বালু খেকোদের বিরুদ্ধে উত্তাল মেঘনা পাড়, প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনার বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’ চক্রের এই আগ্রাসন রুখতে এবার রাজপথে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষ। নদী ভাঙন রোধ এবং ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক বিশাল মানববন্ধন ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ‘হাইমচর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও জনকল্যাণ সংস্থা’-এর ব্যানারে হাইমচর প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। বিকেল গড়াতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সাধারণ ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নদীপাড়ের কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন। হাইমচর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. কামাল সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক। প্রধান বক্তা মাজহারুল ইসলাম শফিক তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হাইমচর আ
চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনার বুক চিরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’ চক্রের এই আগ্রাসন রুখতে এবার রাজপথে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষ। নদী ভাঙন রোধ এবং ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক বিশাল মানববন্ধন ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ‘হাইমচর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও জনকল্যাণ সংস্থা’-এর ব্যানারে হাইমচর প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
বিকেল গড়াতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে সাধারণ মানুষ প্রেসক্লাব চত্বরে জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর প্রতিবাদী স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সাধারণ ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নদীপাড়ের কয়েক হাজার ভুক্তভোগী মানুষ এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
হাইমচর নদী ভাঙন প্রতিরোধ ও জনকল্যাণ সংস্থার সভাপতি মো. কামাল সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক।
প্রধান বক্তা মাজহারুল ইসলাম শফিক তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘হাইমচর আমাদের অস্তিত্বের ঠিকানা। গুটিকয়েক মানুষের পকেট ভারী করার জন্য এই জনপদকে বালু খেকোদের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ড্রেজার বসিয়ে নির্বিচারে বালু তুলছে, যার ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার নদী রক্ষা বাঁধ আজ হুমকির মুখে। অবিলম্বে ড্রেজার বন্ধ না হলে রাজপথ-রেলপথ অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।’
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান মিয়ার পরিচালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন-উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মাঝি, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জহির মিয়াজী, সাবেক যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম রুবেল ও উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন স্বপনসহ অনেকে।
মানববন্ধন শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে আন্দোলনকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের অভিযান নিয়মিত চলবে। যারা আইন অমান্য করে বালু তুলছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সংহতি সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান (জুয়েল), উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ফয়সাল আহমেদ আখন, সাধারণ সম্পাদক মিলাদ মাঝি, উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির লিটনসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতারা।
দাবি আদায়ের দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সন্ধ্যায় জনতা মাঠ ত্যাগ করলেও এলাকা জুড়ে এখনো বইছে প্রতিবাদের হওয়া। স্থানীয়দের মতে, হাইমচর রক্ষার এই লড়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
What's Your Reaction?