৮ বছর পর মাঠে গড়িয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আজ দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই স্বাগতিক পাকিস্তান আর নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠলো ৫০ ওভারের ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বৈশ্বিক আসরের। প্রবল প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
বলে রাখা ভালো, ২০১৭ সালে হওয়া শেষ আসরে এই ভারতের সাথেই সেমিফাইনালে দেখা হয়েছিল বাংলাদেশের। এবার কি নাজমুল হোসেন শান্তর দল শেষ চারে পা রাখতে পারবে? টাইগাররা এবার কতটা কী করতে পারবে? কতদূর যেতে পারবে? ৮ বছর আগের মতো এবারও সেমিতে খেলবে টিম বাংলাদেশ?
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখে মুখে আত্মবিশ্বাস। বিশ্বের অনেক বোদ্ধা বিশেষজ্ঞও বাংলাদেশকে শেষ চারে দেখছেন। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মুরালি কার্তিক যেমন বাংলাদেশকে গ্রুপ থেকে ভারতের পর দ্বিতীয় সেমিফাইনালিস্ট বলে ভাবছেন।
বাংলাদেশের বোদ্ধারা কী ভাবছেন? নিজ দলকে নিয়ে তাদের চিন্তা, ভাবনা, প্রত্যাশা আর মূল্যায়নটাইবা কী? শুনে একটু খারাপ লাগতে পারে, বাংলাদেশ জাতীয় দলের দুই সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার ও মোহাম্মদ আশরাফুল কিন্তু নিজ দলকে নিয়ে তেমন একটা আশাবাদী নন। তাদের ধারণা, বাংলাদেশের জন্য এবার গ্রুপপর্বের বাধা টপকানো কঠিন হবে।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য একটু কঠিন হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। কঠিন বলেই যে বাংলাদেশ সেমিতে খেলতে পারবে না, এমন নয়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফরম্যাটই এমন, এখানে সেমিফাইনাল খেলা তুলনামূলক সহজ। দুটি ভালো দিন গেলে আপনি চলে যাবেন (সেমিতে)।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলা তুলনামূলক সহজ কীভাবে? হাবিবুল বাশারের ব্যাখ্যা, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফরম্যাটটা এমন যে, এ আসরে সেমিফাইনাল খেলার সম্ভাবনা তুলনামূলক অনেক বেশি। প্রথমত, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বিশ্বকাপের তুলনায় দল কম। খুব স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচও কম। বিশ্বকাপে অনেকগুলো দল থাকে, অনেক বেশি ম্যাচ জিততে হয়। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যেহেতু গ্রুপে প্রতিপক্ষ মাত্র তিনটি, এ আসরে দুটি ম্যাচ জিতলেই সেমিফাইনাল খেলা যায়।’
‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুটি ভালো দিন মানে দুটি ম্যাচ জিতলেই আপনি সেমিফাইনাল খেলতে পারেন। কাজেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শেষ চারে পা রাখতে হলে দরকার দুটি ভালো দিন। সে আলোকে বলাই যায়, বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপের চেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ বেশি।’
কিন্তু জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক নির্বাচকের ধারণা, বাংলাদেশের জন্য কাজটা খুব কঠিন। বাশার বলেন, ‘বাস্তবতা বলছে, দল হিসেবে খুব ভালো ফর্মে নেই এখন বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ফরম্যাটও আমরা বেশ কয়েক মাস আগে খেলেছি। আমাদের ২০২৩ ও ২০২৪ খুব ভালো কেটেছে। তারপর থেকে পারফরম্যান্সের গ্রাফ ওঠানামা করছে। এ মুহূর্তে মনে হচ্ছে না, দল খুব আত্মবিশ্বাসী। আর আমাদের গ্রুপটা খুবই শক্তিশালী। ভারত, নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তান-প্রতিপক্ষ হিসেবে খুবই শক্তিশালী।’
সেমিফাইনাল খেলতে হলে কী করতে হবে, সেটিও জানিয়ে দেন সাবেক অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘আমরা ২০১৭ সালে শেষবার সেমিফাইনাল খেলেছি। এবারও পারতে পারি। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি। ওই ম্যাচটা বের করে আনতে পারলে খুব ভালো সুযোগ থাকবে সেমিফাইনাল খেলার। এরপর নিউজিল্যান্ড আর পাকিস্তান ম্যাচও কঠিন হতে পারে। কন্ডিশনের ওপরও অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল ভাগ্য।’
টাইগারদের সেমির পথে বড় বাধা কী? টিমের পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচে নেমে যাওয়া, সেই কারণে খুব ভালো ছন্দে না থাকা, নাকি প্রতিপক্ষ? কোনটাকে আপনি সেমির পথে টাইগারদের বড় বাধা বলে মনে করেন?
বাশারের জবাব, ‘প্রথমত প্রতিপক্ষ কঠিন। তিনটি দলই শক্তিশালী, ভালো ক্রিকেট খেলছে। মনে রাখতে হবে, পাকিস্তানের সঙ্গে খেলবো আমরা পাকিস্তানে গিয়ে। তাদের উড়িয়ে দেওয়ার কিছু নেই। ভারত সবসময়ই খুব ভালো দল। কঠিন প্রতিপক্ষ। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ার মতো দুর্দমনীয় না হলেও, এখনকার ভারতও বেশ সাজানো-গোছানো কঠিন দল। গত ২-৩ বছর ভারত বেশ ভালো খেলছে। আসলে দুটি জিনিসই আছে- প্রতিপক্ষ শক্তিশালী, আর দল হিসেবে আমরা অতটা আত্মবিশ্বাসী নই এবার।’
এআরবি/এমএমআর/এমএস