বাড়তি খরচ এড়িয়ে সিলিন্ডার গ্যাস বাঁচানোর কৌশল
রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের মধ্যে সিলিন্ডার গ্যাসের একটা বড় অংশ থাকে। বর্তমানে গ্যাসের বাজার অস্থির হওয়ায় অনেক পরিবারই প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে পাইপলাইনের বাইরে থাকা পরিবারগুলো সরাসরি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাড়তি দাম হলেও সচেতন ব্যবহার ও কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে মাসিক খরচ কমানো সম্ভব এবং রান্নার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়। আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সিলিন্ডার গ্যাস খরচ কমাতে পারেন- ১. রান্নার আগে পরিকল্পনা করাগ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ শুরু হয় রান্নার আগেই। কী রান্না করবেন, কত সময় লাগবে-এই পরিকল্পনা থাকলে চুলা অকারণে জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন কমে। ২. আঁচ মাঝারি রাখাঅনেকে একসঙ্গে অনেক রান্নার কাজ করতে গিয়ে চুলা বেশি বাড়িয়ে দেন। উচ্চ তাপে রান্না করলে খাবারের পুষ্টি নষ্ট হয় এবং সিলিন্ডার গ্যাসের বড় অংশ অপচয় হয়। তাই রান্নার সময় আঁচ মাঝারি রাখলে গ্যাস খরচ অনেকটা কমে যাবে। ৩. বার্নার পরিষ্কার রাখানিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখলে গ্যাসের দহন সঠিক হয় এবং অপচয় কমে। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে ঘষলে বার্নার দ্রুত পরিষ্কার হয়। ৪. উপকরণ আগে থেকে প্রস্তুত ক
রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের মধ্যে সিলিন্ডার গ্যাসের একটা বড় অংশ থাকে। বর্তমানে গ্যাসের বাজার অস্থির হওয়ায় অনেক পরিবারই প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে চাপের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে পাইপলাইনের বাইরে থাকা পরিবারগুলো সরাসরি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে বাড়তি দাম হলেও সচেতন ব্যবহার ও কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে মাসিক খরচ কমানো সম্ভব এবং রান্নার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখা যায়।
আসুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে সিলিন্ডার গ্যাস খরচ কমাতে পারেন-
১. রান্নার আগে পরিকল্পনা করা
গ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ শুরু হয় রান্নার আগেই। কী রান্না করবেন, কত সময় লাগবে-এই পরিকল্পনা থাকলে চুলা অকারণে জ্বালিয়ে রাখার প্রয়োজন কমে।
২. আঁচ মাঝারি রাখা
অনেকে একসঙ্গে অনেক রান্নার কাজ করতে গিয়ে চুলা বেশি বাড়িয়ে দেন। উচ্চ তাপে রান্না করলে খাবারের পুষ্টি নষ্ট হয় এবং সিলিন্ডার গ্যাসের বড় অংশ অপচয় হয়। তাই রান্নার সময় আঁচ মাঝারি রাখলে গ্যাস খরচ অনেকটা কমে যাবে।
৩. বার্নার পরিষ্কার রাখা
নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার রাখলে গ্যাসের দহন সঠিক হয় এবং অপচয় কমে। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে ন্যাকড়া ভিজিয়ে ঘষলে বার্নার দ্রুত পরিষ্কার হয়।
৪. উপকরণ আগে থেকে প্রস্তুত করা
রান্নার সময় সবকিছু একসঙ্গে করলে সময় নষ্ট হয় এবং গ্যাসও বেশি খরচ হয়। অনেকেই পাত্র গরম করার উদ্দেশ্যে চুলা জ্বালিয়ে রান্নার সামগ্রী প্রস্তুত করতে শুরু করেন, ফলে গ্যাসের অপচয় বেশি হয়। তাই সবজি কাটা, মসলা তৈরি সব চুলা জ্বালানোর আগে প্রস্তুত রাখলে রান্নার সময় কমে এবং গ্যাসও বাঁচে।
৫. প্রেসার কুকার ও সহায়ক যন্ত্র ব্যবহার করা
ডাল, মাংস বা অন্যান্য সময়সাপেক্ষ রান্নায় প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। বিদ্যুৎ বা অন্যান্য জ্বালানি নির্ভর যন্ত্রের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবহারও গ্যাস সাশ্রয়ে সাহায্য করে। বাড়িতে মাইক্রোওয়েভ থাকলে খাবার গরম করতে ব্যবহার করুন।
৬. খোলা পাত্র এড়িয়ে চলা
খোলা পাত্র থেকে তাপ দ্রুত বের হয়। ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ ধরে থাকে, আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং রান্নার সময় কমে।
৭. হাঁড়ি-পাতিলের আকার ও উপাদান ঠিক রাখা
পাত্রের আকার চুলার আগুনের সঙ্গে মিলিয়ে রাখুন। ভারী তলার হাঁড়ি তাপ ধরে রাখে, ফলে কম আগুনে রান্না ভালো হয়। ঢাকনা ব্যবহার করলে ভেতরের তাপ বের হয় না, রান্নার সময়ও কমে।
৮. পাত্রের নিচে তাপ ধরে রাখার পাথর ব্যবহার করা
ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি হিসেবে হাঁড়ির নিচে পাথর বসানো যেতে পারে। পাথরের তাপীয় ভর রান্নার সময় তাপ শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে পাত্রে ছড়িয়ে দেয়। এতে অল্প গ্যাসে বেশি তাপশক্তি পাওয়া যায়।
৯. রান্নার পাত্র আগে শুকিয়ে নিন
চুলায় ভেজা হাঁড়ি বা পাত্র রাখলে রান্নার সময় পানি বাষ্পীভূত হতে অতিরিক্ত গ্যাস লাগে। তাই ব্যবহার করার আগে পাত্রগুলো ভালো করে শুকিয়ে নিলে গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব।
সূত্র: দ্য বেটার ইন্ডিয়া, টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:
কাপ থেকে চা ও কফির দাগ তোলার ঘরোয়া উপায়
পেঁপের বীজ খাচ্ছেন না তো, আসল গোলমরিচ যাছাই করার পদ্ধতি
এসএকেওয়াই/
What's Your Reaction?