বিএনপির মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর আপিল! ব্যবস্থা নেবে হাইকমান্ড 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আপিল করেছেন দলেরই এক বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন বরাবর বগুড়া-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ওই আসনেরই বিদ্রোহী প্রার্থী একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির। এতে ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য! এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছে দলের হাইকমান্ডও। সম্প্রতি বেসরকারি এক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের আপিল করেন জাকির। এই আবেদনের কপি এসেছে গণমাধ্যমের কাছে। নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের এমন ঘটনা জন্ম দিয়েছে রহস্যের। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী আপিল করতে পারে কীনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তার থেকে কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাও হয়েছিল। কিন্তু তার বিপরীতে গিয়ে অবস্থান নেন জাকির। এ বিষয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ১ম দফার ঘোষিত ২৩৭ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে আমি ছিলাম। দলের ঘোষণার পর আমি নির্বাচনের মাঠে নামি। কিন্তু শুরু থেকেই বারবার আমাকে অনলাইন-অফলাইনে হেনস্তা করা

বিএনপির মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থীর আপিল! ব্যবস্থা নেবে হাইকমান্ড 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মূল প্রার্থীর বিরুদ্ধেই আপিল করেছেন দলেরই এক বিদ্রোহী প্রার্থী। নির্বাচন কমিশন বরাবর বগুড়া-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়নের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ওই আসনেরই বিদ্রোহী প্রার্থী একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির। এতে ওই এলাকায় দেখা দিয়েছে চাঞ্চল্য! এই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে পড়েছে দলের হাইকমান্ডও।

সম্প্রতি বেসরকারি এক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কমিশনে নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের আপিল করেন জাকির। এই আবেদনের কপি এসেছে গণমাধ্যমের কাছে। নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাতিলের এমন ঘটনা জন্ম দিয়েছে রহস্যের। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী আপিল করতে পারে কীনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। এছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তার থেকে কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাও হয়েছিল। কিন্তু তার বিপরীতে গিয়ে অবস্থান নেন জাকির।

এ বিষয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির ১ম দফার ঘোষিত ২৩৭ জন মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে আমি ছিলাম। দলের ঘোষণার পর আমি নির্বাচনের মাঠে নামি। কিন্তু শুরু থেকেই বারবার আমাকে অনলাইন-অফলাইনে হেনস্তা করা হচ্ছিল। এমনকি আমার ‘ধানের শীষের বিজয় মানে জনতার বিজয়’ এমন বক্তব্যকেও এডিট করে ‘ধানের শীষের বিজয় মানে নৌকার বিজয়’ বানানো হয়েছে। তাছাড়া বিএনপির নেতা হয়ে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করায় আমি ভীষণ বিব্রত হয়েছি। একজন সৎ মানুষ কখনোই এ ধরনের কাজ করতে পারে না। দলের সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থা আছে উল্লেখ করে করে কাজী রফিক দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করতে সবাইকে আহ্বান।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে একেএম এহসানুল তৈয়ব জাকির প্রসঙ্গটি বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং অস্বীকার করেন। আপিলের ডকুমেন্টস গণমাধ্যমের কাছে রয়েছে বলা হলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফোনটি কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়া-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামকে নিয়ে কখনো ভুয়া ফটোকার্ড বানিয়ে প্রচার, কখনো বক্তব্য এডিট করে মানহানি করা হচ্ছিলো বেশ কিছুদিন ধরে। গত ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও গণসংহতি দিবসে বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাজী রফিকুল ইসলাম বলেছিলেন- ‘ধানের শীষের বিজয় মানে-শহীদ জিয়ার বিজয়, ধানের শীষের বিজয় মানে- জনতার বিজয়’। এমন বক্তব্যকে এডিট করে ‘ধানের শীষের বিজয় মানে-নৌকার বিজয়’ বানিয়ে প্রচার করেন। এটা স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও লুফে নেয়। বাঁশের কেল্লাসহ বিভিন্ন গ্রুপেও ছড়িয়ে পড়ে ভিডিওটি। অভিযোগ ওঠে যে, ওই ভিডিও এডিটে যুক্ত ছিলেন জাকিরও। তবে বিএনপির মিডিয়া সেল ওই বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর বিবৃতি দিয়েছে।

এদিকে বগুড়া-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন সম্পর্কে জাকিরের বেয়াই হন। স্থানীয়রা বলছেন, জামায়াত প্রার্থী জাকিরের আত্মীয় হওয়ায় তার জন্য মাঠ ক্লিয়ার করতেই বিএনপি প্রার্থী কাজী রফিকের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন এই জাকির। যা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব তৈরি করছে।

স্থানীয়দের দাবি, বগুড়া বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হওয়ায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য হলো যেকোনো মূল্যে বিএনপিকে দুর্বল করা। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাকিরকে ‘ব্যবহার’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে বগুড়া-১ আসনের সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে—নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত এবং দলীয় কোন্দল তৈরি করা কোনো ব্যক্তি যদি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন, তাহলে তা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে এবং এলাকার মানুষ তা মেনে নেবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে যেনো কোনো প্রকার কাজ করা না হয় সেজন্য দলের নির্দেশনা আছে। তারপরও যদি কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করে তবে তদন্ত পূর্বক কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow