বাস্তবায়নের দিকে আরও এক ধাপ এগোল নতুন পে-স্কেল

সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আংশিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে সরকার আরও এক ধাপ এগিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাজেটের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরে সরকার দুটি বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, অন্যটি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় করা। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এরপরের অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা তৃতীয় বছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার চিন্তাভাবনা চলছে। মূল্যস্ফীতি, সরকারি আয় এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজ

বাস্তবায়নের দিকে আরও এক ধাপ এগোল নতুন পে-স্কেল

সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল আংশিকভাবে বাস্তবায়নের দিকে সরকার আরও এক ধাপ এগিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাজেটের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে, যা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরে সরকার দুটি বিকল্প পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, অন্যটি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন সমন্বয় করা।

প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এরপরের অর্থবছরে বাকি অংশ সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা তৃতীয় বছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করার চিন্তাভাবনা চলছে।

মূল্যস্ফীতি, সরকারি আয় এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা যাবে মূল বেতন বৃদ্ধিতে। বাকি অর্থ ব্যয় হবে পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য।

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব বাজেট ২৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হলেও উন্নয়ন বাজেট প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে।

বর্তমান অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ ছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছিল ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা।

এর আগে নবম পে কমিশন চলতি বছর থেকেই আংশিকভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল। সে অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও রেখেছিল। তবে রাজস্ব আহরণ কম হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় বাস্তবায়ন এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড থাকবে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে। নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হলে এ খাতে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই সময় প্রথমে মূল বেতন এবং পরের বছর বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow