সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেছেন, জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে বিচার বিভাগ অবশ্যই নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ মুক্ত হতে হবে। সংবিধানে উল্লিখিত জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে প্রয়োজন স্বাধীন বিচার বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ও ল’রিপোর্টার্স ফোরাম যৌথভাবে উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। এ কর্মশালায় সহযোগিতা করেছে সুইডিশ অ্যাম্বাসি ও ইউএনডিপি। এ কর্মশালায় মোট ৪৫ জন আইনবিষয়ক সাংবাদিক ও প্রতিনিধি অংশ নেন।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেন, এসময় জনসাধারণের কাছে বিচারিকসেবা দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রস্তাবিত আইনি সংস্কার বিষয়ে রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা সমুন্নত রাখতে প্রস্তাবিত আইনি সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে একযোগে কাজ করছে ইউএনডিপি এবং সুইডেন অ্যাম্বাসি।
বিশেষ অতিথি সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন বলেন, জনসাধারণের কাছে বিচারিকসেবা দেওয়ার জন্য প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রস্তাবিত আইনি সংস্কার বিষয়ে রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ‘ল’ রিপোর্টার্স ফোরামসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিকদের প্রতি সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। জনগণের আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে রিপোর্টিংয়ের কার্যকর দিক নিয়ে আজকের কর্মশালায় ফলপ্রসূ করণকৌশল নির্ধারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করতে আইন প্রতিবেদকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গণমাধ্যমকর্মী ও আইন প্রতিবেদকদের ভূমিকা চলমান আইনি সংস্কার কার্যক্রমে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কর্মশালায় আলোচকরা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা সমুদ্রত রাখতে প্রস্তাবিত আইনি সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধিকল্পে ইউএনডিপি এবং সুইডেন অ্যাম্বাসি একযোগে কাজ করছে বলে জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং সুইডেন দূতাবাসের হেড অব মিশন মারিয়া স্ট্রাইডসম্যান।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মশালা পরিচালনা করেন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক তানজিম তামান্না। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন, সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মারুফ নাওয়াজ, ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং মোবাইল জার্নালিজম বিশেষজ্ঞ ড. কাবিল খান।
এলআরএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাসান জাবেদ ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন ছাড়া ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস আব্দুল কাইয়ুম এবং এনআইএমসির পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) মারুফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এফএইচ/এমএএইচ/এমএস