বিএনপির দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় ২ খুন

2 months ago 5

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোস্ট্যান্ড দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের বিরোধের জেরে আবদুল কুদ্দুস নামে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে কয়েক ঘণ্টার পরই প্রতিপক্ষের লোকজন মেহেদী হাসান নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

শনিবার (২১ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকায় ও গভীর রাতে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের সামনে দুটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কুদ্দুস (৬০) বন্দর উপজেলার হাফেজীবাগ এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে ও রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক। অপর নিহত মেহেদী হাসান সালেহ নগর এলাকার জলিল মুন্সির ছেলে ও বন্দর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বাবু-মেহেদী গ্রুপের সদস্য ছিলেন। 

আটক তিনজন হলেন- শান্ত (২৫), রবিন (২৮) ও অন্যজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর রেললাইন অটোস্ট্যান্ড ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশার অনুসারী রনি-জাফর গ্রুপের সঙ্গে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর বিএনপির নেতা হান্নান সরকারের অনুসারী বাবু-মেহেদীর বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত শুক্রবার দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়। 

সেই বিরোধের জের ধরে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাবু-মেহেদী গ্রুপের লোকজন রনি-জাফর গ্রুপের সমর্থক আব্দুল কুদ্দুসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন রেললাইন সংলগ্ন এলাকার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। 

এদিকে, রাত ১টার দিকে বন্দর সিরাজুদ্দৌলার ক্লাব মাঠ দিয়ে মেহেদী ও তার লোকজন যাওয়ার পথে তাদেরকে দেখে রনি-জাফর গ্রুপের লোকজন ধাওয়া দিয়ে মেহেদীকে ধরে গণপিটুনি দেয় ও ছুরিকাঘাতে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

নিহত আব্দুল কুদ্দুসের মেয়ের জামাই মিনার হোসেন বলেন, কুদ্দুস মিয়া কবুতরের খাবার কিনতে গেলে সাবেক কাউন্সিলর হান্নানের নির্দেশে বাবু ও তার গ্রুপের লোকজন হামলা কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। অথচ তার সঙ্গে কারও বিরোধ নেই। মূলত কুদ্দুস মিয়ার ছেলে পারভেজ এলাকার কোনো সমস্যা হলে এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করে। এ কারণে পারভেজকে না পেয়ে তার বাবা আব্দুল কুদ্দুসকে পেয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই। 

অপরদিকে নিহত মেহেদী হাসানের মা নাজমা বেগম ছেলে হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, আমার ছেলে কোনো অপরাধ করে নাই। তাকে কেন হত্যা করল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। 

নিহত মেহেদী হাসানের বড় ভাই খালিদ হাসান বলেন, রনি, জাফর, রায়হান গ্রুপ এলাকায় ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। কিছুদিন আগে পাশের এলাকার লোকজনদের সঙ্গে তাদের বিরোধ দেখা দেয়। এ ঘটনায় মেহেদী তাদের বিচার করে দিয়েছে। এরপরও তারা প্রতিপক্ষের লোকজনকে কুপিয়ে আহত করেছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, শনিবার কোন একটি ইস্যুতে এলাকায় ফের ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। এর মধ্যে কে বা কারা কুদ্দুস নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ব্যক্তি ভালো মানুষ ছিল। মূলত তার ছেলে পারভেজ ওই গ্রুপের (রনি-জাফর) সঙ্গে জড়িত। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময়ে আমি আমার ভাইকে বাড়ির বাইরে যেতে দেইনি। আমি তাকে ধমক দিয়ে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করতে বলি। 

খালিদ হাসান বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাই মেহেদী বন্দর বাজার হয়ে সিরাজউদ্দৌলা ক্লাবের সামনে দিয়ে তার নেতা আবুল কাউসার আশার বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় রনি-জাফর গ্রুপের ৫০/৬০ জন লোক তাকে মারধর করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সে মারা যায়। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, হান্নান গ্রুপের লোকজন রনি গ্রুপের একজন সমর্থককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। যার পরবর্তীতে এলাকার উত্তেজনা বিরাজ করে। পরে রনি গ্রুপের লোকজন উত্তেজিত হয়ে হান্নান গ্রুপের একজনকে মারধর করলে পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা করে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, এ সংঘর্ষ স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এতে যে কেউ অপরাধী হোক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Read Entire Article