বিক্রেতা উধাও দেড় ডজন প্রতিষ্ঠানের, সূচকে বড় লাফ

1 day ago 3

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে প্রায় চার ডজন প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে দেড় ডজন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দামে এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে।

দেড় ডজন প্রতিষ্ঠানের বিক্রেতা উধাও হয়ে যাওয়ার দিনে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়ছে। সেইসঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। বেশিরভাগ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতের ওপরও। ফলে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়লেও এদিন ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, এইচ আর টেক্সটাইল, এনার্জ প্যাকপাওয়ার জেনারেশন, বেস্ট হোল্ডিং, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, রিজেন্ট টেক্সটাইল, তুং হাই নিটিং, রেনেটা, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বে-লিজিং, নুরানি ডাইং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স, এপোল ইস্পাত, সিএন টেক্সটাইল, রিং সাইন, ফিনিক্স ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং ফ্যামিলি টেক্সটাইল দাম বাড়ার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি দাপট দেখিয়েছে।

এই ১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম একদিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে। এমনকি লেনদেনের একপর্যায়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার ও ইউনিটের বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে। ফলে দিনের সর্বোচ্চ দামেও কোনো কোনো বিনিয়োগকারী এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট কিনতে পারেননি।

এসব প্রতিষ্ঠানের দাপট দেখানোর দিনে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ২৮১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৬টির। আর ৩১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩১টি ব্যাংকের শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ২টির শেয়ার দাম কমেছে। আর আর্থিক খাতের ১৯টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং ৩টির শেয়ার দাম কমেছে।

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৭টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে পচা ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সবকটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৭১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৬০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে রেনেটা’র শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ১১ লাখ টাকার। ২১ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সোনালী পেপার।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ব্র্যাক ব্যাংক, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক এবং ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৫৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৬টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

এমএএস/এমএএইচ/জিকেএস

Read Entire Article