‘বাঘ এসেছে, বাঘ!’ আসলেই আসে নাকি আড়ালে অন্য কিছু চলে
সামছুল আলম শিমুল সকালে আম্মার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙলো। চোখ মুছতে মুছতে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এত সকাল সকাল হলোটা কী? আম্মা বললেন, বাঘ এসেছে! বাঘ! আম্মার কথা উড়িয়ে দিতে যাচ্ছিলাম, তখনই মাইকের আওয়াজ কানে এলো, সাবধান! সাবধান! এলাকায় গতরাত থেকে দুটি ডোরাকাটা বাঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘ দুটি... এরপর আর কিছু শোনা গেল না। মাথা চুলকাতে শুরু করলাম। উকুনের জন্য নয়, বাঘের জন্য। এত দূর থেকে দুটি বাঘ আমাদের পাড়াগাঁয়ে আসবে কীভাবে? বাঘের তো পাখা নেই যে উড়ে আসবে। এতগুলো গ্রাম, শহর, বন্দর পেরিয়ে আসতে কারো না কারো চোখে পড়ার কথা। ফোন দিলাম বন্ধু জগলুকে। রিসিভ করেই বললো, ফেসবুক চেক কর। গলাটা কেমন যেন তাড়াহুড়োর। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই লাইন কেটে দিল। ফেসবুকে ঢুকতেই সবার ওয়ালে শুধু একটাই স্ট্যাটাস। ‘বাঘ এসেছে! সাবধান!’ বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। যেহেতু বাইরে বাঘ, সেহেতু নাক ডেকে আবারও ঘুমানো যাক। কিন্তু সবাই আমার মতো নিশ্চিন্ত ছিল না। বাঘ আতঙ্কে দুই দিন পার হলো। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা, চায়ের দোকানে আড্ডা বন্ধ, বাজারে লোকজন নেই। কারো বাসায় তেল শেষ, কারো বাসায় লবণ ত
সামছুল আলম শিমুল
সকালে আম্মার ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙলো। চোখ মুছতে মুছতে বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, এত সকাল সকাল হলোটা কী?
আম্মা বললেন, বাঘ এসেছে! বাঘ!
আম্মার কথা উড়িয়ে দিতে যাচ্ছিলাম, তখনই মাইকের আওয়াজ কানে এলো, সাবধান! সাবধান! এলাকায় গতরাত থেকে দুটি ডোরাকাটা বাঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘ দুটি...
এরপর আর কিছু শোনা গেল না।
মাথা চুলকাতে শুরু করলাম। উকুনের জন্য নয়, বাঘের জন্য। এত দূর থেকে দুটি বাঘ আমাদের পাড়াগাঁয়ে আসবে কীভাবে? বাঘের তো পাখা নেই যে উড়ে আসবে। এতগুলো গ্রাম, শহর, বন্দর পেরিয়ে আসতে কারো না কারো চোখে পড়ার কথা।
ফোন দিলাম বন্ধু জগলুকে। রিসিভ করেই বললো, ফেসবুক চেক কর। গলাটা কেমন যেন তাড়াহুড়োর। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই লাইন কেটে দিল।
ফেসবুকে ঢুকতেই সবার ওয়ালে শুধু একটাই স্ট্যাটাস। ‘বাঘ এসেছে! সাবধান!’
বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। যেহেতু বাইরে বাঘ, সেহেতু নাক ডেকে আবারও ঘুমানো যাক। কিন্তু সবাই আমার মতো নিশ্চিন্ত ছিল না। বাঘ আতঙ্কে দুই দিন পার হলো। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট ফাঁকা, চায়ের দোকানে আড্ডা বন্ধ, বাজারে লোকজন নেই। কারো বাসায় তেল শেষ, কারো বাসায় লবণ তবু বাঘের ভয়ে কেউ বাজারে যাওয়ার সাহস করছে না।
খবরটা প্রথম দিনই পুলিশকে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশও সেদিন রওনা দিয়েছিল। তবে পুলিশের গাড়ির গতি দেখে মনে হলো, বাঘ ধরতে নয়, বাঘের কাছে পৌঁছানোর তারিখটা নিশ্চিত করেই এগোচ্ছে। তিন দিন পর সকালে পুলিশ এসে বাঁশঝাড়, ঝোপঝাড়, পুকুরপাড় সব জায়গায় খুঁজল। কোথাও বাঘ নেই।
শেষে ঘোষণা এলো, এখানে কোনো বাঘ নেই। ব্যস! গ্রামের মানুষের প্রাণ ফিরে এলো। সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লো। আমিও বের হলাম চা খেতে।
ঠিক তখনই জগলুর ফোন। দোস্ত, কাজ হয়ে গেছে।
আমি তো অবাক হয়ে বললাম, কী কাজ?
জগলু কিছুটা রহস্য করেই বললো, পরে বলব।
ফোনের ওপাশে ক্ষীণ একটা মেয়েলি গলা যেন শোনা গেল। তারপরই লাইন কেটে গেল।
ঠিক তখনই মতলব মিয়া ছুটে এসে চিৎকার করলেন, দুই রাত থেকে সখিনা নিখোঁজ! বাঘের ভয়ে খুঁজতেও পারি নাই। সামনের শুক্রবার ওর বিয়ে। কেউ কি সখিনারে দেখছেন?
আমি থমকে গেলাম। জগলুর ফোনের দিকে তাকালাম। তারপর মতলব মিয়ার দিকে। বাংলা ছবির শেষ দৃশ্যের মতো মুহূর্তেই সব পরিষ্কার হয়ে গেল। বাঘ আসেনি, কিন্তু জগলু ঠিকই শিকার নিয়ে চলে গেছে।
প্রিয় পাঠক, আপনিও অংশ নিতে পারেন আমাদের এ আয়োজনে। আপনার মজার (রম্য) গল্পটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়। লেখা মনোনীত হলেই যে কোনো শুক্রবার প্রকাশিত হবে।
কেএসকে
What's Your Reaction?