বাবাকে শেষ বিদায় দিয়ে মিয়ামিতে ফিরলেন মেসি, কবে মাঠে নামবেন?

বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। রোজারিওতে শেষ কয়েকটি ঘণ্টা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার সকাল ৭টা ১২ মিনিটে তার বিমান অবতরণ করে ফোর্ট লডারডেলে। গত সপ্তাহে তিন সন্তান ও স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে নিয়ে নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছেছিলেন মেসি। সেখানে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে হোর্হে মেসির শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। ফুনেসের কেন্টাকি গেটেড কমিউনিটিতে নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর পেরেজ শহরের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য। বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে মেসির সামনে এখন ফুটবলে ফেরার প্রশ্ন। বুধবার রাতে মেক্সিকোর ক্লাব লিওনের বিপক্ষে লিগস কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে ইন্টার মিয়ামি। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে ম্যাচটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মেসি মাঠে নামবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক লিও পারাদিজো জানিয়েছেন, মেসি নিজেই খেলতে চাই

বাবাকে শেষ বিদায় দিয়ে মিয়ামিতে ফিরলেন মেসি, কবে মাঠে নামবেন?

বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানিয়ে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। রোজারিওতে শেষ কয়েকটি ঘণ্টা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে ব্যক্তিগত বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বুধবার সকাল ৭টা ১২ মিনিটে তার বিমান অবতরণ করে ফোর্ট লডারডেলে।

গত সপ্তাহে তিন সন্তান ও স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে নিয়ে নিজ শহর রোজারিওতে পৌঁছেছিলেন মেসি। সেখানে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে হোর্হে মেসির শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। ফুনেসের কেন্টাকি গেটেড কমিউনিটিতে নিজেদের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর পেরেজ শহরের এল প্রাদো সমাধিক্ষেত্রে সম্পন্ন হয় শেষকৃত্য।

বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে মেসির সামনে এখন ফুটবলে ফেরার প্রশ্ন। বুধবার রাতে মেক্সিকোর ক্লাব লিওনের বিপক্ষে লিগস কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে ইন্টার মিয়ামি। কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে ম্যাচটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মেসি মাঠে নামবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

আর্জেন্টাইন সাংবাদিক লিও পারাদিজো জানিয়েছেন, মেসি নিজেই খেলতে চাইছেন। তার মতে, ফুটবলই মেসির কাছে এই কঠিন সময় থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসার মাধ্যম হতে পারে। ‘সে খেলতে চায়। আমার মনে হয়, ফুটবল খেলাটাই তার জন্য কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার এবং নিজের ভালো লাগার কাজটি করার একটি উপায়,’- বলেন পারাদিজো।

তবে শেষ সিদ্ধান্ত মেসি ও দলের মেডিকেল-টেকনিক্যাল স্টাফদের ওপরই নির্ভর করবে। বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে বিধ্বস্ত মেসিকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে ইন্টার মায়ামির পক্ষ থেকে।

এরই মধ্যে ক্লাবের পক্ষ থেকে মেসির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো হয়েছে। কোচ অ্যাঞ্জেল গুইলার্মো ওয়োস বলেছেন, ‘আমরা জানি লিওর সঙ্গে কী ঘটেছে। এটি ভীষণ কষ্টের। আমরা অনেক কষ্ট পেয়েছি। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় কোনো শব্দই যথেষ্ট হয় না।’

দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মুরাও মেসির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যা ঘটেছে সবকিছু অনুভব করছি। এই কঠিন সময়ে দূর থেকে লিওকে সমর্থন করছি। সে যখন প্রস্তুত মনে করবে এবং ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা এখানে থাকব এবং সামনে যা আসবে সবকিছুতে তাকে সমর্থন করব।’

হোর্হে মেসির স্মৃতিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অঙ্গনেও ছিল গভীর শ্রদ্ধা। দেশটির বিভিন্ন ম্যাচে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং খেলোয়াড়েরা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন। ইন্টার মিয়ামির ম্যাচেও হোর্হের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছিল।

মেসির ঘনিষ্ঠ বন্ধু রদ্রিগো দে পলও জর্জ মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। গোল করার পর মেসির ১০ নম্বর জার্সি তুলে ধরে বন্ধুর প্রতি নিজের সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

হোর্হে মেসির সঙ্গে লিওনেল মেসির সম্পর্ক ছিল ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শৈশবে আবান্দেরাদো গ্রান্দোলিতে ছেলেকে কোচিং করানো থেকে শুরু করে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের মালভিনাস অনুশীলন মাঠে নিয়মিত সঙ্গ দেওয়া- মেসির ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ছিলেন বাবা। পরবর্তীতে বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির উত্থানের প্রতিটি ধাপেও জর্জ ছিলেন তার অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

২০০৮ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করার পর মেসি যে জার্সিতে লিখেছিলেন ‘আই লাভ ইউ, ড্যাড’, সেটিও তাদের গভীর সম্পর্কের অন্যতম স্মৃতি। সেদিন মেসি বলেছিলেন, তার বাবা তাকে খেলতে দেখে যেমন আনন্দ পান, তেমনি প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাও করেন।

বাবাকে হারানোর শোক এখনো মেসির হৃদয়ে গভীর। কিন্তু সেই শোক নিয়েই যদি আজ লিওনের বিপক্ষে মাঠে নামেন, তবে সেটি হতে পারে তার জীবনের অন্যতম আবেগঘন ম্যাচ- যেখানে প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৌড়, প্রতিটি মুহূর্তেই হয়তো থাকবে প্রয়াত বাবার স্মৃতি।

আরআর/আইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow