ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন ইসলামি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। এরইমধ্যে আন্দোলনকারীদের জন্য বার্তা দিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারের নির্দেশে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর দমনমূলক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় রেজা পাহলভি বলেন, আমার প্রিয় স্বদেশবাসী, গত এক সপ্তাহ ধরে আমি আপনাদের আন্দোলন খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি— বিশেষ করে তেহরানের বাজারকেন্দ্রিক কর্মসূচিগুলো। বর্তমান সরকারের ভয়াবহ দমন-পীড়নের মধ্যেও যেভাবে আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ইতিহাস বলে, কোনো সরকার যত শক্তিশালীই হোক না কেন, জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ ও ব্যাপক আন্দোলনে নামে, তখন এক সময় সরকারের সমর্থকরাও আন্দোলনে যোগ দিতে বাধ্য হয় এবং শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
তিনি বলেন, তাই আপনাদের আন্দোলনকে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে হলে একে অবশ্যই সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।
প্রথমবারের মতো সরাসরি কর্মসূচির আহ্বান জানিয়ে পাহলভি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার এবং আগামীকাল শুক্রবার— ৮ ও ৯ জানুয়ারি— ঠিক রাত ৮টায়, আপনারা যেখানেই থাকুন না কেন, রাস্তায় বা নিজ নিজ ঘরে, সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো স্লোগান দিন। এই কর্মসূচির পর আমি আপনাদের জন্য পরবর্তী দিকনির্দেশনা দেব।
ইরানের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশেও বার্তা দেন তিনি। পাহলভি বলেন, আমি সরাসরি ইরানের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বলছি— আপনারা সামরিক পোশাক পরেছেন দেশের জনগণকে রক্ষা করার জন্য। আজ ইরানের সাহসী ও ঐক্যবদ্ধ জনগণ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই রচনা করছে। আমার প্রশ্ন হলো— আপনারা এই ইতিহাসের কোন পাশে দাঁড়াবেন? অপরাধীদের পক্ষে, নাকি জনগণের পক্ষে?
তিনি আরও বলেন, এখন আর প্রশ্ন নয় যে দুর্নীতিগ্রস্ত ও নিপীড়নমূলক ইসলামপন্থি শাসকগোষ্ঠীর পতন হবে কি না। প্রশ্ন কেবল—কবে সেই পতন ঘটবে। তাদের বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই অবশ্যম্ভাবী মুহূর্তে আমি প্রত্যাশা করি, আপনারা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবেন, তাদের পাশে দাঁড়াবেন এবং জনগণের দিকে অস্ত্র তাক করবেন না। যদি আপনারা এই পথ বেছে নেন, তাহলে শুধু নিজেদের কর্তব্যই পালন করবেন না— নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পরিবারকেও সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, তেহরানের বাইরে শহর ও গ্রামাঞ্চলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। অনেক বাজার ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হয়েছে আন্দোলনের সমর্থনে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২,২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার ও পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, সরকারি হস্তক্ষেপের কারণেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দুবাই থেকে ইরানে ফোন করাও সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভের কারণ
গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ অবমূল্যায়ন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক-সামাজিক স্বাধীনতার কড়াকড়ি এই আন্দোলনের প্রধান কারণ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫২ শতাংশ।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের ‘ন্যায্য দাবি’ স্বীকার করলেও অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে তার সীমাবদ্ধতার কথা জানান। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের মূল্য প্রায় ১৪ লাখ রিয়াল।
ইরানের সরকারপন্থি কায়হান পত্রিকা দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীদের শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। তেহরানের কাছে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, লোরদেগানে গুলিতে দুই নিরাপত্তা সদস্য নিহত এবং কেরমানশাহে রেভল্যুশনারি গার্ডের দুই সদস্য নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘চুপ থাকবে না।’ তবে তিনি এই মুহূর্তে রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
من اولین فراخوان خود را امروز با شما در میان میگذارم و از شما دعوت میکنم که این پنجشنبه و جمعه، ۱۸ و ۱۹ دیماه، همزمان سر ساعت ۸ شب، همگی چه در خیابانها یا حتی از منازل خودتان شروع به سردادن شعار کنید. درنتیجه بازخورد این حرکت، من فراخوانهای بعدی را به شما اعلام خواهم کرد. pic.twitter.com/TEDgXoJEbn
— Reza Pahlavi (@PahlaviReza) January 6, 2026