বাংলাদেশে মেসিদের নিয়ে উন্মাদনা তুলে ধরবেন ৪ আর্জেন্টাইন ব্লগার

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও  কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। এ লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা এই ব্লগাররা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের কোটি ভক্তের উন্মাদনা, ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক আবহ তুলে ধরে বিশেষ ভ্লগ নির্মাণ করবেন। এসব ভ্লগ আর্জেন্টিনায় প্রচার করা হবে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। বৈঠকে আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার

বাংলাদেশে মেসিদের নিয়ে উন্মাদনা তুলে ধরবেন ৪ আর্জেন্টাইন ব্লগার
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সাংস্কৃতিক ও  কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে দুই দেশ। এ লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা থেকে চারজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ব্লগারকে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত জানান, চলমান ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে বাংলাদেশে আসা এই ব্লগাররা আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি বাংলাদেশের কোটি ভক্তের উন্মাদনা, ভালোবাসা এবং সাংস্কৃতিক আবহ তুলে ধরে বিশেষ ভ্লগ নির্মাণ করবেন। এসব ভ্লগ আর্জেন্টিনায় প্রচার করা হবে, যা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্য আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। বৈঠকে আর্জেন্টিনার ডেপুটি হেড অব মিশন প্যাট্রিসিও উরুয়েনিয়া প্যালাসিও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ আমেরিকা অনুবিভাগের পরিচালক কাজী আনারকলী এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় দুই দেশের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক বন্ধনের প্রসঙ্গও উঠে আসে। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর ঐতিহাসিক সম্পর্ককে। এ সময় মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, আর্জেন্টিনার মানুষ সবচেয়ে বেশি পরিচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য গুণী লেখক ও তাঁদের সাহিত্যকর্ম সম্পর্কেও জানার আগ্রহ রয়েছে তাদের। তিনি বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ‘বুয়েনস আইরেস আন্তর্জাতিক বইমেলা’য় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট লালন শাহের গানেরও প্রশংসা করেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত। তিনি লালনগীতি স্প্যানিশ ভাষায় অনুবাদ করে বিশ্বপরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশের নামে একটি সড়কের নামকরণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর সামঞ্জস্য বিবেচনায় বাংলাদেশের কিছু ঐতিহ্যবাহী উদ্ভিদ আর্জেন্টিনায় রোপণ ও স্থানান্তরের পরিবেশবান্ধব প্রস্তাবও দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দুই দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ‘সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তা ও ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রশংসা করে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে আর্জেন্টিনা আন্তরিকভাবে আগ্রহী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow