বিক্রি হয়ে যাচ্ছে পিৎজা হাট

জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন পিৎজা হাট (Pizza Hut) বিক্রি করে দিচ্ছে এর মূল প্রতিষ্ঠান ইয়াম ব্র্যান্ডস (Yum! Brands)। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন (২৭০ কোটি) মার্কিন ডলারে পিৎজা হাট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইয়াম ব্র্যান্ডসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়। তারা জানিয়েছে, পিৎজা হাটের বৈশ্বিক ব্যবসা মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম লংরেঞ্জ ক্যাপিটাল (LongRange Capital) চীনের মূল ভূখণ্ড বাদে পিৎজা হাটের বাকি বৈশ্বিক ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, চীনের বাজারের পিৎজা হাট অংশটি ১২০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে ইয়াম চায়না হোল্ডিংস (Yum China Holdings)। আরও পড়ুন ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামে ফিরছে তেল? সব মিলিয়ে পিৎজা হাটের মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়াচ্ছে ২৭০ কোটি ডলার। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করছে কেন্টাকির লুইসভিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ই

বিক্রি হয়ে যাচ্ছে পিৎজা হাট

জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন পিৎজা হাট (Pizza Hut) বিক্রি করে দিচ্ছে এর মূল প্রতিষ্ঠান ইয়াম ব্র্যান্ডস (Yum! Brands)। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক মন্দা কাটিয়ে উঠতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন (২৭০ কোটি) মার্কিন ডলারে পিৎজা হাট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইয়াম ব্র্যান্ডসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়।

তারা জানিয়েছে, পিৎজা হাটের বৈশ্বিক ব্যবসা মূলত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম লংরেঞ্জ ক্যাপিটাল (LongRange Capital) চীনের মূল ভূখণ্ড বাদে পিৎজা হাটের বাকি বৈশ্বিক ব্যবসা কিনে নিচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, চীনের বাজারের পিৎজা হাট অংশটি ১২০ কোটি ডলারে কিনে নিচ্ছে ইয়াম চায়না হোল্ডিংস (Yum China Holdings)।

সব মিলিয়ে পিৎজা হাটের মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়াচ্ছে ২৭০ কোটি ডলার। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই এই বিক্রয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে আশা করছে কেন্টাকির লুইসভিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইয়াম ব্র্যান্ডস।

কেন এই আকস্মিক বিক্রি?

কয়েক বছর ধরেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আউটলেটগুলোর পুরোনো ধাঁচের ব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়িকভাবে ভুগছিল পিৎজা হাট। গত ফেব্রুয়ারি মাসে লোকসানের মুখে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০টি আউটলেট বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল চেইনটি।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইয়াম ব্র্যান্ডসের পোর্টফোলিওতে থাকা অন্য দুই জনপ্রিয় ব্র্যান্ড কেএফসি (KFC) এবং ট্যাকো বেলের (Taco Bell) তুলনায় পিৎজা হাট বেশ পিছিয়ে পড়েছিল। ক্রমাগত কমতে থাকা বিক্রির কারণে গত বছরের নভেম্বর থেকেই ব্র্যান্ডটি নিয়ে কৌশলগত পর্যালোচনা শুরু করে মূল প্রতিষ্ঠান।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবালডেটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিল স্যান্ডার্স চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, পিৎজা হাট দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াম ব্র্যান্ডসের সবচেয়ে দুর্বল সংযোগ ছিল। ব্র্যান্ডটি পুনরুজ্জীবিত করার এবং লোকসানি আউটলেটগুলো বন্ধ করার নানা চেষ্টা সত্ত্বেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। পিৎজা হাটকে আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরাতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ এবং ধৈর্যের প্রয়োজন, তা দেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না ইয়াম ব্র্যান্ডস। তাই লাভজনক ব্র্যান্ডগুলোতে মনোযোগ দিতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইয়াম ব্র্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস টার্নার এক বিবৃতিতে বলেন, লংরেঞ্জ এবং ইয়াম চায়নার অধীনে পিৎজা হাট ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে যাবে। কারণ এই নতুন মালিকদের রেস্তোরাঁ শিল্পে গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

পিৎজা হাটের ইতিহাস

১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের উইচিটাতে দুই ভাই ড্যান ও ফ্রাঙ্ক কার্নি পিৎজা হাটের সূচনা করেন। ১৯৭৭ সালে চেইনটি কিনে নেয় পেপসিকো (PepsiCo)। পরে ১৯৯৭ সালে পেপসিকো তাদের রেস্তোরাঁ বিভাগকে আলাদা করে দেয়, যা আজকের ‘ইয়াম ব্র্যান্ডস’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ পথচলার পর এবার সম্পূর্ণ নতুন মালিকানায় যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই পিৎজা চেইনটি।

এই খবর প্রকাশের পর পুঁজিবাজারে ইয়াম ব্র্যান্ডসের শেয়ারের মূল্যে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow