বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পেলেই জরিমানা, মাঠে নামছেন ১০ ম্যাজিস্ট্রেট

রাজধানীর বাসাবাড়ি কিংবা কোনো স্থাপনায় ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলেও নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা। এজন্য এরই মধ্যে ডিএনসিসিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান শুরু হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক। শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। নগরবাসীকেও নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া রাজধানীকে পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, চলার পথে হাতে থাকা টিস্যু, পানির বোতল বা অন্য কোনো ছোটোখাটো বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নাগরিকরা যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেললে রাস্তার পাশে বিচ্ছিন্নভাবে আবর্জনা পড়ে থাকবে না। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি সুন্দর ও পরি

বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর লার্ভা পেলেই জরিমানা, মাঠে নামছেন ১০ ম্যাজিস্ট্রেট

রাজধানীর বাসাবাড়ি কিংবা কোনো স্থাপনায় ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া গেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম খান। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ির সামনে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলেও নেওয়া হবে আইনগত ব্যবস্থা।

এজন্য এরই মধ্যে ডিএনসিসিতে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের মাধ্যমে দ্রুত অভিযান শুরু হবে।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালির উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন ডিএনসিসি প্রশাসক।

শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ওপর নির্ভর করলে হবে না। নগরবাসীকেও নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে। নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া রাজধানীকে পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, চলার পথে হাতে থাকা টিস্যু, পানির বোতল বা অন্য কোনো ছোটোখাটো বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নাগরিকরা যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেললে রাস্তার পাশে বিচ্ছিন্নভাবে আবর্জনা পড়ে থাকবে না। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব।

স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা এবং মশা নিয়ন্ত্রণে স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে প্রতি সপ্তাহে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।

তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশন নয়, প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।

শহিদুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে অনুশাসন জারির পর ডিএনসিসি কাজ শুরু করেছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে উদ্যোগ

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, গত ১৫ জুলাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে ডিএনসিসির বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, সোসাইটির মালিক সমিতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের সচিব এবং পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

ওই সেমিনারের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন করার পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই স্কুলে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও র‍্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলো।

‘নিজের শহর পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সবার’

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন ঢাকা শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মসূচি নয়; এটি নগরবাসীরও দায়িত্ব। প্রত্যেকে যদি নিজের হাতে থাকা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলেন, তাহলে রাস্তায় আবর্জনার পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই নাগরিকদের সহযোগিতায় একটি সুন্দর নগর উপহার দিতে।’

এসময় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ডিএনসিসির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমএমএ/এমআইএইচএস/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow