সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমে প্রবেশের জন্য ডিজাইন ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড প্যাকেজিংয়ের মতো কৌশলগত পথের উপর জোর দেন।
পরবর্তী টেকনিক্যাল সেশনে পার্ডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপর বিএসআইএর সাতটি শীর্ষস্থানীয় সদস্য কোম্পানি— ডায়নামিক সল্যুশন ইনোভেটরস, টেস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, উলকাসেমি প্রাইভেট লিমিটেড, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড, প্রাইমসিলিকন টেকনোলজি ইনক., সিলিকোনোভা লিমিটেড এবং মার্স সল্যুশনস লিমিটেড— তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে। এসকে হাইনিক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট চ্যাং হিউন কিম এবং ম্যাকিন্সির মিস ইনজি ইয়ম এআই যুগের মেমরি প্যাকেজিং প্রযুক্তির সাফল্যের গল্প শেয়ার করেন।
গত ১৩ মে বিএসআইএ প্রতিনিধি দল কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেইএসটি), এসকে হাইনিক্স, হানা মাইক্রন, কোরিয়া সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (কেএসআইএ), কুলমাইক্রো, ওয়াই-টেক, গ্রোউইথ অ্যাসোসিয়েটসসহ বিভিন্ন সেমিকন্ডাক্টর ও গবেষণা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রোডশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল কেইএসটি গ্লোবাল কমার্শিয়ালাইজেশন সেন্টার (জিসিসি), সেন্টার অব রিসার্চ এক্সেলেন্স অন সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি (ক্রেস্ট) এবং বিএসআইএ-র মধ্যে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষর। এই চুক্তির লক্ষ্য সেমিকন্ডাক্টর খাতে যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি।
এই রোডশোর সফল সমাপ্তি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে তুলে ধরেছে। আশা করা যায়, বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর শিল্প কোরিয়ার বিশ্বসেরা প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস এসব উদ্যোগকে সমর্থন করে দেশকে বিশ্বের একটি উন্নত প্রযুক্তির গন্তব্যে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর।
What's Your Reaction?