বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল: সিপিডি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় তা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামোয় নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর তুলনামূলক বেশি করের চাপ পড়ছে। তাই দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারতো। শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ফাহমিদা খাতুন জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়ের কর কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী দুই অর্থবছর ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ এ তা ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমার একটি সুস্পষ্ট পথরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। এতে করদাতারা ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয় ও আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আগা

বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল: সিপিডি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা কিছুটা বাড়ানো হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় তা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, বর্তমান কর কাঠামোয় নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর তুলনামূলক বেশি করের চাপ পড়ছে। তাই দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় করমুক্ত আয়সীমা আরও বাড়ানো যেতে পারতো।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ফাহমিদা খাতুন জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিগত আয়ের কর কাঠামোয় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী দুই অর্থবছর ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ এ তা ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমার একটি সুস্পষ্ট পথরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইতিবাচক। এতে করদাতারা ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয় ও আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে আগাম ধারণা পাবেন।

তবে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা কতটা যথেষ্ট। তার মতে, মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল।

বাজেটের সামগ্রিক মূল্যায়নে ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। এ লক্ষ্যে ব্যক্তি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক কল্যাণকে বাজেট দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ দৃষ্টিভঙ্গি অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

তবে বাজেটের আকার নিয়ে আলোচনার চেয়ে বাস্তবায়ন সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট কত বড় হলো সেটি মুখ্য বিষয় নয়; বরং নির্ধারিত লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হলো সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তার মতে, দীর্ঘদিনের বাস্তবায়ন দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাজেটে ঘোষিত লক্ষ্য ও প্রত্যাশা অর্জন সম্ভব হবে না। এজন্য সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি।

তিনি বলেন, বাস্তবায়ন ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি কিংবা মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো লক্ষ্যগুলো অর্জন করা কঠিন হবে। তাই বাজেটের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

এসএম/এমএমকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow